‘সীতাকুণ্ড–মিরসরাইয়ে পানি সরবরাহ করবে ওয়াসা’

0

বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে। আমাদের এখন টাকা আছে। বিদেশিরাও বড় বড় প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য অপেক্ষায় আছেন। সীতাকুণ্ড-মিরসরাই প্রকল্পটি একটি লাভবান প্রকল্প।

পানি সরবরাহ করতে পারলে আরো অনেক শিল্প-কারখানা এখানে স্থাপিত হবে। চট্টগ্রাম ওয়াসা মোহরাতে আরেকটি প্রজেক্টের মাধ্যমে হালদা নদী থেকে এখানে পানি সরবরাহ করবে।

এ ব্যাপারে অতিসত্বর চট্টগ্রাম ওয়াসা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠান। প্রজেক্টটি বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সম্ভাব্য সব সহযোগিতা করবে।

শুক্রবার (২৮ জুন) ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে চট্টগ্রাম চেম্বার আয়োজিত সীতাকুণ্ড- মিরসরাই শিল্পাঞ্চলে পানি সরবরাহ বিষয়ে মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

চেম্বার সভাপতি মাহাবুবুল আলমের সভাপতিত্বে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, চট্টগ্রাম ওয়াসার বোর্ড চেয়্যারম্যান প্রফেসর ড. ইঞ্জিনিয়ার এসএম নজরুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. জহিরুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ ইবরাহিম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়, বেজা, পিডিবি, ওয়াসা, চেম্বারের পরিচালক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।

মন্ত্রী তাজুল ইসলাম আরো বলেন, চট্টগ্রামের উন্নতি আমাকে উৎসাহিত করে। তাই মন্ত্রীর দায়িত্ব পাবার পর পরই আমি এখানে ছুটে এসেছি। আমি আমার অবস্থান থেকে কাজ করে যাচ্ছি। শুধু আমি একা কাজ করলে হবে না, আপনারা যারা এখানে আছেন, চট্টগ্রামকে নিয়ে যারা স্বপ্ন দেখেন সবাইকে এক হয়ে স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে দল যার যার, উন্নয়ন সবার।

মন্ত্রী বলেন, জাতির ক্ষতি করে এমন কোনো প্রজেক্ট আগামীতে হাতে নেওয়া হবে না কিংবা কোনো ব্যক্তির কার্যসিদ্ধির জন্য সরকার কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে না। আমাদের একটি বন্দর দিয়ে কখনো উন্নত দেশের কাতারে যেতে পারব না। আমাদের আরো বন্দর তৈরি করতে হবে।

সীতাকুণ্ড-মিরসরাই শিল্পাঞ্চলের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই অঞ্চলে এখন অনেক কারখানা পানির অভাবে বন্ধের পথে। এখানে পানি সরবরাহ করতে পারলে আরো অনেক শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার প্রাথমিক আলাপ হয়েছে। উনি এ ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছেন।

চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের উন্নতির জন্য কি করতে হবে তা আপনারা বসে ঠিক করুন। খোলা মনে এগিয়ে আসুন। প্রধানমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে আছেন। পরিকল্পিত চট্টগ্রাম গড়তে সম্ভাব্য যা যা করার তা আমরা করব।

মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক ও প্রতিনিধিরা বিভিন্ন দাবির ব্যাপারে মন্ত্রীর মনযোগ আকর্ষণ করলে তিনি পর্যায়ক্রমে সব বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রদান করেন।

সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, সীতাকুণ্ড-মিরসরাই শিল্পাঞ্চলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সুপেয় পানি সরবরাহ করবে চট্টগ্রাম ওয়াসা। বেজা ওয়াসাকে এই অঞ্চলে পানি পাওয়ার ব্যাপারে স্টাডি করার জন্য অর্থের প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা এখানে এসেছি । সবাইকে নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই।

সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২৪টি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান আছে। এদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা বেশ কষ্টসাধ্য। মনে রাখতে হবে, এখানে রয়ে গেছে আইনের জটিলতা। সবকিছু দেখেশুনেই আমাদের কাজ করতে হয়। তারপরও আমরা নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধার কথা মাথায় রেখেই আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করি।

সভাপতির বক্তব্যে চেম্বার সভাপতি মাহাবুবুল আলম বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বে-টার্মিনাল নির্মাণ, বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, কর্ণফুলী নদীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনসহ নানাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

এগুলো যেন আরো দ্রুত বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া সীতাকুণ্ড-মিরসরাই শিল্পাঞ্চলের পানি সরবরাহ প্রকল্পটি যেন সরকার অগ্রাধিকারভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হয় তার জন্য দাবি জানান চেম্বার প্রেসিডেন্ট।

জয়নিউজ/গিয়াস/বিআর

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...