সংস্কার হচ্ছে আশ্রয়কেন্দ্র, আতঙ্ক কাটছে উপকূলবাসীর

0

১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের পর বাঁশখালী উপকূলে ১২১টি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছিল। জলোচ্ছ্বাস, তুফান, বন্যায় এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ছিল উপকূলবাসীর রক্ষাকবচ।

ইতোমধ্যে ৪ থেকে ৫টি আশ্রয়কেন্দ্র সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে সমুদ্র ও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

আরও ৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্র জরাজীর্ণ হয়ে সংস্কারের অভাবে ধ্বংস হওয়ার পথে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর দরজা, জানালা, স্যানিটারি ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে, ছাদ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে বৃষ্টির পানি, নিচের ফ্লোরে হয়ে রয়েছে বিশাল বিশাল গর্ত। কোথাও নেই রঙের প্রলেপ।

আশ্রয় কেন্দ্রগুলো সংস্কারের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে প্রতিবেদন দাখিল করা হয় ২০১৮ সালে। চলতি বছরের জুনে ৯টি জরাজীর্ণ আশ্রয়কেন্দ্র সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ কোটি ১০ লাখ ৪ হাজার ৬৫১ টাকা। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় এ জরাজীর্ণ আশ্রয় কেন্দ্রগুলো হয়ে উঠছে ঝকঝকে নতুন।

সূত্র জানায়, সংস্কারকাজে উত্তর সরল রেড ক্রিসেন্ট আশ্রয়কেন্দ্রে ১৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা, তোতকখালী রেড ক্রিসেন্ট আশ্রয়কেন্দ্রে ১৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা, খুদুকখালী রেড ক্রিসেন্ট আশ্রয়কেন্দ্রে ১৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, বাহারছড়া রত্নপুর রেড ক্রিসেন্ট আশ্রয়কেন্দ্রে ১৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, উত্তর বাহারছড়া রেড ক্রিসেন্ট আশ্রয়কেন্দ্রে ১৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, বাংলাদেশ ইউনাইটেড হাইস্কুল ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে ১৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা, প্রেমাশিয়া হীড আশ্রয়কেন্দ্রে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, ছনুয়া নয়াপাড়া প্রশিকা আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও মধ্যম বরঘোনা গণ্ডামারা মাতব্বরপাড়া ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জরাজীর্ণ আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে সংস্কারকাজ হওয়ায় উপকূলবাসী খুশি। কারণ আবহাওয়া বার্তায় বিপদ সংকেত থাকলে তাদের মধ্যে আতঙ্কের সীমা থাকে না।

ছনুয়ার তোতকখালী এলাকার বাসিন্দা আলী নবী ও মনোয়ারা বেগম বলেন, আশ্রয়কেন্দ্র নষ্ট হওয়ায় আমরা আতঙ্কে ছিলাম। সংস্কারকাজ হওয়াতে আমরা খুশি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম মিয়াজী বলেন, বরাদ্দ পাওয়া ৯টি আশ্রয়কেন্দ্র সংস্কার হওয়াতে একেবারে ঝকঝকে নতুন ভবনের রূপ নিচ্ছে। কোনো কোনো ভবনে বরাদ্দের অতিরিক্ত কাজও করতে হচ্ছে।

বাঁশখালীর সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী জয়নিউজকে বলেন, ১৯৯১ সালে বাঁশখালীতে লাখ লাখ মানুষের লাশ দেখেছি। জলোচ্ছ্বাস, ঝড়-বৃষ্টি-তুফানে আশ্রয় কেন্দ্রগুলো এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা। নিজে তদবির করে বরাদ্দ এনেছি। এখানে কেউ দুর্নীতি করলে তাকে রেহাই দেওয়া হবে না।

জয়নিউজ/পিডি/আরসি

সরাসরি আপনার ডিভাইসে নিউজ আপডেট পান, এখনই সাবস্ক্রাইব করুন।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...