বন্দরে আসছে আরো ৪০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি

0

একুশ শতকের বন্দর গড়ে তুলতে চলতি বছর আরো ৪০০ কোটি টাকার নতুন যন্ত্রপাতি সংযুক্ত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরে। এর ফলে আগামীতে সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে বন্দর ব্যবহারকারীদের।

বন্দর প্রকৌশল বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে চীন থেকে ৪০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন ৪টি কি গ্যান্ট্রি ক্রেন চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছাবে। গত বছরও একই ধরনের যন্ত্রপাতি আমদানি হয়েছিল। এ নিয়ে বন্দরে মোট কি গ্যান্ট্রি ক্রেনের সংখ্যা দাঁড়াল ১৪টিতে ।

এছাড়া জার্মান, ফিনল্যান্ড ও পোল্যান্ড থেকে আসছে ৯টি স্ট্রাডেল ক্যারিয়ার। ৪০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন এসব ক্যারিয়ার আনার ব্যাপারে টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এগুলো বন্দরে এসে পৌঁছাবে। এছাড়াও ৪৫ টন ক্ষমতার ৯টি রিচ স্ট্রেকারও একই সময়ে জার্মানি থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছাবে।

জাপান থেকে ১০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন ৮টি ক্রেন চলতি বছরের শেষ নাগাদ আসছে। আরো আসবে ৪৫ টন ক্ষমতার ২টি মোবাইল হারবার ক্রেন ও ৫ টন ক্ষমতার ১০টি ফর্ক লিফট।

এছাড়া পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের জন্য আরজিসি, আরটিজিসহ ২৯ ধরনের ভারি যন্ত্রপাতি আসছে। ইতোমধ্যে আরো ১০০টি বিভিন্ন যন্ত্রপাতির জন্য সরকারের কাছে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে সহসা অনুমোদন পাওয়া যাবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আগামীতে আরো যন্ত্রপাতি কেনা হবে জানিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. আমিনুল ইসলাম জয়নিউজকে বলেন, আমাদের যন্ত্রপাতি ক্রয়ে আরো বাজেট আছে। সরকারের কাছে ডিপিপি পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলেই ক্রয় সংক্রান্ত পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে চবক ও নৌ মন্ত্রণালয়। গতবছর ১ হাজার কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছিল। আগামীতে নতুন যন্ত্রপাতিগুলো বন্দরে সংযুক্ত হলে জাহাজের গড় অবস্থানকাল বর্তমানের ৩ দিন থেকে ১ দিনে নেমে আসবে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ জয়নিউজকে বলেন, বন্দরের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ১৫ শতাংশ হারে। এটি ধরে রাখতে হলে অবশ্যই টেকসই ও উন্নতমানের যন্ত্রপাতি বন্দরে সংযুক্ত করতে হবে। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের যন্ত্রপাতির সংখ্যা বাড়ানো।

তিনি আরো বলেন, অনেক আগেই বন্দরের এই উদ্যোগ নেওয়া দরকার ছিল। তবে যন্ত্রপাতি সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি অবশ্যই স্বচ্ছ হতে হবে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, অতীতে যন্ত্রপাতি ক্রয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের অনীহা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বিরোধিতায় সঠিক সময়ে যন্ত্রপাতি কেনা সম্ভব হয়নি। সাবেক চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম. খালেদ ইকবাল দায়িত্ব নেওয়ার পর বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে যন্ত্রপাতি ক্রয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

জয়নিউজ/আরসি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...