মা-বাবার নাম দিয়ে প্রতারণা!

0

নিজেকে সবখানে ব্যবসায়ী পরিচয় দেয় সেলিম আজাদ (৪০)। কিন্তু আসলে ধূর্ত এক প্রতারক। অভিনব উপায়ে ব্যাংকের টাকা হাতিয়ে দেন তিনি। আর এজন্য হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন নিজের বাবা-মা’র নাম কে!

শুধুমাত্র বাবা-মা’র নাম পরিবর্তন করেই আলাদা তিন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। পরে খেলাপি হয়ে মামলার আসামি হলেও বাবা-মা’র নাম বিভ্রাটের সুযোগে প্রতিবারই পার পেয়ে যান তিনি। তবে কোতোয়ালি থানা পুলিশের বুদ্ধিমত্তায় হার মেনেছে সেলিমের ধূর্ততা।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) ভোরে চট্টগ্রামের পটিয়ার সেনপাড়া থেকে সেলিম আজাদকে (৪১) গ্রেপ্তার করেছে নগরের কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার সেলিম আজাদ কোতোয়ালির টেরিবাজারের হাজী দুধু মিয়া মার্কেটের মেসার্স ফ্যাশন মেইকার নামের একটি দোকানের মালিক।

কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন জয়নিউজকে বলেন, ওয়ান ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকা ও পূবালী ব্যাংক থেকে ৮ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন সেলিম আজাদ। এর মধ্যে পূবালী ব্যাংকের ঋণ নেওয়ার সময় তিনি ভুয়া পরিচয় দিয়েছেন।

তিনি বলেন, সেলিমের বাবার প্রকৃত নাম মৃত মো. ইসছাক ও মায়ের নাম ফেরদৌস বেগম। কিন্তু পূবালী ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সময় সেলিম ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে তার বাবার নাম হাজী নুরুল আবছার ও মায়ের নাম আয়শা বেগম লেখেন। জালিয়াতি করে আয়কর ও ট্রেড লাইসেন্সও দিয়েছেন সেলিম।

ওসি মহসীন বলেন, সেলিমের বিরুদ্ধে ৫টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। এর মধ্যে তিনটি ব্যাংকের মামলা। ভুয়া পরিচয়ের কারণে তাকে গ্রেপ্তারে জটিলতায় পড়েছিলাম আমরা। কারণ তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে সে পরোয়ানা দেখতে চায়।

ভুয়া পরিচয়ে ঋণ নেওয়ার মামলায় পরোয়ানা দেখালে সে গ্রেপ্তার এড়াতে আসল পরিচয়পত্র বের করে দেয়। আবার আসল পরিচয়ে ঋণ নেওয়ার মামলায় পুলিশের আরেকটি দল তাকে ধরতে গেলে সে ভুয়া পরিচয়পত্রের কাগজপত্র বের করে দেয়।

এতে অভিযানে যাওয়া পুলিশ সদস্যরা বিভ্রান্তিতে পড়ে যেতেন। তবে সেলিম আজাদের শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে আমরা সক্ষম হয়েছি।

সেলিমকে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান কোতোয়ালির ওসি মোহাম্মদ মহসীন।

জয়নিউজ/আরডি/বিআর
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...