মহাসড়কে খানা-খন্দ: ভারি বর্ষণে বড় ভোগান্তি

0

টানা চারদিনের ভারি বর্ষণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে ছোট-বড় হাজারো খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক যানবাহন গর্তে পড়ে গিয়ে বিকল হওয়ার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এর ফলে যাত্রীদেরকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এছাড়াও মহাসড়কের অর্ধশতাধিকস্থানে পিচ উঠে গেছে। অনেকস্থানে দেবে গেছে সড়ক।

ভারি যানবাহন চলাচলের কারণে মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনের তুলনায় ঢাকামুখী লেনে খানাখন্দের সংখ্যা বেশি। তবে সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বৃষ্টি কিছুটা কমে আসলে চট্টগ্রাম নগর থেকে বারৈয়ারহাট পর্যন্ত সৃষ্ট খানা-খন্দ বুধবার থেকে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে (৩৮ কিলোমিটার) বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এরমধ্যে ফৌজদারহাট, বানুরবাজার, ভাটিয়ারী, মাদামবিবিরহাট, শাহ আমিনুল্লাহ পেট্রোল পাম্প, কুমিরা বাঁশবাড়িয়া, বাড়বকুণ্ড, শুকলালহাট, ফকিরহাট, ইকোপার্ক গেইটসহ অন্তত অর্ধশতস্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সৃষ্ট হওয়া গর্তের পরিধিও।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বিকেলে মহাসড়কের সীতাকুণ্ড বড় দারোগারহাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, টানা বর্ষণে সৃষ্ট হওয়া গর্তগুলো সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মীরা ইট ও বালি দিয়ে ভরাট করছেন। তবে বৃষ্টির কারণে ইট-বালি সরে যাচ্ছে। আবার সেই গর্তগুলোতে পানি জমে যাচ্ছে। চলাচলকারী গাড়িগুলো শিকার হচ্ছে দুর্ঘটনার।

এসময় সেখানে উপস্থিত ইজারাদারের দু’জন কর্মী জয়নিউজকে বলেন, সড়কে খানা–খন্দের কারণে বড়দারোগারহাট ওজন স্কেলে অনেক গাড়ি ঢুকতে চায় না। ফলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বারৈয়ারঢালা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আকবর হোসেন জয়নিউজকে বলেন, বৃষ্টির কারণে সড়কে অনেক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আর এই গর্তগুলোতে গাড়ির চাকা পড়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ভোগান্তিতে পড়ছে দূরপাল্লার যাত্রীরা।

সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা জাহেদ হোসেন বাবুল জয়নিউজকে বলেন, সলিমপুর থেকে ভাটিয়ারী পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার সড়কে দুই শতাধিক ছোট-বড় খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে শত শত গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। ওই এলাকায় কয়েকটি দুর্ঘটনার কারণে সোমবার বিকেলে ও মঙ্গলবার সকালে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওই সময়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে দূরপাল্লার যাত্রীদের।

ঢাকামুখী একটি কাভার্ডভ্যানের চালক আবদুল হাদি জয়নিউজকে জানান, সোমবার রাতে তার কাভার্ডভ্যানটি গর্তের মধ্যে পড়লে চাকা পাংচার হয়ে যায়। পরে হাইওয়ে পুলিশের একটি টিম গাড়িটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। কিন্তু গাড়িটি আনতে পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ জয়নিউজকে জানান, তিনি চট্টগ্রাম নগর থেকে বারৈয়ারহাট পর্যন্ত ঘুরে দেখেছেন। সীতাকুণ্ড অংশে বেশ কিছুস্থানে গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি কিছুটা কমে আসলে বুধবার থেকে সংস্কার কাজ শুরু করবেন তারা।

জয়নিউজ/এমজেএইচ
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...