অবৈধ স্থাপনায় বৈধ বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ!

0

পাহাড়ের নিচে অবৈধভাবে বসবাস করছিল তারা। পাহাড়ধসের শঙ্কায় তাদের অবৈধ এ স্থাপনা গুড়িয়ে দিচ্ছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তবে বিস্ময়ের ব্যাপার হলো- স্থাপনা অবৈধ হলে এখানে রয়েছে বৈধ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ!

নগরের ১৭টি পাহাড়ে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে ৮৩৫টি পরিবার বসবাস করছে- এ তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ জুনের মধ্যে তাদের উচ্ছেদ করতে নির্দেশনা দেয় জেলা প্রশাসন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের অভিযানে উচ্ছেদ করা হচ্ছে এসব অবৈধ স্থাপনা। অভিযানে এসব অবৈধ স্থাপনা ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। বিছিন্ন করা হয় বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ। এ উচ্ছেদ অভিযানে সহায়তা করেন বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে অবৈধ স্থাপনায় কীভাবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ হলো এর সঠিক কোনো ব্যাখা দিতে পারেননি তাঁরা।

টাংকির পাহাড়ের পাদদেশে অবৈধ বসতঘরের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণ গ্রাহকের মতো তারা প্রতি মাসে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল দিয়ে যাচ্ছেন। তবে স্থাপনার মালিক কীভাবে এই সংযোগ দিয়েছেন তা তারা জানেন না বলে উল্লেখ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভাড়াটিয়া জয়নিউজকে বলেন, আমরা প্রতি মাসে গ্যাস বিল ও বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছি । আমাদের মিটার আছে, লাইন আছে, সব আছে। এখন আমাদের অবৈধ বলে উচ্ছেদ করে দিচ্ছে। কিন্তু অবৈধভাবে যারা এসব লাইন দিচ্ছে বা নিচ্ছে তাদের কিছু হবে না। সব টাকার খেলা এই দুনিয়াতে।

সরেজমিন দেখা গেছে, মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে নগরের আমিন জুট মিল সংলগ্ন টাংকির পাহাড় এলাকায় বাস করছে প্রায় অর্ধশত পরিবার। এখানে বসবাস করা বেশিরভাগ পরিবার ভাড়াটিয়া। গ্যাস, বিদুৎ ও পানির সুবিধাসহ মাসিক ৫ থেকে ৮ হাজার ভাড়ার বিনিময়ে পাহাড়ের পাদদেশে তৈরি করা অবৈধ সেমিপাকা ঘরে পরিবার নিয়ে তারা বসবাস করছেন। এদের বেশিরভাগ নিম্ন আয়ের শ্রমজীবি মানুষ। স্বল্প ভাড়ায় গ্যাস, বিদুৎ ও পানির সুবিধা পাওয়ায় ঝুঁকি থাকার পরও তারা অবৈধ এসব স্থাপনায় বসবাস করছেন।

অবৈধ স্থাপনায় কীভাবে বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলো- প্রশ্ন করা হলে বিদ্যুৎ বিভাগের একাধিক কর্মকতা বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে অভিযানে থাকা বিদ্যুৎ বিভাগের কয়েকজন কর্মচারী জানান, ম্যাজিস্ট্রেট অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করবেন, এ কারণে আমরা এসেছি বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করতে। অবৈধ এসব স্থাপনা থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করে আমরা মিটার খুলে নিচ্ছি। কীভাবে এ সংযোগ দেওয়া হয়েছে তা কর্মকর্তারা জানেন।

এদিকে চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমশিনার (ভূমি) ফোরকান এলাহী অনুপম জয়নিউজকে বলেন, পাহাডের পাদদেশে থাকা অবৈধ স্থাপনায় বসবাসরতদের আমরা উচ্ছেদ করছি। এসব স্থাপনায় থাকা বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে স্থাপনাগুলোও। অবৈধ এসব স্থাপনায় কীভাবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ এসেছে তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই বলতে পারবেন।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী (দক্ষিণ) প্রবীর কুমার সেন জয়নিউজকে বলেন, অবৈধ স্থাপনায় বিদ্যুৎ লাইন বা মিটার যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অবশ্যই ভুয়া কোনো কাগজ দেখিয়ে লাইন নিয়েছে। কেননা কোনো কাগজ ছাড়া মিটার পাওয়ার কথা না। ওই সময় আমি ছিলাম না। তাই নির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না।

তিনি আরো বলেন, এসব অবৈধ স্থাপনায় বিদ্যুৎ লাইন বিছিন্ন করে মিটার তুলে নিয়ে আসতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিগগির এসব অবৈধ স্থাপনার সব লাইন বিছিন্ন করে দেওয়া হবে।

জয়নিউজ/পিডি/বিআর

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...