‘ফিল্মি’ স্টাইলে অপহরণ, ২৪ ঘণ্টায় চৌদ্দ শিকে!

0

মঙ্গলবার সন্ধ্যা। রাজপথে ছিল অফিসফেরত মানুষের ভিড়। নগরের জিইসি মোড়ে জামান হোটেলের পাশে বন্ধুদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন জিয়াউল হক নয়ন (২৩)।

হঠাৎ করেই তার পাশে এসে দাঁড়ান তিন যুবক। তাদের মধ্যে একজন তার মুখের সামনে স্প্রে করেন। কিছু সময়ের মধ্যেই জ্ঞান হারান নয়ন।

সময় পার হয়। রাত হয় গভীর। জ্ঞান ফেরে নয়নের। চোখ খুলে দেখেন তিনি ছোট একটি কক্ষে বন্দি।

কিছু সময় পর সামনে আসেন অপরাধীরা। নয়নকে শক্ত করে বাঁধা হয়। চলে মারধর।

কিন্তু কারণটা কী? এবার নিজেদের চাওয়ার কথা বলে অপরাধীরা। তাদের চাই নগদ পাঁচ লাখ টাকা! নয়নকে বলা হয় এই মুক্তিপণের টাকা আনতে সে যেন তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

কলেজছাত্র নয়ন নিজের অপরাগতার কথা জানান। তিনি কোনোভাবেই মানতে না চাইলে অপহরণকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।

তাতেও টলানো যায়নি নয়নকে। এবার শুরু হয় ব্ল্যাকমেইল। বলা হয় অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে!

সম্মান হারানোর শংকা ভীত করে নয়নকে। বিকাশের মাধ্যমে কয়েকজন বন্ধুর কাছ থেকে ২৫ হাজার ও ভাইয়ের কাছ থেকে ১৫ হাজার, মোট ৪০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে সে তুলে দেয় অপরাধীদের কাছে।

কিন্তু দুর্বৃত্তদের লোভ তাতে কমলেতো! তারা আরো টাকা দাবি করে। এবার আর বসে থাকেননি নয়নের ভাই। অভিযোগ করেন খুলশী থানায়।

মাঠে নামে খুলশী থানা পুলিশ। নয়নের মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করা হয়। মোবাইলটির অবস্থান তখন আকবরশাহ থানার বিশ্বকলোনীর এল ব্লক এলাকায়।

সন্ধান মিলেছে, এবার অপরাধীকে চৌদ্দ শিকে ঢোকানোর পালা। বুধবার (১০ জুলাই) আকবরশাহ এলাকায় অভিযানে যায় পুলিশ। সেখানে এল ব্লকের একটি বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় নয়নকে।

তবে শুধু নয়নই নয়। ঘটনায় জড়িত দুই অপহরণকারী আবিদ ওয়াসিফ প্রকাশ এ্যানি ও মো. নুর হোসেন প্রকাশ নুরুকেও এসময় গ্রেপ্তার করা হয়। তবে পালিয়ে গেছেন অপহরণকারী দলের অন্য সদস্যরা।

গ্রেপ্তারকৃত এ্যানি বাঁশখালীর শেখেরখীল ইউনিয়নের একরামুল কাদেরের ছেলে এবং নুরু নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ এলাকার আজিজুল হকের ছেলে।

অন্যদিকে অপহৃত নয়ন বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ রায়ছটা এলাকার সামছুল আলমের ছেলে। তিনি সরকারি হাজি মুহাম্মদ মহসিন কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রণব চৌধুরী জয়নিউজকে বলেন, নয়ন নামে একজন কলেজছাত্রকে অপহরণ করে বিকাশের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে অপহরণকারীরা। কিন্তু এরপরও তাকে মুক্তি না দিয়ে আরো টাকা দাবি করলে তার ভাই আমাদের বিষয়টা জানায়।

‘আমরা নয়নের মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করে আকবরশাহ থানার বিশ্বকলোনী থেকে তাকে উদ্ধার করি। এসময় দুজন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি আসামিদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে’, যোগ করেন তিনি।

জয়নিউজ/এমজেএইচ
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...