তৃষ্ণায় বৃষ্টির পানি, সঙ্গী মাছের কামড়, বাঁশ ধরে ৫ দিন ভেসে ছিলেন কানু!

0

জাহাজ থেকে নামলেন রবীন্দ্রনাথ দাসকানু ক্যামেরার ফ্ল্যাশের আলোয় তার চেহারায় ঠিকরে পড়ছিল আনন্দের ঝিলিক। তবে বঙ্গোপসাগরে উত্তাল ঢেউ জয় করে বেঁচে ফেরার আনন্দের সঙ্গে দুঃখও আছে তার। নিজে উদ্ধার হওয়ার মাত্র ঘণ্টা তিনেক আগে এক ভয়ংকর ঢেউয়ে হারিয়েছেন ভাইপোকে। যাকে তিনি আগলে রেখেছিলেন এ কয়দিন।

শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকাল ৪টায় পতেঙ্গার বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি জেটিতে বঙ্গোপসাগর থেকে উদ্ধার ভারতীয় জেলে কানু সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন।

তাকে জাহাজ থেকে নিয়ে আসেন কেএসআরএম গ্রুপের মালিকানাধীন এমভি জাওয়াদের ক্যাপ্টেন এসএম নাসির উদ্দিন ও মাস্টার পুলক কুমার ভাস্কর।

পরে কানু বর্ণনা করেন তার ‘সার্ভাইভালের’ ঘটনা। তিনি বলেন, ‘১৫ জন জেলে নিয়ে শনিবার রাতে উল্টে যায় আমাদের মাছ ধরার নৌকাটি। আমি ছাড়া সবাই লাইফজ্যাকেট পরেছিল। উত্তাল ঢেউয়ে কিছুক্ষণ পর এক একজন এক একদিকে হারিয়ে যায়। আমি আগলে রাখি ২০ বছরের ভাইপোকে। তাকে কাঁধে রেখে একটা বাঁশ ধরে ভাসছিলাম। বৃষ্টির পানি খেয়ে বেঁচেছিলাম। আমার সারা গায়ে কামড়াচ্ছিল মাছ। দিন-রাত চোখের পাতা এক করা হয়নি।’

এ পর্যায়ে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন কানু। উদ্ধার হওয়ার মাত্র ঘণ্টা তিনেক আগে বড় একটি ঢেউ আসলে আর আগলে রাখতে পারেননি ভাইপোকে। তার অন্য সঙ্গীদের খুঁজে পেতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ জানান তিনি।

নিশ্চিত মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা কানু ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছেন যারা তাকে বাঁচিয়েছে তাদের জন্য। বার বার কৃতজ্ঞতা জানান এমভি জাওয়াদ, কেএসআরএম, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের যে ভালোবাসা আমি পেয়েছি তাতে আমি মুগ্ধ। বাংলাদেশের জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা বেড়ে গিয়েছে।’

এখন তিনি দ্রুত নিজ দেশে ফিরতে চান। বাবা, মা, ছেলে আর মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে চান।

এর আগে বুধবার (১০ জুলাই) বেলা পৌনে একটার দিকে কুতুবদিয়া থেকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কেএসআরএম গ্রুপের মালিকানাধীন বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি জাওয়াদ ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের রূদ্ধশ্বাস অভিযানের পর কানুকে উদ্ধার করে। বাইরে থেকে পুরো ঘটনার তত্ত্বাবধানে ছিলেন কেএসকেএসআরএমের সিইও প্রকৌশলী মেহেরুল করিম।

পরে কানুকে কোস্টগার্ড কার্যালয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে পতেঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নৌবাণিজ্য দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তা ড. সাজিদ হোসেন, মেরিন সুপার ওসমান গনি, ডিপিএ-সিএসএ ফয়েজ আহমদ জুকব, ডা. মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্র্যান্ড ম্যানেজার মনিরুজ্জামান রিয়াদ, মিজানুল ইসলাম।

জয়নিউজ/এমজেএইচ
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...