রিফাত হত্যার আগের দিনও নয়নের বাসায় মিন্নি!

0

বরগুনায় রিফাত হত্যাকাণ্ডের আগের দিনও নয়ন বন্ডের বাসায় গিয়েছিলেন নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। গণমাধ্যমকে এ কথা জানিয়েছেন রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি এবং পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত নয়ন বন্ডের মা শাহিদা বেগম।

তিনি বলেন, রিফাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ২৬ জুন (বুধবার)। এর আগের দিন মঙ্গলবারও মিন্নি আমাদের বাসায় এসে নয়নের সঙ্গে দেখা করে।

আমার ছেলে তো মারাই গেছে। আমার তো আর মিথ্যা বলার কিছু নেই। মিন্নি যে মঙ্গলবারও আমাদের বাসায় গিয়েছিল তা আমার প্রতিবেশীরাও দেখেছে, বলেন নয়নের বন্ডের মা।

তিনি আরো বলেন, শুধু হত্যাকাণ্ডের আগের দিন মঙ্গলবারই নয়; রিফাতের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পরও মিন্নি নিয়মিত আমাদের বাসায় এসে নয়নের সঙ্গে দেখা করত। মোটরসাইকেলে মিন্নিকে রিফাত কলেজে নামিয়ে দিয়ে চলে যেত। এরপর মিন্নি আমাদের বাসায় চলে আসত। আবার কলেজের ক্লাস শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে মিন্নি আমাদের বাসা থেকে বের হয়ে কলেজে যেত।

রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিন্নি জড়িত দাবি করে নয়নের মা শাহিদা বেগম বলেন, রিফাতের সঙ্গে মিন্নির বিয়ের খবর পাওয়ার পর আমি আমার ছেলেকে অনেক নিষেধ করেছি, যোগাযোগ না রাখতে। কিন্তু আমার ছেলে কখনও আমার কথা শুনত না। ওর মনে যা চাইতো ও তা-ই করত। নয়ন যদি আমার কথা শুনত তাহলে এমন নির্মম ঘটনা ঘটত না।

এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদি হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পাঁচ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

হত্যাকাণ্ডের ছয় নম্বর আসামি আল কাইয়ুম রাব্বি আকনকে সাত দিন ও জড়িত সন্দেহে আটক কামরুল হাসান সাইমুনকে ফের তিন দিনের রিমাণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর আগে সাইমুনকে ১ম দফায় ৫ দিন, ২য় দফায় ৫ দিন, ৩য় দফায় ৩ দিন ও ৪র্থ দফায় ৩ দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়। এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত সাত জন ও জড়িত সন্দেহে সাত জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার একটি ভিডিও ওইদিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়ে যায়।

জয়নিউজ/এসআই
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...