এরশাদ আর নেই

0

সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এইচএম এরশাদ (৯০) আর নেই। ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার (১৪ জুলাই) সকাল পৌনে ৮টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না… রাজিউন)।

জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এরশাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সাবেক সেনাশাসক এরশাদ রক্তে সংক্রমণসহ লিভার জটিলতায় ভুগছিলেন। এছাড়া তাঁর অস্থিমজ্জা পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন উৎপাদন করতে পারছিল না।

গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে তিনি বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে আসেন। সে সময় এ নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়ালেও পরে জানা যায় তাঁর অবস্থা সঙ্গীন। এরপর জাতীয় পার্টি তাঁর চেয়ারম্যানকে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন করে। আর এরইমধ্যে এরশাদ দলের উত্তরসূরী হিসেবে তাঁর ছোট ভাই জি এম কাদেরকে নির্বাচন করেন।

গত ২২ জুন গুরুতর অসুস্থ হলে এরশাদকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। ৪ জুলাই থেকে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। এরপর থেকে তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণেই ছিলেন। লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার ১১ দিন পর না ফেরার দেশে চলে গেলেন রংপুর-৩ (সদর) আসন থেকে বারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এরশাদ।

১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ভারতের কোচবিহার জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এরশাদ। পরে তাঁর পরিবার রংপুরে চলে আসে। রংপুরেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করেন তিনি।

১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে ১৯৫২ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬৯ সালে তিনি লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি পেয়ে ১৯৭১-৭২ সালে সপ্তম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তান থেকে প্রত্যাবর্তন করেন।

১৯৭৩ সালে এরশাদকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল নিয়োগ করা হয়। ১৯৭৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ওই বছরই আগস্ট মাসে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে তাঁকে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান নিয়োগ করা হয়।

১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর মাসে এরশাদকে সেনাবাহিনী প্রধান পদে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ১৯৭৯ সালে তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে সেনাপ্রধান এরশাদ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসেন। জিয়াউর রহমানের পথ ধরে ক্ষমতায় থেকেই গঠন করেন রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি।

১৯৮৩ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক (সিএমএলএ) হিসেবে দেশ শাসন করেন। এরপর তিনি রাষ্ট্রপতি আহসানউদ্দিন চৌধুরীকে অপসারণ করে ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১৯৮৬ সালে তিনি জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন এবং এ দলের মনোনয়ন নিয়ে ১৯৮৬ সালে পাঁচ বছরের জন্য দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণঅভ্যুত্থানের কারণে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।

জয়নিউজ/আরসি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...