সরকারি স্কুল: বায়োমেট্রিকেও নিশ্চিত করা যায়নি শিক্ষক উপস্থিতি

0

শিক্ষকদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরার নিয়ম হয়েছে অনেকদিন। তবে এখনো এর দেখা মেলেনি নগরের অনেক বিদ্যালয়ে।

বায়োমেট্রিক হাজিরায় আঙুলের ছাপের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়ে থাকে। এর মনিটরিংয়ে থাকেন প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা।

এদিকে শিক্ষক উপস্থিতি না থাকার কারণে বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্ন ঘটছে দিনের পর দিন। যার কারণে প্রশ্ন উঠেছে প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে। এ বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিয়েই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন বসানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

অনেকসময় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। অনেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, তারা বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই ক্লাস না নিয়ে চলে যান। আবার অনেকে স্কুল দপ্তরির মাধ্যমে হাজিরা খাতা বাড়িতে এনে সই করেন। অনেকে দিনের পর দিন বিদ্যালয়ে না গিয়ে ভাড়া করা শিক্ষকদের মাধ্যমে প্রক্সি দিয়ে ক্লাস করিয়ে থাকেন। এসব অনিয়ম বন্ধ করতেই মূলত বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

তবে বেশিরভাগ প্রাথমিক স্কুলগুলোত এখনো বসানো হয়নি বায়োমেট্রিক হাজিরা। শিক্ষকদের সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক থাকলেও অনেক শিক্ষক যথাসময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হননা। যার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শিক্ষর্থীরা, এমন অভিযোগ অভিবাকবদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, কাজীর দেউড়ি সরকারি প্রাথমিক সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, নুর আহম্মদ প্রাইমারি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সুলতান আহম্মদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, আগ্রাবাদ সরকারি কলোনি- এসব প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এখনো চালু হয়নি বায়োমেট্রিক হাজিরা।

শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ঠিকমতো ক্লাস না নেওয়ার অভিযোগ তুলে কাজীর দেউড়ি সরকারি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জয়নিউজকে বলেন, অনেকসময় ক্লাস হয় না। ক্লাস ক্যাপটেন (সিআর) যখন শিক্ষককে ডাকতে যায়, তখন শিক্ষক রুমে থাকে না।

এ ব্যাপারে কাজীর দেউড়ি সরকারি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা প্রিয়াঙ্কা তালুকদার জয়নিউজকে বলেন, বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর কথা থাকলেও এখনো হয়ে উঠেনি। আমরা চেষ্টা করছি যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব বায়োমেট্রিক হাজিরা চালু করতে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাসরিন সুলতানা জয়নিউজকে বলেন, এখনো অনেক স্কুলে বায়োমেট্রিক হাজিরা পদ্ধতি চালু করার প্রস্তুতি চলছে। এ হাজিরা চালু করার জন্য যন্ত্রপাতি যুক্ত করার কথা থাকলেও এখনো তা চালু করার সম্ভব হয়নি। তবে আশা করছি খুব শিগগির এটি চালু হবে।

জয়নিউজ/এসআই
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...