দুই একর লিজে ৪ একরের মার্কেট!

0

রেলওয়ের কাছ থেকে লিজ নেওয়া হয়েছিল ২ দশমিক ০৩ একর জমি। তবে প্রভাবশালী তিন লিজগ্রহীতার মন ভরেনি তাতে। লিজের বরাদ্দের সঙ্গে আশপাশের আরো ১ দশমিক ৬৮ একর জমি দখলে নিয়ে তারা গড়ে তুলেছেন মার্কেট!

আলোচিত এই দখলকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে নগরের আইস ফ্যাক্টরী রোডে। স্থানীয় তিন প্রভাবশালী বৈধ লিজের সঙ্গে অবৈধভাবে দখলকৃত জমি মিলিয়ে গড়ে তুলেছেন শাহ আমানত রেলওয়ে সুপার মার্কেট। বর্তমানে মার্কেটটির দোকান বিক্রি চলছে চড়া দামে।

জানা যায়, রেলওয়ের মালিকানাধীন জায়গাটি একসময় ছিল নগরের প্রধান মাদক স্পট। বরিশাল কলোনী নামের এ জায়গাটিতে রাত-দিন চলত মাদকের বেচাকেনা। তবে ২০১৮ সালে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে উচ্ছেদ করা হয় মাদকের সব আস্তানা। পরে জায়গাটি রেলওয়ে বুঝে পায়।

২০১৮ সালের শেষ দিকে রেলওয়ে থেকে ওই জায়গাটির ২ দশমিক ০৩ একর লিজ নেন কয়েকজন ব্যক্তি। তারাই সেখানে গড়ে তোলেন শাহ আমানত রেলওয়ে সুপার মার্কেট। তবে রেলওয়ের হিসাবমতে সেখানে মোট জায়গা আছে ৩ দশমিক ৭১ একর। পুরো জায়গা জুড়েই মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। অর্থাৎ ১ দশমিক ৬৮ একর জায়গা অবৈধভাবে দখলে নিয়েছে মার্কেট নির্মাণকারীরা।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, মার্কেটের ইজারাদাররা প্রতি বর্গফুট জায়গা ৪০ টাকা করে লিজ নিয়েছেন এক বছরের জন্য। প্রতি বছর এ লিজ নবায়ন করতে হবে। তবে প্রতি বর্গফুটের জন্য ৪০ টাকা দরে ইজারাদাররা রেলওয়েকে ২ দশমিক ০৩ একর জায়গার টাকা দেবে। অথচ ব্যবহার করবে ৩ দশমিক ৭১ একর জায়গা। রেল পূর্বাঞ্চলের কর্মকর্তারা বিষয়টি জানার পরও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেননি। ধারণা করা হচ্ছে, রেলের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এ ঘটনার নেপথ্যে জড়িত আছেন।

জয়নিউজের অনুসন্ধানে জানা যায়, কাগজে-কলমে রেলওয়ে থেকে জায়গাটি লিজ নিয়েছে আইস ফ্যাক্টরি রোড দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতি। তবে নেপথ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের উপ অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, আইস ফ্যাক্টরি রোড ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা শাহ আলম এবং সাবেক কাউন্সিলর ও আইস ফ্যাক্টরি রোড দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জহির আহমদ চৌধুরী। তাদের নিয়ন্ত্রণেই চলছে পুরো মার্কেটের দোকান বরাদ্দ এবং সেলামি আদায়ের কাজ।

সম্প্রতি দোকানের ক্রেতা সেজে মার্কেটের অফিসে গেলে সম্রাট নামে এক ব্যক্তি জানান, মার্কেটের তিনটি ব্লক রয়েছে। মূল ফটকের সামনের দোকানগুলোর সেলামি ১৫ লাখ টাকা। মাঝখানের দোকানগুলোর জন্য ১২ লাখ টাকা এবং ভেতরের দিকের দোকানগুলোর জন্য ১০ লাখ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

তবে সম্রাট জানান, হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, শাহ আলম কিংবা জহির আহমদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে দাম কিছুটা কমতে পারে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে জয়নিউজকে বলেন, আইস ফ্যাক্টরি রোডের ওই জায়গাটিতে রেলওয়ের মোট ৩ দশমিক ৭১ একর জমি আছে। কিন্তু কতিপয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ২ দশমিক ০৩ একর লিজ নেওয়ার কথা বলে পুরো জায়গা দখলে নিয়েছেন। রেলওয়েরও কিছু করার নেই এখানে।

জানতে চাইলে রেল পূর্বাঞ্চলের প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা ইশরাত রেজা জয়নিউজকে বলেন, জায়গাটি শাহ আমানত রেলওয়ে সুপার মার্কেটের নামে লিজ দেওয়া হয়েছে। তবে মোট জায়গার পরিমাণ নিয়ে সমস্যা হয়েছে। এটি নিয়ে রেল পূর্বাঞ্চল তদন্ত করছে। তদন্তের পরই নিশ্চিত করে বলা যাবে আসলে কতটুকু জায়গা বেশি নেওয়া হয়েছে।

জয়নিউজ/এমজেএইচ
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...