চমেক হাসপাতালে বাড়ছে সেবার পরিধি

0

৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চট্টগ্রামের মানুষের প্রধান চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল। ১৯৫৭ সালে ৫০০ শয্যা নিয়ে এ হাসপাতালের যাত্রা শুরু। চার ধাপে বেড়ে বর্তমানে এই শয্যা সংখ্যা ১ হাজার ৩১৩টি। কিন্তু এ হাসপাতালে প্রতিদিন চিকিৎসা নেন শয্যার দ্বিগুণ রোগী।

সরকারি এ হাসপাতাল নিয়ে রোগী ও অভিভাবকদের অভিযোগের অন্ত নেই। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমানে আরো বেশি চিকিৎসাবান্ধব হয়ে উঠছে এ হাসপাতাল। বিগত ১০ বছরে যুক্ত হয়েছে অত্যাধুনিক সব যন্ত্রপাতি। বেড়েছে সক্ষমতা। দুটি নতুন দশতলা ভবনে চলছে চিকিৎসা। বছরখানেকের মধ্যে যুক্ত হবে আরো ৭০০ শয্যা।

হাসপাতালের ইনডোরে প্রতিদিন গড়ে সেবা দেওয়া হয় প্রায় আড়াই হাজার রোগীকে। এত রোগীর ভিড়ে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসক-নার্সদের। যদিও বর্তমানে বেড়েছে ডাক্তার সংখ্যা। ৩০০ জন অধ্যাপক, ৫০ জন কনসালটেন্ট, ১৫০ ইন্টার্ন ও ৬০০ রেসিডেন্ট ডাক্তার শিফটিং করে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।

হাসপাতালের প্রশাসনিক দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালটিতে ৪৪টি ওয়ার্ড রয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী চিকিৎসক, নার্স, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, যন্ত্রপাতিসহ অবকাঠামোগত নানা সংকট রয়েছে। ফলে কাক্সিক্ষত সেবা নিয়ে সবসময় অভিযোগ থেকেই যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ শোনা যায় হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমেদ জয়নিউজকে বলেন, এই হাসপাতালে প্রতিদিন যে পরিমাণ রোগী থাকে সে অনুযায়ী চিকিৎসক, নার্স ও শয্যা থেকে শুরু করে অনেক সংকট রয়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি ভালো সেবা দেওয়ার। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় রোগীর সঙ্গে আসা স্বজনদের নিয়ে। একজন রোগীর সঙ্গে তিন থেকে পাঁচ জন পর্যন্ত এটেন্ডেন্ট থাকছেন। তাই চাইলেও হাসপাতাল পুরোপুরি পরিষ্কার রাখা যাচ্ছে না।

হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জয়নিউজের সঙ্গে কথা বলেন চমেকের উপপরিচালক আক্তারুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রতিদিন ১৮টা অপারেশন থিয়েটারে একের অধিক শয্যায় ২৪ ঘণ্টা সার্জারি হচ্ছে। ১০তলা বিশিষ্ট কার্ডিয়াক ব্লক হয়েছে। যেখানে ওপেন হার্ট সার্জারি, বাইপাস, এনজিওগ্রামসহ হার্টের সব জটিল এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এই দশতলা বিল্ডিংয়ের ৯ ও ১০ তলায় করা হয়েছে শিশু সার্জারি বিভাগ, সপ্তমতলায় দাঁত, ষষ্ঠতলায় গাইনি, পঞ্চমতলায় অর্থোপেডিক এবং বাকিগুলোয় নিয়মিত হার্টের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এছাড়াও হাসপাতালের দক্ষিণ পাশে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে আরেকটি দশতলা এনসিলিয়ার (বহির্বিভাগ)। যেখানে দশমতলায় চর্ম ও যৌন বিভাগ, নবমতলায় বাতব্যথা বিভাগ, অষ্টমতলায় প্রশাসনিক বিভাগ, সপ্তমতলায় ডায়াবেটিকস ও হরমোন বিভাগ, ষষ্ঠতলায় গ্যাস্ট্রিক ও হেমোটলজি বিভাগ, পঞ্চমতলায় প্রোসিডিউর রুম, চতুর্থতলায় প্যাথলজি এবং বাকিগুলোয় বহির্বিভাগের চিকিৎসা চলছে।

হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, নতুন সিসিটিভির জন্য ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। মাসখানেকের মধ্যে প্রায় ১৬০টি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হবে। বর্তমানে হাসপাতালে ১৩২টি ক্যামেরা আছে। সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকেন আনসার ও পুলিশ সদস্যরা। সংকট এবং সম্ভাবনা মিলিয়ে এ হাসপাতালটি এখনো এই অঞ্চলে উন্নতসেবার আস্থার প্রতীক। গরিব রোগীদের বড় অবলম্বন।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...