মেয়র নাছিরের ৪ বছর: বদলে গেছে চট্টগ্রাম

0

চট্টগ্রামকে ক্লিন ও গ্রিন সিটিতে পরিণত করার লক্ষ্যে ৩৬ দফা প্রতিশ্রুতি ছিল তাঁর নির্বাচনি ইশতেহারে। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল জনরায়ে চট্টগ্রামের নগরপিতা নির্বাচিত হন তিনি।

বলছি আ জ ম নাছির উদ্দীনের কথা। পুরো নাম আবু জাহেদ মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে তিনি শপথ নেন ২০১৫ সালের ৬ মে। তবে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ওই বছরের ২৬ জুলাই। মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার চার বছর পূর্তির প্রাক্কালে কতটুকু সফল হয়েছেন মেয়র নাছির, তা জানার চেষ্টা করেছে জয়নিউজ।

ডোর টু ডোর পদ্ধতিতে বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মেয়র

ডোর টু ডোর প্রকল্প
২০১৫ সালের আগে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে দেখা যেত উন্মুক্ত ডাস্টবিন। এছাড়া যেখানে সেখানে ফেলা হতো ময়লা-আবর্জনা। ময়লার দুর্গন্ধে অনেক স্থানে চলাচল করাও কষ্টকর ছিল নগরবাসীর জন্য। কিন্তু মেয়র নাছির দায়িত্ব গ্রহণের পর ঘোষণা দেন ডোর টু ডোর প্রকল্পের। নগরবাসীর ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয় ৯ লাখ ময়লা রাখার প্লাস্টিক বিন। এ উদ্যোগের ফলে গৃহস্থালী বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে সহজে। কেউ আর এখন ময়লা-আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলে না। একইসঙ্গে শহরের প্রধান সড়কগুলোর পাশে ময়লা ফেলার জন্য স্থাপিত কন্টেইনার এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে স্থাপিত ডাস্টবিনও অপসারণ করেছে সিটি করপোরেশন।

নগরে বিলবোর্ড উচ্ছেদ

বিলবোর্ড উচ্ছেদে শতভাগ সফল
দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই চট্টগ্রামের হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে মাত্র এক মাসের মধ্যে প্রায় চার হাজার বিলবোর্ড, ইউনিপোল, মেগা সাইন অপসারণ করেন মেয়র নাছির। এরপর থেকে সিটি করপোরেশনের সীমার মধ্যে আর কোনো বিলবোর্ড স্থাপিত হয়নি। যা মেয়র নাছিরের সফলতাগুলোর মধ্যে অন্যতম। পরে মেয়র নাছিরকে অনুসরণ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের মেয়রও ঢাকা শহরের বিলবোর্ড উচ্ছেদ করে। আলকরণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেক সোলেমান সেলিম বলেন, একসময় নগরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঢেকে গিয়েছিল বড় বড় বিলবোর্ডে। দায়িত্বগ্রহণের পর মেয়রের নির্দেশে শুরু হয় এসব বিলবোর্ড উচ্ছেদ। বলা যায়, নগর এখন প্রায় জঞ্জালমুক্ত।

রাতেই পরিষ্কার হচ্ছে শহর
দিনের বেলায় শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে গেলে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো পরিচ্ছন্ন কর্মীদের। মেয়র নাছির দায়িত্ব গ্রহণের পর রাতের ময়লা রাতেই অপসারণের উদ্যোগ নেন। এছাড়া শহর পরিচ্ছন্ন করতে রাতেই পরিচ্ছন্ন কর্মীদের দায়িত্ব বন্টন করে দেন। বর্তমানে এক হাজার ৯০০ জন সেবক প্রতিরাতেই নগরের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে থাকে। চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এখন চট্টগ্রাম শহর আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন হয়েছে।

চট্টগ্রাম শহরে আলোকায়ন

আলোকায়ন
চসিকের বিদ্যুৎ শাখা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ১ হাজার ৫৫৬টি সুইচিং পয়েন্টের মাধ্যমে ৫১ হাজার এনার্জি, টিউব, হাই–প্রেসার সোডিয়াম, এলইডি ও অন্যান্য বাতি দিয়ে সড়ক আলোকায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। গত চার বছরে নগরের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান প্রধান সড়কে ৪ কোটি ৭৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকায় ৭০৫টি এলইডি বাতি স্থাপন করা হয়েছে এবং আরো ২ কোটি ৩৭ লাখ ৩৭ হাজার টাকায় ৩৮১টি এলইডি বাতি স্থাপনের কাজ শেষপর্যায়ে আছে। এছাড়া ২৭ কোটি ২ লাখ ১৯ হাজার টাকা ব্যয়ে সোলার/নন-সোলার এলইডি স্ট্রিটলাইট প্রোগ্রাম ইন সিটি করপোরেশন (এস.এস.এল.পি.সি.সি.)-এর আওতায় ২ কি.মি. সড়কে ১০৩টি সোলার প্যানেলযুক্ত এলইডি লাইট এবং ৫৬ কি.মি. সড়কে ৩ হাজার ১৭টি নন-সোলার এলইডি এনার্জি সেভিং লাইট স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে।

ইতোমেধ্য জাইকার অর্থায়নে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮৬ কিলোমিটার প্রধান সড়ক আলোকায়ন এবং ২৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে ৪০০ কিলোমিটার সড়ক আলোকায়ন প্রকল্প পাস হয়েছে।

সড়ক বাতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম শহরে আলোকায়নের ব্যবস্থা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আ জ ম নাছির উদ্দীন জয়নিউজকে বলেন, ‘আগ্রাবাদসহ শহরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা অন্ধকারে ছিল, সড়ক বাতি ছিল না। সেখানে আমরা আলোকায়ন করছি। এলইডি কনসেপ্ট কিন্তু আমার আমলেই হয়েছে। এলইডি লাইটের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে বদলে যাবে চট্টগ্রামের চেহারা। তখন পথচারীদের চলতে সুবিধা হবে। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে যেসব অপরাধ সংঘটিত হয় সেগুলোও কমে যাবে।

হকারদের শৃঙ্খলায় ফেরানো
ফুটপাত দখলমুক্ত করে হকারদের শৃঙ্খলায় নিয়ে আসা মেয়র নাছিরের একটি অন্যতম সাফল্য। এ বিষয়ে মেয়র নাছির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হকাররা ফুটপাত ও সড়কে বসে ব্যবসা করতো। এটা নিয়ে তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছি। তাদের বুঝিয়েছি। তাদের ব্যবসা করার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়েছি। এখন তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা এসেছে। ফলে তারা ব্যবসাও করছেন, সাধারণ পথচারীদের সমস্যাও অনেক কমে এসেছে।

নগরজুড়ে সবুজায়ন
যেসব এলাকার ফুটপাত দিয়ে দুর্গন্ধে হাঁটাচলা করা যেত না, সেখানে এসেছে নান্দনিকতার ছোঁয়া। সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের আওতায় সাজছে নগর। ইতোমধ্যে এয়ারপোর্ট রোড, টাইগারপাস রোড, লালখান বাজার, কাজীর দেউরি, আউটার স্টেডিয়াম, আন্দরকিল্লা, জামালখান, চট্টেশ্বরী ও প্রবর্তক মোড় এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সড়কে নৌকার ওপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৃষ্টিনন্দন ম্যুরাল তৈরি করা হয়েছে। জাতিসংঘ পার্ক সংস্কার করা হয়েছে।

এছাড়া বারিক বিল্ডিং মোড়, টাইগারপাস মোড়, কাজীর দেউরি মোড়, আন্দরকিল্লা মোড়, নিউমার্কেট মোড়, রেডিসন ব্লু মোড়, জিইসি মোড়ের মতো গোলচত্বরগুলোকে সাজানো হয়েছে ভিন্ন আঙ্গিকে। যাত্রীদের অপেক্ষার সুবিধার্থে আধুনিক যাত্রী ছাউনি স্থাপন করা হয়েছে। নিউমার্কেট থেকে পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন সড়ক, জিপিও এবং শাহ আমানত শপিং কমপ্লেক্স পর্যন্ত এলাকার প্রায় ১ দশমিক ৭ কিলোমিটার রাস্তার মিড আইল্যান্ড ও ফুটপাতের সৌন্দর্যবর্ধন করা হচ্ছে। এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের পূর্ব এবং উত্তর পাশের ফুটপাতসহ আউটার স্টেডিয়ামে বাগান নির্মাণ করা হয়েছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত
স্বাস্থ্যখাত নিয়ে মেয়র নাছির জয়নিউজকে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন প্রতিবছর স্বাস্থ্যখাতে ১৩ কোটি এবং শিক্ষাখাতে ৪৩ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। কিন্তু নগরবাসীর কাছ থেকে গৃহকর বাবদ এই ভর্তুকির টাকাও আসছে না। তারপরও শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে আমাদের সফলতা অনেক। ইপিআই টিকা কার্যক্রমে আমরা একাধিকবার পুরস্কার পেয়েছি। সমস্যার পাহাড় আর সাড়ে ৩শ’ কোটি টাকা দেনা নিয়ে আমি দায়িত্বগ্রহণ করেছিলাম। দুর্নীতি অনিয়মে ভরা ছিল প্রতিষ্ঠানটি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সবগুলো সেক্টরে পরিবর্তন আনতে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছি। এখন রাজস্ব আয়ও বেড়েছে।

রাস্তাঘাট ও ড্রেনের সংস্কার
মেয়র নাছিরের চার বছরে চট্টগ্রামে রাস্তাঘাট উন্নয়নে ব্যাপক সফলতা রয়েছে। পুরো চট্টগ্রামে নিজে সবকিছু তদারকি করেছেন। ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আগ্রাবাদ এক্সেস রোড ও পিসি রোডের কাজ শেষ হয়েছে। মেয়র বলেন, চার বছরে শহরের সড়ক সংস্কার ও নতুন নতুন রাস্তাঘাট করেছি। দুইশ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা সংস্কার এবং কার্পেটিং কাজে ব্যবহৃত কংক্রিট, পাথর ও বিটুমিন মিশ্রিত উপাদান তৈরির আধুনিক অ্যাসফল্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করেছি। শহরে প্রয়োজন বিরেচনায় ড্রেন ছিল এক চতুর্থাংশের মতো। দায়িত্বগ্রহণের পর পর্যায়ক্রমে পুরনো ড্রেনগুলো সংস্কার এবং নতুন আরসিসি ড্রেন করা হয়েছে। অনেক জায়গায় ড্রেনের ওপর স্ল্যাব দিয়ে ফুটপাত করা হয়েছে। ফুটপাতে টাইলস লাগানো হচ্ছে। যানজট নিরসনে যানবাহনের জন্য সড়কে জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণে প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে।

জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প
নগরবাসীর দুঃখ জলাবদ্ধতা নিরসনে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন দায়িত্বগ্রহণের পরই উদ্যোগ নেন। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নিয়মিত নালা ও খালের আবর্জনা পরিষ্কার করা শুরু হয়। পরে জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০১৭ সালে সরকার চারটি প্রকল্পে ১০ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। এর মধ্যে সিডিএ বাস্তবায়ন করছে ৭ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার দু’টি প্রকল্প। আর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ১ হাজার ৬২০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়। চসিক পেয়েছে ১ হাজার ২৫৬ কোটি টাকায় বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী খাল খননের দায়িত্ব।

এ প্রকল্পে নালা-নর্দমা ও খালের পুনঃখনন, বাঁধ নির্মাণ, জোয়ার প্রতিরোধক ফটক, খালের দুইপাশে প্রতিরোধক দেয়াল, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় বড় প্রকল্পগুলো চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (সিডিএ) দেওয়া হলেও সরকারের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে দ্বৈততা পরিহার ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

কাজির দেউরিতে অবস্থিত সুইমিংপুল

স্বপ্নের সুইমিংপুল
একসময় আউটার স্টেডিয়াম এলাকা ছিল নোংরা এক মাদকের আখড়া। এখন সেখানে শোভা পাচ্ছে বিশ^মানের সুইমিংপুল। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অর্থায়নে ১১ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় সুইমিংপুলটি। নগরের আউটার স্টেডিয়ামের পাশে নির্মিত এই সুইমিং কমপ্লে¬ক্সে পুলের আয়তন ১১০০ বর্গমিটার। যার দৈর্ঘ্য ৫০ মিটার ও প্রস্থ ২২ মিটার, রয়েছে আটটি লেন। প্রায় ২০ লাখ লিটার পানি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন পুলের গড় গভীরতা ২ মিটার। আন্তর্জাতিকমানের পুলটির মূল প্রবেশপথ পূর্ব দিকে। যার পূর্ব ও পশ্চিম দুই পাশে রয়েছে গ্যালারি। যেখানে বসতে পারবে দেড় হাজার দর্শক। নিচে রয়েছে ডিপ টিউবওয়েল, ফিল্টেশন প্ল্যান্ট এবং ২৫০ কেভি সাবস্টেশন।

এছাড়া পশ্চিম পাশে রয়েছে ওয়াটার রিজার্ভার। এই সুইমিংপুলের পানি প্রসেসিং সিস্টেম হলো- ডিপ টিউবওয়েল থেকে প্রথমে পানি যাবে রিজার্ভারে। তারপর ফিল্টেশন প্ল্যান্ট হয়ে বিশুদ্ধ পানি যাবে সুইমিংপুলে। পুল থেকে আবার ওভারফ্লো হয়ে ড্রেনের মাধ্যমে পানি যাবে বেনচিং ট্যাংকে। পরে সেই পানি আবার রিসাইক্লিং হয়ে যাবে পুলে। পুলের পশ্চিম পাশে রয়েছে ড্রেসিং রুম, অফিস কক্ষ এবং টয়লেট। সবমিলিয়ে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে এই সুইমিংপুলে।

সম্মানি তুলে দেন অসহায়দের হাতে
মেয়র নাছির মাসে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা সম্মানি পেলেও সেই টাকা তিনি দান করেন অটিজম স্কুল, মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিংসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অসহায় শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীদের জন্য। গত ৪ বছরে ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা অসহায়দের মাঝে বিতরণ করেন তিনি। এছাড়া তিনি সিটি করপোরেশনের গাড়ি ব্যবহার করেন না। জ্বালানি খরচও বহন করেন নিজের পকেট থেকে।

এ বিষয়ে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, আমি রাজনীতি করছি নগরবাসীর কল্যাণের লক্ষ্যে। কিছু পাওয়ার জন্য মেয়র হইনি, দেওয়ার জন্য এসেছি। আল্লাহ আমাকে অনেক দিয়েছেন। অসহায়দের কল্যাণে আমার সম্মানির টাকা ব্যয় হচ্ছে- এটা আমার জন্য আনন্দের। আমি সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভেতরে থেকেই দায়িত্ব পালন করতে চাই।

আগামী এক বছর কী করতে চান মেয়র নাছির?
আগামী এক বছর কী করতে চান, মেয়র নাছিরের কাছে এমন প্রশ্ন ছিল জয়নিউজের পক্ষ থেকে। প্রশ্ন শুনে মেয়র বলেন, ‘নগরবাসীকে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করছি। চার বছরে আমি ৮০ শতাংশ কাজ শেষ করেছি। আগামী এক বছরের মধ্যে অসমাপ্ত সব কাজ শেষ করব। এক বছর পর চট্টগ্রামে এসে বিদেশিরাও চমকে যাবেন। নগরের কাক্সিক্ষত উন্নয়নে নগরবাসীর সহযোগিতা খুব প্রয়োজন।

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের জন্ম চট্টগ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। বাবা সৈয়দ মঈনুদ্দিন হোসাইন ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী এবং মা ফাতেমা জোহরা বেগম গৃহিনী। মেয়র নাছির ১৯৭৩ সালে সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ডিগ্রি পাস করেন। স্কুলজীবন থেকেই তিনি ছাত্রলীগের কর্মকা-ে জড়িত হন। স্কুলশিক্ষার্থী হিসেবে যোগ দেন উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মিছিলে। ১৯৭৭ সালে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও নগর ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৮০ ও ১৯৮২ সালে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৮৩ ও ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি হন। তিনি পর পর দুইবার মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। রাজনীতির বাইরে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক, চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক ফোরামের সভাপতি।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...