শাটলে ঘামে ভিজে নয়, এসি বগিতে চবি এলেন রেলমন্ত্রী!

0

শিক্ষার্থীদের মতো শাটলে ঘামে ভিজে নয়, এসি বগিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) এসেছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। তার চবি আগমন উপলক্ষে তিনটি এসি বগি সংযোজন করে রেলওয়ে!

শাটল ট্রেনে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের চিত্র দেখার ইচ্ছার কথা জানালেও চবি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ দেখার সুযোগ হয়নি মন্ত্রীর।

বুধবার (২৩ জুলাই) নগরের বটতলী স্টেশন থেকে দুপুর ২.৫০টার ট্রেনে ক্যাম্পাসের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। পরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাড়ে ৫টার ট্রেনে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

মন্ত্রীর ক্যাম্পাসে আসাকে কেন্দ্র করে প্রতিদিনের নির্ধারিত ৮টি বগির পরিবর্তে ১১টি বগি দেওয়া হয়। সংযোজিত ৩টি বগিই ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের সুবর্ণ এক্সপ্রেসের এসি কোচ। তবে বগি তিনটিতে শিক্ষার্থীদের প্রবেশে ছিল নিষেধাজ্ঞা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতে প্রায় ২৫ মিনিট বিলম্ব হয় ট্রেনটির। পরে মন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রণব মিত্র চৌধুরী ও সহকারী প্রক্টররা।

বিকাল সোয়া ৪টার দিকে ক্যাম্পাসে পৌঁছে এসি বগি থেকে নেমে সাধারণ বগি ঘুরে দেখেন তিনি। পরে তিনি উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের সংস্কারহীন রেলপথ একদিনেই সংস্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে তড়িঘড়ি করে পুরো রেলপথে পাথর বিছানো হয়, টাইট দেওয়া হয় নাট-বল্টু।

শিডিউল অনুযায়ী ট্রেনটি ক্যাম্পাস থেকে চারটায় নগরের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও দেরিতে আসায় ৪টা ৩৫মিনিটে ক্যাম্পাস ত্যাগ করে। অতিরিক্ত বগি তিনটিতে মন্ত্রী ও তার বহর আসলেও ছেড়ে যাওয়ার সময় বগিগুলো সম্পূর্ণ ফাঁকা নিয়ে যাওয়া হয়।

এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী কানিজ ফাতেমা জয়নিউজকে বলেন, আমরা প্রতিদিন যেভাবে যাওয়া আসা করি সেটা মন্ত্রী দেখতে পাননি। তাছাড়া তিনি এসেছেন যে ট্রেনে সেটাতে শিক্ষার্থীদের ভিড় কম থাকে। সাড়ে পাঁচটার ট্রেনেও ভিড় কম থাকে। তিনি আমাদের সমস্যাগুলোর প্রকৃত চিত্র দেখেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ছাত্র বলেন, রেলমন্ত্রী এসেছেন সদ্য সংস্কার করা রেললাইনে। ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশে। কিন্তু আমরা সবসময় ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করি।

রেলমন্ত্রী যা বললেন

উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন সাংবাদিকদের বলেন, চবি শিক্ষার্থীরা শাটল ট্রেনে কীভাবে যাতায়াত করে সে সম্পর্কে ধারণা নিতে নিজের ইচ্ছায় এখানে এসেছি। দেখে মনে হচ্ছে শাটল ট্রেন চলাচলের সম্পূর্ণ লাইনই ঝুঁকিপূর্ণ। রেললাইন সংস্কারের প্রয়োজন আছে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটল ট্রেনের রেললাইনে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ও রেললাইন আগামী তিনমাসের মধ্যে সংস্কার করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশনের দুই পাশে প্লাটফর্ম করার চেষ্টা করব। যা যা করার প্রয়োজন তা করার চেষ্টা করব।

তিনি বলেন, আগামী জুন মাসে রেলওয়েতে ২০০ নতুন কোচ সংযুক্ত হবে। আমরা চেষ্টা করব এখানে নতুন একটি শাটল ট্রেন দিতে, যেখানে নতুন ১৫-১৬টি আধুনিক বগি থাকবে। বগিগুলোতে চেয়ার কোচ এবং পাখা, টয়লেট ও ওয়াইফাই সুবিধা থাকবে।

তিনি আরো বলেন, রেল কর্মকর্তাদের দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করতে হবে। কোনো গাফিলতি মেনে নেওয়া হবে না।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চবির রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, চবি ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন টিপু প্রমুখ।

জয়নিউজ/নবাব/এমজেএইচ
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...