ম্যাফ সুজ: রপ্তানিতে ঈর্ষণীয় সাফল্য, উৎপাদনে শ্রমবান্ধব

0

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে নারী-পুরুষের পরিধেয় জুতার ধরনে আসছে বৈচিত্র্য। একসময় মানুষ শুধু চামড়ার জুতো পরত। এখন কৃত্রিম চামড়া ও কাপড়ের জুতাও ব্যাপক জনপ্রিয়। দেশীয় উৎপাদকেরা বৈশ্বিক ফ্যাশনের কথা মাথায় রেখে জুতার ডিজাইনে নিত্যনতুন পরিবর্তন আনছেন। এখন শুধু দেশেই নয়, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের পায়ে শোভা পাচ্ছে বাংলাদেশে তৈরি জুতা।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের যেসব ব্র্যান্ড খুব কম সময়ে জায়গা করে নিয়েছে তার মধ্যে একটি ম্যাফ সুজ লিমিটেড। শতভাগ রপ্তানিমুখী এই প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালে রপ্তানি করেছে প্রায় ৩৬ মিলিয়ন ডলারের জুতা। এ বছর প্রতিষ্ঠানটির রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ৫০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।

২০১০ সালে ম্যাফ সুজের শুরুটা হয়েছিল ছোট পরিসরে, কিছু বিদেশি কোম্পানির অর্ডার নিয়ে। পরবর্তীতে ডেকাথলন নামে ফ্রান্সের একটি কোম্পানির সঙ্গে বড় ধরনের সরবরাহ চুক্তি হয়। এরপর থেকে ম্যাফ সুজের সব ধরনের জুতার মূল ক্রেতা হয়ে দাঁড়ায় ডেকাথলন। ২০১১ সাল থেকে বড় পরিসরে উৎপাদন ও রপ্তানি শুরু করে ম্যাফ সুজ। প্রথম বছরে এক লক্ষ জোড়া জুতা রপ্তানি করা হয়। এরপর থেকে রপ্তানির পরিমাণ জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে।

বর্তমানে প্রায় কোটি জোড়া জুতা রপ্তানি করে ম্যাফ সুজ। প্রতি বছর প্রতিষ্ঠানটির ২২% থেকে ২৫% পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। ২০১৮ সালে এ প্রতিষ্ঠান থেকে রপ্তানি করা হয় ৯৩ লক্ষ জোড়া জুতা। চলতি বছর রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ জোড়া জুতা। এছাড়া ২০২০ সালে ১ কোটি ৫০ লক্ষ জোড়া জুতা উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ম্যাফ সুজ মূলত তিন ধরনের জুতা তৈরি করে থাকে। এগুলো হলো- সিমেন্টেড সোল, ইনজেকটেড সোল ও আইএম ইভিএ সোলের জুতা। এছাড়া ওয়াটার প্রুফ স্নো বুট এবং ফ্লিপফ্লপও উৎপাদন করে প্রতিষ্ঠানটি।

ম্যাফ সুজের পরিচালক মো. শাহাদাত উল্লাহ জয়নিউজকে বলেন, ম্যাফ সুজ লিমিটেড একটি পেশাদার, নির্ভরযোগ্য এবং শ্রমবান্ধব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। এখানে শতভাগ রপ্তানিযোগ্য উন্নতমানের স্পোর্টস সু এবং ফ্লিপফ্লপ উৎপাদন করা হয়।

তিনি বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে সব বয়সের মানুষের জন্য জুতা উৎপাদন করা হয়। এদেশে এটি একমাত্র কারখানা যেখানে সব ধরনের জুতা একই কারখানায় উৎপাদন করা হয়।

তিনি আরো বলেন, ম্যাফ সুজে বর্তমানে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কর্মী আছেন। আমাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। প্রতি বছর শ্রমিক-কর্মকর্তাদের জন্য পিকনিকের আয়োজন করা হয়। এছাড়া বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় মাসব্যাপী ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। শ্রমিক-কর্মীদের পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসি পড়ুয়া সন্তানদের জন্য দুই বছর মেয়াদী শিক্ষাবৃত্তিও দেওয়া হয়।

রুনি বসু দীর্ঘ ৬ বছর যাবত চাকরি করছেন এ প্রতিষ্ঠানে। তিনি জয়নিউজকে বলেন, এখানে অনেকদিন ধরে কাজ করছি। এখানকার কাজের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা অনেক ভালো। বছরে একবার আমাদের পিকনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন পরিবারের সবাইকে নিয়ে সারাদিন অনেক মজা করি।

হুমায়ুন রশিদ নামে অপর এক কর্মচারী জয়নিউজকে বলেন, আমি দীর্ঘ ৮ বছর যাবত এ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছি। এখানে সময়মতো বেতন-বোনাস দেওয়া হয়। প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা কাজ করি। ৮ ঘণ্টার বেশি যদি কাজ করি, তখন আমাদের ওভারটাইম ভাতা দেওয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, এখানে মেডিকেল সুবিধা, চাইল্ড কেয়ার, মসজিদ ও প্রয়োজনে ছুটির সুবিধা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ম্যাফ সুজ লিমিটেড ইতিমধ্যে জাতীয় পর্যায়ে বেশকিছু পুরস্কার পেয়েছে। এরমধ্যে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা উত্তম চর্চা-২০১৮ পুরস্কার উল্লেখযোগ্য।

জয়নিউজ/এমজেএইচ
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...