আসছে কোরবানির পশু: চলছে চাঁদাবাজি

0

ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে নগরের হাটগুলোতে ট্রাকে ট্রাকে আনা হচ্ছে কোরবানির পশু। নগরের বিভিন্ন স্থায়ী পশুর বাজার ছাড়াও অস্থায়ীভাবে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা মজুত করছেন পশু। এদিকে পশুবোঝাই ট্রাক থেকে পুলিশের চাঁদাবাজির অভিযোগ এনেছেন ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রামে এবার কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতি থাকবে না বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস। স্থানীয় উৎপাদন এবং বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পশুতেই কোরবানি হবে বলে মনে করছে সরকারি এই সংস্থাটি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রিয়াজুল হক জয়নিউজকে বলেন, এবার ঈদুল আযহায় চট্টগ্রাম জেলায় ৭ লাখ ২০ হাজার পশু কোরবানি হবে। এরমধ্যে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার পশু ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আরও প্রায় এক লাখেরও বেশি পশু চট্টগ্রামে আসবে। তাই কোরবানির পশুর বাজারে কোনো ঘাটতি থাকবে না।

ব্যবসায়ীরা জানান, দেশি জাতের গরুর পাশপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে গরু আসছে চট্টগ্রামে। প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টি গরুবোঝাই ট্রাক বিভিন্ন হাটে ঢুকছে। এ বছর চট্টগ্রামের বাজারে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ গরু বেচাকেনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলার ১৫টি উপজেলা ও নগর এলাকায় ১৯৭টি (স্থায়ী ৫৮, অস্থায়ী ১৩৯) হাটে এবার কোরবানির পশু কেনাবেচা হবে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম গরুর বাজার নগরের সাগরিকা পশুর হাট ছাড়াও বিবিরহাট গরুর বাজারেও চলবে কোরবানির পশুর বেচাকেনা।

চট্টগ্রাম গবাদি পশু ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি হাজি মো. শফিকুর রহমান জানান, গরু বেপারিরা শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছেন। বাজারগুলোয় প্রতিদিন গরু তোলা হচ্ছে। তবে এখনই ক্রেতা আসছে না। পর্যাপ্ত গরু আসছে, এবার সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।

শনিবার (২৭ জুলাই) দুপুরে সাগরিকা ও বিবিরহাট বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গরু-মহিষের পাশাপাশি ছাগলও আসছে নানা জায়গা থেকে। কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, বেনাপোলের পুটখালী থেকে আসছে ট্রাকবোঝাই পশু।

সাগরিকা বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও কুষ্টিয়া থেকে গরুর পাশাপাশি আসছে যশোরের ছাগল। কারণ যশোরের ছাগলের বাড়তি কদর রয়েছে চট্টগ্রামে। কারণ এখানকার ছাগল দেখতে সুন্দর এবং এর গোশতও সুস্বাদু। দেশি গরুর পাশাপাশি এবার নেপালি, গুজরাটি গরুও এনেছেন কিছু বেপারি।

কুষ্টিয়া থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী আজিবর বলেন, আমরা এবার তাড়াতাড়ি গরু নিয়ে বাজারে চলে এসেছি। অনেক সময় বাজারগুলোতে জায়গা পাওয়া যায় না। তাই আগেভাগে আসতে হলো। দেরিতে এলে রাস্তায় গরু বেচাকেনা করতে হয়। রাস্তা ভাঙা হওয়ায় চট্টগ্রামে আসতে দেরি হচ্ছে এমন অভিযোগও করেন তিনি।

আজিবর আরো বলেন, কুষ্টিয়া থেকে চট্টগ্রামে আসতে প্রতি গাড়ি বাবদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ পড়ে। এছাড়া খাওয়া-দাওয়া ও অন্যান্য খরচ তো আছেই।

চট্টগ্রামের বাজারে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক কথায় এখানে বেশি দামে গরু বিক্রি করা যায়। চট্টগ্রামের বাজারগুলোতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়। থাকা-খাওয়ার কষ্ট হয় না। আর নিরাপত্তার বিষয়েও চিন্তা করতে হয় না।

তবে পশুবোঝাই ট্রাক থেকে পুলিশ চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। চট্টগ্রামে ঢোকার মুখে এবং জিইসি মোড়ে এ চাঁদাবাজি হচ্ছে বলে জানান তারা। অভিযোগ, ট্রাকপ্রতি ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নিচ্ছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল মাহমুদ জয়নিউজকে বলেন, চাঁদাবাজির বিষয়ে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। পশুবোঝাই কোনো ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়ের সুযোগ নেই। আমরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছি। অভিযোগ পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেব।

এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পশুর হাটে জরুরি সেবা দিতে থাকবে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম। স্থায়ী বড় বাজারগুলোতে সার্বক্ষণিক থাকবে একাধিক টিম। ক্ষেত্রবিশেষে কাছাকাছি এলাকায় একই টিম একাধিক ছোট অস্থায়ী বাজারেও দায়িত্ব পালন করবে।

এছাড়া চট্টগ্রামের প্রত্যেক উপজেলায় প্রতিটি বাজারে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম থাকবে, জানান তারা।

জয়নিউজ/আরসি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...