শ্রীলঙ্কার অনায়াস সিরিজ জয়

0

সিরিজ বাঁচিয়ে রাখার ম্যাচে মুশফিক-মিরাজের ৮৪ রানের জুটিতে প্রেমাদাসায় ২৩৮ রানের মোটামুটি ফাইটিং স্কোর দাঁড় করায় বাংলাদেশ। তবে যতটুকু ফাইটিং স্কোর বলা হচ্ছে, আসলে তা নয়।

মোটকথা মাঝারি এ পুঁজি ‘ডিফেন্ড’ করতে যে বোলিংটা দরকার ছিল, সেটি করতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা। করবেনইবা কি করে! শ্রীলঙ্কান দুই ওপেনারকে ফেরাতেই যে ঘাম ছুটে গেছে বাংলাদেশ বোলারদের।

২৩৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৪৪.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় লঙ্কানরা। ফলে ৭ উইকেটের জয় দিয়ে সিরিজ জিতে নেয় শ্রীলঙ্কা। এ যেন এক অনায়াস সিরিজ জয়।

আরও পড়ুন: মুশফিক-মিরাজে ফাইটিং স্কোর

ম্যাচের ১২তম ওভারের তৃতীয় বলে মেহেদি হাসান মিরাজের বলে আউট হন লঙ্কান অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে। ওপেনিংয়ে নেমে ২৯ বল খেলে ১৫ রান করেন তিনি। ম্যাচের ২১তম ওভারের চতুর্থ বলে মোস্তাফিজের কাটার মারতে গিয়ে মিডঅনে তামিমের হাতে ক্যাচ তুলে দেন দ্রুত রান করতে থাকা আভিস্কা ফার্নান্দো (৮২)।

ম্যাচের ২৫তম ওভারে ফের মোস্তাফিজের আঘাত। এবার কুশল পেরেরা সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। ৩৪ বল খেলে তিনটি চারের মারে ৩০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। কুশল মেন্ডিস আর অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস অবিচ্ছিন্ন জুটিতে তোলেন ৯৬ রান। ম্যাথিউস ৫৭ বলে ৫২ এবং মেন্ডিস ৭৪ বলে ৪১ রান করে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের পক্ষে মোস্তাফিজ ২টি ও মিরাজ ১টি উইকেট পান।

এর আগে রোববার (২৮ জুলাই) কলম্বোয় বাংলাদেশ সময় দুপুর তিনটায় শুরু হওয়া ম্যাচে ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে এলবির ফাঁদে পড়েন সৌম্য সরকার। নুয়ান প্রদীপের বলে বিদায় নেওয়ার আগে বাঁহাতি এই ওপেনার ১৩ বলে একটি বাউন্ডারিতে করেন ১১ রান। দলীয় ২৬ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর দলীয় ৩১ রানের মাথায় বিদায় নেন তামিম ইকবাল। ইসুরু উদানার বলে বোল্ড হওয়ার আগে বাঁহাতি এই ওপেনার ৩১ বলে দুই বাউন্ডারিতে করেন ১৯ রান। প্রথম পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ দুই ওপেনারকে হারিয়ে তোলে ৩৫ রান।

আরও পড়ুন: সিরিজ বাঁচাতে ব্যাট করছে বাংলাদেশ

মুশফিকের সঙ্গে ২১ রানের জুটি গড়ে বিদায় নেন মোহাম্মদ মিঠুন। দলীয় ৫২ রানের মাথায় মিঠুনের বিদায়ে বাংলাদেশ তৃতীয় উইকেট হারায়। ২৩ বলে একটি বাউন্ডারিতে ১২ রান করে ফেরেন মিঠুন। ব্যক্তিগত ৮ রান করে মুশফিক ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৬ হাজার রান স্পর্শ করেন। ১৮ বলে ৬ রান করে আকিলা ধনাঞ্জয়ার বলে বোল্ড হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দলীয় ৬৮ রানে বাংলাদেশ চতুর্থ উইকেট হারায়।

৮৮ রানের মাথায় বিদায় নেন সাব্বির রহমান। রানআউট হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে সাব্বির ১৯ বলে দুই বাউন্ডারিতে করেন ১১ রান।

দলীয় ১১৭ রানের মাথায় বিদায় নেন মোসাদ্দেক হোসেন। মুশফিকের সঙ্গে ২৯ রানের জুটি গড়ে বিদায় নেন তিনি। ইসুরু উদানার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ডানহাতি এই মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান ২৭ বলে করেন ১৩ রান। এরই মধ্যে টানা দ্বিতীয় ফিফটির দেখা পান মুশফিক।

আরও পড়ুন: এ যেন পুরনো বাংলাদেশ!

সিরিজের আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচেও করেছিলেন ৫০ রান। সিরিজের প্রথম ম্যাচে করেন ৬৭ রান। মুশফিকের সঙ্গে ৮৪ রানের জুটি গড়েন মেহেদি হাসান মিরাজ। ইনিংসের ৪৬তম ওভারে বিদায় নেন মিরাজ। ৪৯ বলে ছয়টি বাউন্ডারিতে মিরাজ করেন ৪৩ রান। তাইজুল করেন ৩ রান। তবে, শেষ ওভারে রানআউট হওয়ার আগে মুশফিকের সঙ্গে তাইজুল ৩০ রানের জুটি গড়েন।

শ্রীলঙ্কার আকিলা ধনাঞ্জয়া, নুয়ান প্রদীপ ও ইসুরু উদানা ২টি করে উইকেট নেন।

জয়নিউজ/এসআই
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...