গায়ে কামড়ের দাগ, ৮ বছরের রিয়াদ পালাল ছয়তলার গ্রিল কেটে!

0

আট বছরের শিশু গৃহকর্মী রিয়াদ কাজ করত হামজারবাগের এক বাসায়। সারা শরীরজুড়ে তার কামড় আর মারধরের দাগ। নির্যাতন সইতে না পেরে একদিন সে বাসা থেকে পালাতে চেষ্টা করে। ছয়তলার গ্রিল কেটে আটতলায় উঠেও যায়। পরে ভবনের দারোয়ানের সহায়তায় তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।

রোববার (২৮ জুলাই) দুপুরে নগরের হামজারবাগের মোমিনবাগ আবাসিক এলাকার ১ নাম্বার রোডের একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সাইদুল ইসলাম জয়নিউজকে বলেন, মোমিন টাওয়ারের ছয়তলার একটি ফ্ল্যাটের গ্রিল কেটে রিয়াদ নামের শিশুটি বিল্ডিংয়ের ছাদে উঠার চেষ্টা করছিল। আমরা (স্থানীয়রা) ওই বিল্ডিংয়ের দারোয়ানের সহায়তায় ছেলেটিকে উদ্ধার করি। উদ্ধারের পর ছেলেটি আমাদের জানিয়েছে, তাকে মারধর করে প্রতিদিন বাসায় তালা মেরে রেখে যাওয়া হতো। তাই সে পালানোর জন্য গ্রিল কেটে ছাদে উঠার চেষ্টা করেছে। পরে আমরা পুলিশকে বিষয়টি জানাই। পুলিশ এসে ছেলেটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

জানা যায়, রিয়াদ নামের ওই শিশু গৃহকর্মীর বাড়ি বাঁশখালী উপজেলায়। সে তিন মাস আগে মোমিন টাওয়ারের ছয়তলার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট শ্যামলীর বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে আসে। সেখানে শ্যামলী তার স্বামী ও মেয়ে নিয়ে থাকেন।

এদিন সন্ধ্যায় নগরের পাঁচলাইশ থানায় গৃহকর্মী রিয়াদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাকে বিভিন্ন অজুহাতে প্রায় মারধর করা হতো। ঠিকঠাক খাবার দেওয়া হতো না। প্রতিদিন তাকে বাসায় তালা মেরে চলে যেতেন শ্যামলীরা। বেশিরভাগ সময় সন্ধ্যায় তারা বাসায় ফিরতেন।

রিয়াদকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা পাঁচলাইশ থানার এসআই সজীব জয়নিউজকে বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মোমিনবাগ আবাসিক এলাকা থেকে রিয়াদ নামে এক শিশু গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। পরে তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই বাসায় তাকে মারধর করা হতো। তাই সে পালানোর চেষ্টা করেছে।

তিনি আরো বলেন, ছেলেটির শরীরে মারধরের অসংখ্য দাগ আছে। তার হাতে কয়েকটা কামড়ের দাগও আছে। এ বিষয়ে আরো তথ্য পেতে ওই মহিলাকে (শ্যামলী) থানায় ডাকা হয়েছে। আমাদের ওসি স্যার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করছেন।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূঁইয়া জয়নিউজকে বলেন, বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। ছেলেটির শরীরে অসংখ্য দাগ রয়েছে। আমরা অভিযুক্ত মহিলাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। ছেলেটির পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা আসার পর রিয়াদের শরীরের দাগগুলো আগের নাকি নির্যাতনের কারণে হয়েছে তা জানা যাবে।

জয়নিউজ/এমজেএইচ
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...