চসিকের জিআইএস ম্যাপ: হাতের মুঠোয় পুরো শহর

0

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে গেলে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা দ্রুত জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) পেয়ে থাকি। প্রযুক্তির ব্যবহারে প্রয়োজনীয় তথ্য লাভের এ পদ্ধতি এদেশে এখনও সহজলভ্য হয়নি।

তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের চিন্তাধারা ভিন্ন। তাঁর হাত ধরে জিআইএস প্রযুক্তিতে চট্টগ্রাম শহরের প্রয়োজনীয় সব তথ্য এবার চলে আসছে হাতের মুঠোয়!

নগরের ৪১টি ওয়ার্ডের তথ্য নিয়ে জিআইএস ম্যাপ করছে চসিক। ম্যাপ থেকে মুহূর্তেই বের করা যাবে নগরের কোথায় কী রয়েছে। সড়ক ছাড়াও হোল্ডিং নম্বর, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সবধরনের প্রতিষ্ঠানের অবস্থানগত তথ্য মিলবে এ জিআইএস ম্যাপে।

এছাড়া নগরের কোথায় গণশৌচাগার রয়েছে সে তথ্যও নিমিষেই পাওয়া যাবে এ মানচিত্রে। অনলাইনে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে ম্যাপটি। ফলে চসিকের নিজস্ব ব্যবহারের পাশাপাশি নগরের সবাই ব্যবহার করতে পারবে এ ডিজিটাল ম্যাপ। ম্যাপটি তৈরি হলে সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়নে যেমন সহায়ক হবে, তেমনি রাজস্ব আদায় হবে আরও সুচারু।

গত ২০ মার্চ চসিকের ৪৪তম সাধারণ সভায় এ সংক্রান্ত প্রকল্প প্রস্তাবনা গৃহীত হয়। সভায় ডিজিটাল ম্যাপিং প্রকল্প বাস্তবায়নে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়ার জন্য নগর পরিকল্পনা বিভাগকে নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ডিজিটাল এ ম্যাপ তৈরিতে শিগগির টেন্ডারে যাবে সিটি করপোরেশন, এমনটাই জানিয়েছেন চসিকের প্রধান পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী একেএম রেজাউল করিম। তবে ২০১৫ সালে একই কাজটি করতে আর্ক বাংলাদেশ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল চসিক। সেই প্রতিষ্ঠানটি কাজটি সম্পন্ন করতে না পারায় চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চসিক।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগর নিয়ে ডিজিটাল ম্যাপিং না থাকায় বিভিন্নস্থান, স্থাপনা, সড়ক বা প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় ও সরকারি পর্যায়ে নামকরণে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রশাসনিক ও স্থানীয় নানামুখী সমস্যায় পড়তে হয়। এই সমস্যা দূর করতে ডিজিটাল ম্যাপিং তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে চসিক। এই ম্যাপ তৈরি হলে নগরের ভৌগলিক অবকাঠামোর সঠিক তথ্য পরিসংখ্যান প্রাযুক্তিকভাবে সংরক্ষিত থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জিআইএস একটি ডিজিটাল ভৌগলিক তথ্য জানার সফটওয়্যার। এই সফটওয়্যারে ক্যাপচার, স্টোর, ম্যানিপুলেশন, বিশ্লেষণ, পরিচালনা এবং ভৌগলিক তথ্য সন্নিবেশ করে ইন্টারেক্টিভ অনুসন্ধান তৈরি, স্থানীয় তথ্য বিশ্লেষণ ও মানচিত্রে ডাটা সম্পাদনা করা যায়। জিআইএস কখনও কখনও ভৌগলিক তথ্যবিজ্ঞান, বিজ্ঞান অন্তর্নিহিত ভৌগলিক ধারণা এবং অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেম হিসেবেও কাজ করে।

এই জিআইএস প্রযুক্তির মাধ্যমে পুরো নগরের ভূতাত্ত্বিক তথ্য সন্নিবেশিত ডিজিটাল মানচিত্র তৈরি করা হবে। এই ডিজিটাল মানচিত্র ব্যবহার করে নগরের সব ওয়ার্ড, নদী-নালা, খাল-বিল, আবাসন-বস্তি, সরকারি-বেসরকারি প্রাতিষ্ঠানিক স্থাপনা ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবন, সড়ক, পুকুর-জলাশয় থেকে শুরু করে সব ধরনের অবকাঠামো ও ভৌগলিক পরিবেশের প্রয়োজনীয় তথ্য জানা যাবে।

তাছাড়া জিআইএস হয়ে গেলে এক স্থানের দুটি নামকরণ থাকবে না। জিআইএস সিস্টেম ব্যবহার করে শুধু যে ভৌত অবকাঠামো সম্পর্কে জানা যাবে তা নয়, এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জনসংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধিসহ সমস্ত ভৌগলিক প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা অর্জন করা যাবে। জিআইএস সিস্টেম ব্যবহার করে প্রকৌশল, পরিকল্পনা, পরিচালনা, পরিবহন, সরবরাহ, টেলিযোগাযোগ ও ব্যবসায় খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।

এ ব্যাপারে জানতে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিভিন্ন সড়ক, খাল-নালা সংস্কার বা উন্নয়ন, কোনো স্থাপনার অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন করার সময় নামকরণ নিয়ে প্রায় সময় সমস্যার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকাশিত গেজেট এবং স্থানীয় পর্যায়ে নগরের বিভিন্ন এলাকার নামকরণে ভিন্নতা রয়েছে। অনেক সময় এ কারণে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এ ম্যাপ হয়ে গেলে পুরো শহরের চিত্র হাতের মুঠোয় চলে আসবে।

মেয়র বলেন, ইতোপূর্বে একই রকমের উদ্যোগের ব্যর্থতার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার সময়ে যতগুলো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার সবকটি শেষ করা হচ্ছে। আমি উদ্যোগ নিয়েছি, সেটা বাস্তবায়িত হবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, ইন্টারনেটের সাহায্য নিয়ে ডিজিটাল ম্যাপ ব্যবহার করে জনসাধারণ সহজেই নগরের ভূ-তাত্ত্বিক সব তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। আগামী প্রজন্মের জন্য উপযোগী শহর হিসেবে চট্টগ্রামকে প্রতিষ্ঠিত করতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...