গরু থেকে পশুখাদ্য, চাটাই থেকে গাছের গুঁড়ি, কী নেই বিবিরহাটে!

0

নগরের বিবিরহাটে কোরবানির পশু বিক্রির পাশাপাশি জমে উঠেছে নানা মৌসুমি ব্যবসা। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে পশুখাদ্য। তবে বাজার ঘুরে দেখা গেছে দাম বেড়েছে গো-খাদ্যের। এছাড়াও চাটাই, টুকরি, গাছের গুঁড়ি আর গরুর জন্য রং-বেরংয়ের মালা বিক্রি হচ্ছে দেদারছে।

শুক্রবার (৯ আগস্ট) বন্ধের দিন হওয়ায় বিবিরহাট বাজারে ভিড় ছিল অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশি। জুমার নামাজ শেষে অনেকেই হাটে আসেন। যদিও গরু কেনার চেয়ে ঘুরে দেখেই বেশি সময় পার করেন ক্রেতারা।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, গরু বেপারিদের চেয়ে হাঁকডাক বেশি মৌসুমি ব্যবসায়ীদের। বাজারে এক কোণায় বিক্রি হচ্ছে গো-খাদ্য। পাতা ভুষি, চিকন ভুষি, কুড়া বিক্রি হচ্ছে ১৭ টাকা থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত। যদিও এ সব পণ্যের দাম কিছুদিন আগেও দুই থেকে পাঁচ টাকা কম ছিল বলে জানান বিক্রেতারা। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে দাম বেড়েছে প্রায় সব পশু খাদ্যের। মুঠি প্রতি ৫০ টাকা করে তাজা ঘাস বিক্রেতাদেরও দেখা মিলছে হাটের আশপাশে।

বেলা ৩টার দিকে নগরের বিবিরহাট গরুর বাজার থেকে গরু কিনে বের হচ্ছিলেন বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিল তার দুই ভাগ্নে। হাট থেকে বের হতেই দেখেন কাপড় আর জরি দেওয়া বিভিন্ন সাইজের মালা। ৯৩ হাজার টাকায় গরু কিনে ভাগ্নেদের আবদারে মালার জন্য খরচ করলেন আরো ৫০ টাকা। সঙ্গে কিনলেন গরুর জন্য ভুষি-কুড়া।

ফটিকছড়ি থেকে আসা বিবিরহাটের গরু বিক্রেতা শাহেদুল আলম জয়নিউজকে বললেন, নিজের খামারের ২০টি গরু নিয়ে এসেছি বাজারে। ৪টি বিক্রি করেছি। তার মধ্যে একটা ছিল দেড় লাখ টাকার। আরো দামি গরুও আছে। তবে এখনো বাজার জমে না ওঠায় প্রত্যাশা মতো দাম পাচ্ছি না।

ভুষি-খড় বিক্রেতা দিদার জয়নিউজকে বলেন, গত ছয় বছর ধরে কোরবানির ঈদের কয়েকদিন আগ থেকে এ ব্যবসা শুরু করি। আয়-রোজগার ভালোই হয়। তবে বছরের অন্যসময় অন্য কাজ করেন বলে জানান তিনি।

দিদার বলেন, শুকনো খড় বিক্রি করি ১০০ থেকে ৩০০ টাকায়। ঘাসের মাঝারি মুঠি ১০০ টাকা, ছোট মুঠি ৫০ টাকায় বিক্রি করেন তিনি।

অন্যদিকে রাস্তায় চাটাই আর গাছের গুঁড়িও বিক্রি করছেন অনেকে। চাটাই বিক্রেতা আশরাফ জয়নিউজকে বলেন, সপ্তাহখানেক আগে রাউজান থেকে এসব পণ্য নিয়ে এসেছেন তিনি। দশ বছর যাবত কোরবানির ঈদে চট্টগ্রামে তিনি এ ব্যবসা করেন। গরু কেনার পর মানুষ মাংস কাটার জন্য চাটাই, গাছের গুঁড়ি কেনেন। তাই ঈদের এক-দুইদিন আগে ব্যবসা বেশি হয় বলে জানান তিনি।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে আকারভেদে গাছের গুঁড়ি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩৫০ টাকায়, টুকরি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১০০ টাকায় আর চাটাই বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ২০০ টাকায়।

জয়নিউজ/এমজেএইচ
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...