সরকারি ডাক্তার রোগী পাঠিয়ে দিলেন প্রাইভেট ক্লিনিকে!

0

হাটহাজারীতে সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন রোগীরা। ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট সংকট দেখিয়ে মুনাফা লাভের আশায় ডেঙ্গু শনাক্তের জন্য আসা রোগীদের পাঠানো হচ্ছে বেসরকারি হাসপাতালে।

এমনটাই অভিযোগ উঠেছে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মরত কিছু সংখ্যক চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে।

মো. রাসেল নামে পৌর এলাকার এক বাসিন্দা সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে জ্বরে আক্রান্ত আমার ছোট ভাই মো. ইয়াকুবকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ডা. সাদাবা আফরিন নামে এক চিকিৎসক তাকে দেখে এনএসওয়ান নামে ডেঙ্গু পরীক্ষাটি করাতে বলেন। এরপর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই পরীক্ষার সরঞ্জাম (কিট) সংকট জানিয়ে পৌর সদরের নির্দিষ্ট একটি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

রাসেল আরও বলেন, শুধু তাই নয়, ওই দিন চিকিৎসকের কথামতো পৌর সদরের নির্দিষ্ট হাসপাতালটিতে পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখি আমার মতো আরও কয়েকজনকে একইভাবে পাঠিয়েছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওই চিকিৎসক। অথচ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত কিট রয়েছে এবং বিনামূল্যেই পরীক্ষা করার নির্দেশনা রয়েছে।

এ ঘটনার পর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ওই চিকিৎসকের পরিচয় জানতে চাইলে সেদিন ভুক্তভোগীদের কাছে নিজের নামও গোপন করেছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অথচ ওই দিন (বৃহস্পতিবার) সকালে পৌর সদরের হাটহাজারী আধুনিক হাসপাতাল ও ইউনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন ডেঙ্গু রোগীদের পরীক্ষার জন্য ৫০টি কিট প্রদান করেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সৈয়দ মো. ইমতিয়াজ হোসাইন বিষয়টির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য বেসরকারি হাসপাতালে পে-করা টাকা ওই ডা. সাদাবা আফরিন রোগীকে ফেরত দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী মুঠোফোনে জয়নিউজকে জানান, ডেঙ্গু পরীক্ষার সরঞ্জাম থাকলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীকে ডেঙ্গু টেস্টের জন্য বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আমি এখন জানলাম। কেন তিনি (চিকিৎসক) রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়েছেন তা খতিয়ে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জয়নিউজ/বিআর
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...