চসিক সেবকদের অস্থায়ী ঘর নিয়ে মিথ্যাচার, সমালোচনার ঝড়

0

নগরের পরিচ্ছন্নকর্মীদের (সেবক) জীবনমান উন্নত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া উপহার ‘পরিচ্ছন্নকর্মী নিবাস’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সেবকদের সেখান থেকে অস্থায়ীভাবে সরিয়ে নিতে হবে। কিন্তু পরিচ্ছন্নকর্মীরা ওই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র না যাওয়ায় বাধ্য হয়ে চসিক তাদের জন্য নগরের রঙ্গম সিনেমা সড়কে অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করেছে।

তবে এ অস্থায়ী ঘরগুলোকে দোকান বলে রোববার (১১ আগস্ট)  একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক পত্রিকা। এ সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যাচার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মনে করছেন অনেকে।

জানা যায়, ২০১৮সালের ৩০ জুলাই নগরীর পরিচ্ছন্নকর্মীদের জীবনমান উন্নত করার লক্ষ্যে চসিকের গৃহীত ২৩১ কোটি ৪২ লাখ ৬৮ হাজার টাকার ‘পরিচ্ছন্নকর্মী নিবাস’শীর্ষক প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদিত হয়।

এ প্রকল্পে সরকারি তহবিল (জিওবি ফান্ড) থেকে ১৮৫ কোটি ১৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা প্রদান করা হবে। বাকি ৪৬ কোটি ২৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা চসিকের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন মাস পর্যন্ত। এই প্রকল্পের আওতায় পরিচ্ছন্নকর্মীদের জন্য ১৪ তলা বিশিষ্ট সাতটি ভবন নির্মাণ করা হবে।

এতে ১ হাজার ৩০৯টি ফ্ল্যাট থাকবে। এর মধ্যে ৩৩ নং ওয়ার্ডস্থ বান্ডেল কলোনিতে তিনাট, ফিরিঙ্গীবাজারে একটি, ২৭নং ওয়ার্ডস্থ ঝাউতলায় দুটি এবং সাগরিকায় চসিকের নিজস্ব জায়গায় একটি ভবন নির্মাণ করা হবে।

ভবনগুলোতে বসবাসকারী পরিচ্ছন্নকর্মীদের প্রতিটি পরিবারের জন্য দুইটি বেডরুম, একটি রান্নাঘর, দুইটি বাথরুম থাকবে। প্রতিটি ভবনে দুইটি লিফট থাকবে। এছাড়া তাদের ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য প্রতিটি ভবনের নিচতলায় স্কুল ও সাংস্কৃতিক কাজে ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হবে। ভবনগুলো নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত সেবকদের জন্য বান্ডেল সেবক কলোনীর রঙ্গম সিনেমা সড়কের পাশে অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করছে চসিক। বান্ডেল সেবক কলোনির সামনেই রাস্তায় নির্মাণ করা হচ্ছে সেবকদের জন্য অস্থায়ী ৩১টি ঘর।

চসিকের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ওই কলোনির সেবকদের জন্য মাদারবাড়িতে অস্থায়ী ঘর তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে তাদের স্থানান্তর করে কাজ শুরুর কথা ছিল। কিন্তু সেবকরা তাদের পুরানো নিবাস ছেড়ে অন্যকোথাও যেতে অপরাগতা প্রকাশ করে। এমনকি মাদারবাড়িতে না যাওয়ার জন্য আন্দোলনও করে সেবকরা।

অন্যদিকে মাদারবাড়ি থেকে এলাকাবাসীরা এসে মেয়রকে আপত্তিও জানান, ওই এলাকায় পরিচ্ছন্নকর্মীদের স্থানান্তর করা হলে পরিবেশ নষ্ট হবে। তাই মাদারবাড়িতে সেবকদের স্থানান্তর না করার জন্য দাবি জানান ওই এলাকাবাসী। এই নিয়ে মেয়র সেবকদের সাথে বেশ কয়েকবার বৈঠক করেন। তাদের দাবির প্রেক্ষিতেই কলোনির সামনে অস্থায়ী ঘর তৈরি করা হচ্ছে। যাতে ওখানে স্থানান্তর করে নতুন ভবনের কাজ করা যায়।

তবে এ অস্থায়ী ঘরগুলোকেই দোকান বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকা। ‘ব্যস্ত সড়ক দখল করে দোকান করছে চসিক’ শিরোনামে সংবাদটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অনেকে।

এসব স্থাপনাকে দোকান নয় দাবি করে সেবকদের বসবাসের জন্য অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে জানিয়ে চসিকের ৩২নং আন্দরকিল্লা ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী বলেন, ‘সেবকরা ওই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র যেতে চাচ্ছেন না। এছাড়া ওই স্থানে ১৪তলা বিশিষ্ট দুটি দালান হচ্ছে সেবকদের জন্য। বর্তমানে সেবকদের বসবাসের জন্যই রাস্তার উপর অস্থায়ীভাবে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। দালান নির্মাণ হয়ে গেলে সেবকদের ওই দালানে স্থানান্তর করা হবে।’

জানতে চাইলে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন জয়নিউজকে বলেন, সেবকরা বান্ডেল রোডের সেবক কলোনি ছাড়া অন্যকোথাও স্থানান্তর হতে চাচ্ছে না। আবার তাদেরকে অন্য কোনো এলাকায় স্থানান্তর করতে চাইলে ওই এলাকার মানুষরা আপত্তি জানাচ্ছে। ফলে আমরা বাধ্য হয়ে তাদের বিদ্যমান কলোনির পাশে অস্থায়ী ঘর তৈরি করে দিচ্ছি। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে তাদেরকে আবার সেখানে স্থানান্তর করা হবে এবং অস্থায়ী ঘরগুলো ভেঙে ফেলা হবে। তাছাড়া ওই সড়ক দিয়ে সেবকরা ছাড়া তেমন কোনো এলাকাবাসী চলাচল করে না। এ সড়কটিকে ব্যস্ত সড়ক বলা রীতিমত হাস্যকর।

জয়নিউজ/আরডি/বিআর
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...