যে জেলে নেই যন্ত্রণা

0

খুন, চুরি বা ডাকাতি- অন্যায় করলেই শাস্তি পাবেন। আর শাস্তি হিসেবে আপনাকে জেলে যেতে হতে পারে। জেল মানেই যন্ত্রণা এটা সবাই জানেন। কিন্তু এমন জেলও আছে, যেখানে চোর-ডাকাতরা খুশি মনে যেতে চান। কারণ সেখানে একদম ফাইভ স্টার হোটেলের মতো এলাহি বন্দোবস্ত। কোনো যন্ত্রণা নেই। শুধু আরাম।
নরওয়ের হ্যাল্ডেন জেল। সে দেশের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ জেল। ২০১০ সালে তৈরি হয় এই সংশোধনাগার।

ডেনমার্কের আর্কিটেক্ট এরিক মোলার ও ব্রিটিশ আর্কিটেক্ট এইচএলএম এই জেলটি গড়ে তোলে। জেলের বাইরের অংশ কংক্রিটের বদলে ইট, গ্যালভানাইজড স্টিল ও লার্চ কাঠে তৈরি। ইট, কাঠ, পাথরের ঘেরাটোপে গাছগাছালির সারি। বার্চ, ব্লুবেরি, পাইন গাছের সবুজে ঘেরা সংশোধনের বন্দোবস্ত। স্টিল, মানে কঠোরতা। মানে আটকের প্রতীক হিসাবে ব্যবহৃত। লার্চ, মানে কোমলতা। মানে, সংশোধন এবং বৃদ্ধির প্রতীক।

বিলাসবহুল যে কোনো পাঁচতারা হোটেলকে হার মানাবে গরাদের ওপার। সম্পূর্ণ বিনা পয়সায় ফাইভ স্টার হোটেলের সুবিধা পাওয়া যায় এখানে যতদিন খুশি। রিফ্রেশমেন্টের এলাহি বন্দোবস্ত রয়েছে এখানে। কয়েদিদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে তাদের বিনোদনের আয়োজন এখানে রয়েছে। খেলাধুলা, গান-বাজনার সময় কয়েদিদের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন জেলের কর্মীরাও।

ছোট্ট ছোট্ট সুন্দর সাজানো ঘর। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালেই চোখে পড়বে সবুজ লন, নানা রঙের ফুল। এই অন্দরমহল দেখলে পাঁচতারা হোটেল বলে ভুল হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা।
কয়েদিরা নিজেরাই এখানে ফল-সবজির চাষ করে। রান্নাও করে নিজেরাই। একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, টেলিভিশন দেখা। এই ধরনের কর্মকা-ের মধ্যে তাদের স্বাভাবিক পরিবেশের মধ্যে থাকার সুযোগ করে দিয়েছেন জেল কর্তৃপক্ষ।
জেলের দেওয়াল এবং টয়লেটের দরজায় গ্র্যাফিটি পেন্টিং করেছেন নরওয়ের আর্টিস্ট ডক। প্রত্যেকটি কুঠুরি ১১০ স্কোয়ার ফুট। প্রত্যেকটিতে রয়েছে ফ্ল্যাট স্ক্রিন টিভি, ডেস্ক, মিনি ফ্রিজ, অ্যাটাচড টয়লেট, শাওয়ার। বিশাল বিশাল জানালা। প্রত্যেকটি কুঠুরিতে খেলা করে প্রচুর আলো। প্রত্যেক ১০-১২টি কুঠুরির জন্য রয়েছে একটি ডাইনিং স্পেস, রান্নাঘর ও লিভিং রুম।

রান্নাঘরে স্টেনলেস স্টিলের বাসনপত্র, পোর্সেলিনের প্লেট এবং ডাইনিং টেবিল। লিভিং রুমে রয়েছে মড্যুলার কাউচ ও ভিডিও গেমের আয়োজন। মুদিখানা থেকে জিনিসপত্র কিনে বন্দিরা নিজেরাই রান্না করে খেতে পারে। দিনে ১২ ঘণ্টা কুঠুরির মধ্যে থাকতে হয় বন্দিদের। বাকিটা সময় কুঠুরির বাইরে।

তাদের উৎসাহ দেওয়া হয় নানা গঠনমূলক কাজকর্মে। জগিং থেকে ফুটবল, জিম থেকে রক ক্লাইম্বিং- বন্দোবস্ত রয়েছে সবকিছুর। লাইব্রেরিতে রয়েছে প্রচুর বই, ম্যাগাজিন, সিডি ও ডিভিডি। মানে, প্রকৃত অর্থেই সংশোধনাগার।

নরওয়ের অন্যান্য জেলের তুলনায় হ্যাল্ডেন জেলকে ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি প্রিজনের তালিকায় ধরা হয়। কিন্তু জেল কর্তৃপক্ষের মতে, আসামি যতই ভয়ঙ্কর হোক, তাকে মানুষ হিসাবে সম্মান দিলে, কিছুটা হলেও তার ব্যবহারে তা প্রতিফলিত হয়।

জয়নিউজ/আরসি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...