হালদা-কর্ণফুলীতে ‘বিষ’: কালো তালিকায় ২০ কারখানা

0

পরিবেশ আইনে শিল্প-কারখানায় তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনে বাধ্যবাধকতা আছে। তবে সে আইন মানছে না চট্টগ্রামের ২০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। বার-বার পরিবেশ অধিদপ্তরের নোটিশ ও জরিমানা করার পরও এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের টনক নড়েনি।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানেও নেই ইটিপি। এসব শিল্প-কারখানার বর্জ্য বিভিন্ন নালা-খাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে চট্টগ্রামের হালদা ও কর্ণফুলী নদীতে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইটিপি না থাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। এর ফলে নদীতে থাকা জীববৈচিত্র্য পড়ছে হুমকিতে।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের ১০৮টি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০টি প্রতিষ্ঠানে এখনো ইটিপি বসানো হয়নি। প্রতিষ্ঠানগুলোকে বার-বার তাগাদা দেওয়া হলেও এরা পরিবেশ আইন মানছে না। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাও করা হয়েছে।

জানা যায়, পরিবেশ আইন অনুযায়ী এশিয়ান পেপার মিল, ম্যাক পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস, আল্লামা ওয়াশিং, মদিনা ট্যানারি, কোস্টাল সি ফুড লিমিটেড, লিমেক্স ওয়াশিং, বনলতা ওয়াশিং, টিএসপি কমপ্লেক্স, ইস্টার্ন রিফাইনারি, ইউনিক ওয়াশিং, ডিউড্রপ, চিটাগাং ওয়াশিং, মেঘনা সি ফুড, নুরজাহান অয়েল, বে ফিশিং, ইলিয়াছ ব্রাদার্সের এডিবেল অয়েল রিফাইনারি, ভিওটিটি অয়েল রিফাইনারি, এক্সপোর্ট প্যাক লিমিটেড, ফেব্রিক্স কানেকশন ও অ্যাকোয়া ফুড লিমিটেড ইটিপি বসাতে ব্যর্থ হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন জয়নিউজকে বলেন, ‘সাধারণত তরল বর্জ্যের মাধ্যমে একেক প্রতিষ্ঠান থেকে একেক ধরনের দূষণ ছড়ায়। ওয়াশিং প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ডিটারজেন্ট ও রঙ নিঃসরণ হয়। আর ট্যানারি ও রিফাইনারি থেকে অর্গানিক ও বিভিন্ন ধরনের হ্যাজার্ড বের হয়, যা পানির সঙ্গে মেশার ফলে পানির গুণাগুণ নষ্ট হয়।’

‘আবার অর্গানিক ম্যাটার বেশি থাকার কারণে পানিতে থাকা ব্যাকটেরিয়াগুলো নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া ভারি ধাতু বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে থাকে। ফলে মানুষের ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এ ধরনের দূষণ রোধ করতে ফাংশনাল ইটিপি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি উন্নত দেশের মতো কেন্দ্রীয় তরল বর্জ্য শোধনাগার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে’, যোগ করেন তিনি।

জানা যায়, বিভিন্ন সময় পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে নোটিশ দেওয়ার পরও ইটিপি স্থাপন না করায় জরিমানা করা হয় এসব প্রতিষ্ঠানকে। আবার যেসব প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইটিপি স্থাপন করতে পারবে না, তাদের মাসিক হারে জরিমানাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে এক হাজার টাকা থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা নির্ধারণ করে দিয়েছে অধিদপ্তর।

পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগর অঞ্চলের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক জয়নিউজকে বলেন, ‘পরিবেশ আইন অনুযায়ী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ইটিপি থাকা বাধ্যতামূলক। ইটিপি না থাকলে উৎপাদনকাজ চালানোর অনুমতি নেই। চট্টগ্রামে ইটিপি না থাকার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। আবার যারা নির্দিষ্ট সময়ে ইটিপি স্থাপন করতে পারবে না, তাদের কাছ থেকে মাসিক হারে জরিমানা আদায় করা হবে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নগরে ইটিপি স্থাপনের হার বাড়ছে।’

জয়নিউজ/এমজেএইচ
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...