‘বন্দরের উন্নয়নে কথা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী’

0

‘চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নে কথা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি তার প্রতিশ্রুতির সবটুকুই বাস্তবায়ন করেছেন। যা আজ দেশবাসীর সামনে দৃশ্যমান। মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নগরের হোটেল রেডিসনে বে টার্মিনাল নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের টাকা হস্তান্তরের সময় নৌ মন্ত্রী শাহজাহান খান এসব কথা বলেন।

নৌ মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর আজ উন্নয়নের একটি রোল মডেল। গত দশ বছরে এ বন্দর অনেক গুণ এগিয়েছে। বিশ্ব নৌ বাণিজ্যে বাংলাদেশকে এই বন্দর একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে কর্ণফুলী চ্যানেলে নাব্যতা ৯.২ মিটার থেকে ৯.৫ মিটারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে জাহাজের চলাচলের পরিসর ১৮৬ মিটার থেকে ১৯০ মিটারে উন্নীত হয়েছে। এতে জাহাজে কন্টেইনার পরিবহণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য ৩০ বছর মেয়াদী একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। ওই পরিকল্পনায় পতেঙ্গার উত্তরে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য ৪ কিলোমিটার বে টার্মিনাল উল্লেখ করা হয়েছে।

বন্দরের সমৃদ্ধির কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, বন্দরের রিজার্ভ আগে ছিল ৫০০ কোটি টাকা। বর্তমানে এ রিজার্ভের পরিমাণ ১৪০০ কোটি টাকা। ২০০৯ সালে এ বন্দর ছিল বিশ্বের ৯৮তম। এখন ২৭ ধাপ এগিয়েছে। ২০১৭-২০১৮ সালে এ বন্দর ২৮ লক্ষ টিইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডেল করেছে। পরামর্শকদের দেয়া হিসেবে, নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালে ১০টি শিপ-টু-শোর গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হলে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিবছর ১০ হাজার টিইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। ১০টি শিপ-টু-শোর গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি এ মাসের শেষে এনসিটিতে যুক্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, চারটি নতুন জেটি নির্মাণসহ পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে এগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হবে। এর ফলে চার ধেকে পাঁচ বছর চট্টগ্রাম বন্দরের ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধি মোকাবেলা সম্ভব।

বে টামির্নালের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বে টার্মিনালের জন্য প্রায় ৯০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। যার মূল্য হচ্ছে ৩৫২ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এ টাকা আজ আমরা হস্তান্তর করলাম। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৮২১ একর জমি বে টার্মিনালের জন্য অধিগ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, বে টার্মিনাল নির্মিত হলে বন্দর নির্মাণের অবস্থানগত উপযুক্ততা বাড়বে। জাহাজ চলাচলের জন্য উপযুক্ত নাব্যতা তৈরি হবে। একই সাথে পশ্চাৎভূমির সাথে সড়ক ও রেলপথের যোগাযোগ সুবিধা নিশ্চিত হবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান জেটিগুলোতে ৯.৫০ মিটার গভীরতা সম্পন্ন জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হয়। এর বেশি গভীরতার জাহাজগুলো বহিঃনোঙরে প্রথমে খালাস করা হয়। ৯.৫০ এর মধ্যে এলে জাহাজটিকে বন্দরের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু বে টার্মিনাল নির্মিত হলে ১০ থেকে ১২ মিটার গভীরতা সম্পন্ন জাহাজ অনায়াসে বাথিং করতে পারবে। এতে বাঁচবে সময়, সাশ্রয় হবে টাকা।

বে টার্মিনালের সুবিধার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এ টার্মিনাল নির্মিত হলে ৩০ থেকে ৩৫টি জাহাজ এক সাথে বাথিং করা সম্ভব হবে। এ টার্মিনালে ৫০০০ কন্টেইনার বহন ক্ষমতার জাহাজও বাথিং করতে পারবে। বর্তমানে নিউ মুরিং কন্টেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) ১৬ থেকে ১৭টি জাহাজ বাথিং করে থাকে। তিনি আরও বলেন, বে টার্মিনাল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ বিলিয়ন ডলার। সচল হওয়ার ১১ বছরের মধ্যেই এ টার্মিনাল নির্মাণের অর্থ উঠে আসবে।

প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন ভাবনার কথা বলতে গিয়ে নৌ মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভালবাসা আজ প্রমাণিত। তিনি পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরু করে দিয়েছেন। চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নের খোঁজখবর প্রধানমন্ত্রী নিজেই রাখতেন। এ বন্দরের উন্নয়নে তিনি নিয়মিত নির্দেশনা দিয়েছেন।

খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী বলেছিলেন, জোড়াতালি দিয়ে এই সেতু হচ্ছে। আমি আশা করবো জেল থেকে বেরিয়ে জোড়াতালির এ সেতু ব্যবহার করবেন না। আপনার নেতাকর্মীরাও যেন এ সেতু ব্যবহার না করে। আপনাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করে রাখবো।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মিথ্যাচার দেশবাসীর কাছে জানা আছে। তার নেতৃত্বে ২০১৫ সালে দেশজুড়ে পেট্রোলবোমা সন্ত্রাস হয়েছিল। গণতন্ত্রের নামে মানুষ পুড়িয়ে তিনি ক্ষমতায় আসতে চেয়েছিলেন। এখন নির্বাচন এসেছে, তিনি পালাবার পথ খুঁজছেন। কারণ মাঠে নামলে তাকে জবাব দিতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ এর উন্নত রাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জনের সফল বাস্তবায়ন আমাদের অঙ্গীকার। বাংলাদেশকে উচ্চ প্রবৃদ্ধির দেশে পরিণত করতে চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ জরুরি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান কমোডর জুলফিকার আজিজ,  চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোঃ ইলিয়াস হোসেন, চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম প্রমুখ।

জয়নিউজ/এফও/জেডএইচ

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...