আমার চিঠি কী অবৈধ, প্রশ্ন রুমিনের

0

‘আমার চিঠিটা কী অবৈধ? যদি অবৈধ হয় তাহলে কোন আইনে অবৈধ? এটা কি অনৈতিক কোনো আইনে অনৈতিক? এটা তো রাষ্ট্রীয় চিঠি।’

রোববার (২৫ আগস্ট) প্লটের আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

তিনি বলেন, আমি তো সরকারের কাছ থেকে কিছুই চাইনি। আমার বেতনটা যেমন রাষ্ট্রীয়, আমার এই অ্যাপ্লিকেশনও রাষ্ট্রীয়।

তিনি আরো বলেন, যারাই সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলবে, সরকারের কাজের সমালোচনা করবে, তাদের হিউমিলেটেড করা বা তাদের কোনো না কোনোভাবে ম্যালাইন করা।

রুমিন ফারহানা বলেন, এই সরকার আমাদের ফোনে আড়ি পাতে, সরকার আমার ফেসবুক হ্যাক করেছে, এই সরকার আমাদের সমস্ত গোপন নথি ইচ্ছে করে প্রকাশ করে।

‘গত এক মাস আমার ফেসবুক হ্যাক হয়ে আছে। আমি বিষয়টি দেখিনি। তবে ফেসবুকে আমার যে চিঠিটা ভাইরাল হয়েছে সেটা রাষ্ট্রীয় সুযোগ বা রাষ্ট্রীয় অধিকার।

আমি স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, আমি এই সরকারের কাছ থেকে এক সুতা জমিও আশা করি না, আমি চিন্তাও করি না। এটা একটি প্রসিডিউর, একটি ফরমালিটিজ যেটা সব এমপি করেছেন, আমিও করেছি।’

আরও পড়ুন: রুমিন ফারহানার প্লট চাওয়ার আবেদন ভাইরাল

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য রাষ্ট্র থেকে জায়গার জন্য অ্যাপ্লাই করতে পারেন সেই সুযোগ তার আছে, তিনি একটি ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি আনতে পারেন সেই সুযোগ তার আছে, তিনি বেতন-ভাতা পান এবং তিনি পাঁচ বছরের জন্য একটা অ্যাপার্টমেন্ট পান- এই চারটি জিনিস হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সুযোগ। এই রাষ্ট্রীয় সুযোগ যিনি সাংসদ হবেন তিনিই রাষ্ট্র থেকে পাবেন। সেই সুবাদে আমি একটি আবেদনপত্র দিয়েছি। শুধু আমি একা নই, অন্তত তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ এমপি অ্যাপ্লিকেশন দিয়েছেন।

‘এখন আমার প্রশ্ন হলো- আমার চিঠিটা মন্ত্রণালয় থেকে বেরুলো কী করে? যেখানে আমার ব্যক্তিগত টেলিফোন নম্বর দেওয়া আছে? আমি এখন চ্যালেঞ্জ করবো- যতজন এমপি অ্যাপ্লিকেশন করেছেন সব প্রকাশ করা হোক। রুমিন কেনো একলা?’

‘এই চিঠি আমি ড্রাফটও করিনি, আমার পিএস ড্রাফট করে দিয়ে দিয়েছে। সব পিএসরা যখন তাদের এমপিদের চিঠি ড্রাফট করেছে, আমার পিএসও ড্রাফট করে দিয়েছে। কিন্তু আমার চিঠিটা কেনো ভাইরাল হলো? এটা ভাইরাল কেনো হলো তার উত্তর আমি নিজেই দিচ্ছি।’

রুমিন ফারহানা বলেন, গত দু’দিন আগে আবুল মাল আবদুল মুহিত (সাবেক অর্থমন্ত্রী) কোনো পদে না থাকা অবস্থায় শুল্কমুক্ত গাড়ি এনেছিলেন। সরকার তার সেই নোংরামি ও অসততাকে চাপা দেওয়ার জন্যে আমার যে বৈধ অ্যাপ্লিকেশন সেটা নোংরাভাবে পাবলিক করেছে। একটা সরকারি নথি কখন পাবলিক হয় যখন সেখানে সরকারের মদদ থাকে।

‘এই সরকার যে অবৈধ এটা এখন বলছি, আগেও বলেছি- এটা সম্পূর্ণ অবৈধ সরকার। এটা জনগণের ভোট ছাড়া নির্বাচিত সরকার। এই সরকার সর্ব অর্থে অবৈধ সরকার। আমি সরকারের কাছে কোনো কিছু চাইনি। আমি রাষ্ট্রীয় সুযোগ চেয়েছি। এটা তারা (সরকার) করেছে আবুল মাল আবদুল মুহিতকে যে অবৈধ ও অনৈতিক সুবিধা দিয়েছে ওইটাকে চাপা দেওয়ার জন্য, জনদৃষ্টিকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার জন্য। যাতে মানুষের দৃষ্টি অন্য দিকে যায়।’

প্রসঙ্গত, রুমিন ফারহানা বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। একাদশ নির্বাচনে নারী সংরক্ষিত আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর গত ৩ আগস্ট পূর্বাচলে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ চেয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন। একটি দৈনিক পত্রিকা এ নিউজ করার পর রোববার তা ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

জয়নিউজ/এসআই

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...