দালাল ধরে পাসপোর্ট বানাচ্ছে রোহিঙ্গারা

0

রোহিঙ্গাদের নিয়ে নতুন সংকটের মুখে পড়েছে প্রশাসন। রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে বিভিন্নভাবে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে তারা তৈরি করছে পাসপোর্ট। ‘দালালদের’ টাকা দিলেই মিলছে বাংলাদেশি জন্মসনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র!

গত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামের দুটি পাসপোর্ট অফিসে আবেদন করতে এসে আটক হয়েছেন অন্তত একশ’ রোহিঙ্গা। পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা জয়নিউজকে বলছেন, বাংলাদেশি পরিচয় নিয়েই জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, স্মার্ট আইডি কার্ডসহ তারা পাসপোর্ট করতে আসছেন। রোহিঙ্গাদের ভাষার সঙ্গে এ অঞ্চলের ভাষা মিল থাকায় তারা সহজে মিশে যেতে পারে। ফলে তাদের শনাক্ত করতে কষ্ট হচ্ছে। আর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্বাভাবিক পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের।

গত বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ তিন রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করেছে আকবর শাহ থানা পুলিশ। তারা তুরস্কের ভিসা পেতে ঢাকা যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে জানান থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি জয়নিউজকে বলেন, দুই ভাইসহ এক রোহিঙ্গা যুবক দালালের মাধ্যমে নোয়াখালী পাসপোর্ট অফিস থেকে পাসপোর্ট করিয়ে নেয়। ‘ইউরোপিয়ান রোহিঙ্গা কাউন্সিল’ নামের একটি সংগঠনের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে তাদের যোগাযোগ হয়। আদালতের নির্দেশে গ্রেপ্তার তিন রোহিঙ্গা মো. মুছা, মো. ইউসুপ ও মো আজিজ এখন কারাগারে রয়েছে।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তাদের এই কাজে সহযোগিতা করা দুইজনের নাম আমরা পেয়েছি। সম্ভবত একজন বাংলাদেশি এবং আরেকজন রোহিঙ্গা। তাদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চলছে। তাদের ধরতে পারলে এই চক্রের অন্যদের পরিচয় বের হয়ে আসবে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের পরিচালক মো. আবু সাইদ জয়নিউজকে বলেন, এ বিষয়ে আমরা সতর্ক আছি। আমাদের কর্মকর্তাদের একটু সন্দেহ হলেই তারা পুলিশের সাহায্য নিচ্ছেন। তবে রোহিঙ্গারা যেভাবে সহজে জনপ্রতিনিধিদের থেকে সনদ পাচ্ছে সেটা ঠিক না।

এদিকে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট নেওয়া ঠেকাতে তথ্য যাচাইয়ের নথিতে ১৮ নির্দেশনা দিয়েছে চট্টগ্রাম পুলিশের বিশেষ শাখা। পাসপোর্টের তথ্য যাচাইকারী কর্মকর্তারা এসব নির্দেশনা ঠিকভাবে অনুসরণ করলে ভুয়া তথ্য দিয়ে পাসপোর্ট করা যেকারো জন্য কঠিন হবে বলে বলেছেন চট্টগ্রাম পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মনজুর মোরশেদ।

তিনি জয়নিউজকে বলেন, সম্প্রতি মিথ্যা তথ্য দিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এটা রোধ করতে নতুন করে ১৮টি নির্দেশনা যুক্ত করা হয়েছে।

এসব নির্দেশনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ২০০০ সালের আগে জন্মগ্রহণকারীদের অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র লাগবে। তা অনলাইনে যাচাই করে যাচাইকারী কর্মকর্তা এতে স্বাক্ষর করবেন। তদন্তকারী অফিসারকে সরেজমিন স্থায়ী/বর্তমান ঠিকানা যাচাই করতে হবে।

এদিকে রোহিঙ্গাদের বিষয়টিকে বাংলাদেশের জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেছেন রোহিঙ্গা গবেষক অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির উদ্দিন। তিনি জয়নিউজকে বলেন, রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট নেওয়ার ঘটনা এবারই তো প্রথম নয়। ১৯৭৮ সাল থেকেই তারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বাইরের দেশে যাচ্ছে। আড়াই লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বাইরে আছে। তাদের বিভিন্ন অপকর্মের দায় বাংলাদেশকে নিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের রাষ্ট্রীয়-প্রশাসনিক যে দুর্নীতি-অদক্ষতা সেগুলার সুযোগ নিচ্ছে রোহিঙ্গারা। আর আরেকদল বাঙালি তাদের নিয়ে ব্যবসা করতে বসে আছে। এসব বিষয়ে নজর না দিয়ে শুধু রোহিঙ্গাদের দায়ী করাটাকে সঠিক মনে করেন না তিনি।

জয়নিউজ

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...