কী বার্তা পেল ছাত্রলীগ?

0

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদ্যসাবেক সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনেক। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ তাদের কর্মকাণ্ডে বিরক্ত ছিলেন অনেকদিন। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনেও উঠে আসে নেতিবাচক অনেক তথ্য।

একপর্যায়ে খবর পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত। কঠোর অবস্থান নেন প্রধানমন্ত্রী। অব্যাহতি দেওয়া হয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে।

কী বার্তা পেলেন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শোভন-রাব্বানীকে অব্যাহতি বড় ধরনের সতর্কবার্তা হয়ে এসেছে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের জন্য। দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, ব্যক্তির অপকর্মের ভার দল নেবে না। প্রয়োজনে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতেও দেরি করবে না কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড।

ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ জয়নিউজকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার বাইরে গিয়ে ছাত্রলীগ করা যায় না। ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি নিদের্শ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে।

এদিকে রোববার দুপুরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের বাধ্যতামূলক পদত্যাগ করানো হয়। বাংলাদেশে এই প্রথম শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেই ছাত্রলীগের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স অবস্থানে রয়েছে। যেই অন্যায় করুক, ছাড় দেওয়া হবে না।

শোভন-রাব্বানীর বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
২০১৮ সালের ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

কমিটি গঠনের বছর পার না হতেই তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠে আসতে থাকে। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের ওপর রীতিমতো বিরক্ত হয়ে পড়েন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় নেতাদের ফোন রিসিভ না করা, কর্মসূচিতে দেরি করে যাওয়া, প্রধান অতিথিদের বসিয়ে রাখার মতো অভিযোগ ওঠে শোভন-রাব্বানীর বিরুদ্ধে।

অভিযোগের সেখানেই শেষ নেই। ছাত্রলীগের জেলা পর্যায়ের সম্মেলন করতে না পারা, রাতজাগা ও দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা, বিতর্কিতদের দিয়ে কমিটি গঠনের অভিযোগও ছিল তাদের বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, তাদের প্রত্যাশিত মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তোলেন নেতা-কর্মীরা।

সর্বশেষ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে চাঁদা দাবি নিয়ে বড় ধরনের সমালোচনার মুখে পড়েন শোভন-রাব্বানী।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...