‘রিকশাচালককে মারধরে বাধা দেওয়ায় মিথ্যা অভিযোগ’

0

বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনিয়র দ্বারা বয়স্ক রিকশাচালককে মারধর করার সময় বাধা দিয়েছিলেন তিনি। যার কারণে সয়েছেন খারাপ আচরণ। এছাড়াও করা হয়েছে বরাদ্দকৃত কক্ষ ভাঙচুর ও লুটপাট। সম্প্রতি যোগ হয়েছে প্রক্টর বরাবর দেওয়া ‘প্রাণনাশের হুমকির বানোয়াট অভিযোগ’।

সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রক্টর বরাবর এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ ও প্রতিবাদলিপি দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র রমজান হোসাইন।

এর আগে রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আহাম্মদ উল্লাহ রাব্বি প্রক্টর বরাবর ‘ছাত্রলীগের সভাপতির অনুসারী’ উল্লেখ করে অজ্ঞাত আটজনসহ অন্তত তেরজনের বিরুদ্ধে মারধর, ছিনতাই ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ দেয়। যেখানে তৃতীয় অভিযুক্ত ছিল রমজান।

যদিও রাব্বির অভিযোগ দেওয়ার পূর্বে ১০ সেপ্টেম্বর রাব্বিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে নিজের রুম ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ দেয় রমজান।

আরও পড়ুন: ছাত্রলীগ সভাপতির প্রভাব খাটিয়ে প্রাণনাশের হুমকি!

প্রতিবাদলিপিতে রমজান উল্লেখ করেন, ‘১০ সেপ্টেম্বর আনুমানিক রাত নয়টার সময় রাব্বি নামক এক শিক্ষার্থী একজন বয়স্ক রিকশাচালককে ভাড়া নিয়ে মারধর করে। লোকটির বয়স সর্বনিম্ন ষাট বছর। তা আমার চোখে পড়লে আমি এগিয়ে যাই। তখন রাব্বি নামের ছেলেটি আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে এবং কথা কাটাকাটি হয়। যার জের ধরে আমার বরাদ্দকৃত রুমে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। কিন্তু গতকাল আমিসহ ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের আইন বিভাগের ছাত্র সাদাফ কবির, একই শিক্ষাবর্ষের অর্থনীতি বিভাগের শাওন, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ইতিহাস বিভাগের রাসেল এবং সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের রিফাত ও মোহনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের নামে অভিযোগ দেওয়া হয় যা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার সহপাঠী ও ভাইদের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যই মিথ্যা অভিযোগ দেয়। সে যে ধরণের অভিযোগ দেয়, তা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে নাই।’

রমজান জয়নিউজকে বলেন, রাব্বি আমার হলের ছোট ভাই। সে রিকশাওয়ালাকে মারতে দেখে আমি তাকে বাধা দিই। এতে সে আমার উপর চড়াও হয়। মারতেও চায় আমাকে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমি তাকে একটা থাপ্পড় মারি। বড় ভাইয়েরা সেটার সমাধানও করে। কিন্তু বুধবার রাতে আমার রুম ভাঙচুর করে লুটপাট করে তারা। আমি সেটার অভিযোগ দেওয়াতে সে ঘটনার ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে আমাদের বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ করেছে।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে আমি, রিকশাওয়ালা আর রাব্বি ছিলাম। এছাড়া যতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে সব ভিত্তিহীন।

এ বিষয়ে মারধর ও হুমকির অভিযোগের আরেক অভিযুক্ত ও আইন বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র সাদাফ কবির জয়নিউজকে বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। রিকশাওয়ালার সঙ্গে ঝামেলা করায় রমজান তাকে শাসিয়েছিল। কিন্তু ছিনতাইয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আর সভাপতির পরিচয় দিয়ে হুমকির প্রশ্নই আসে না। আমরা প্রশাসনের কাছে আমাদের বক্তব্য জানিয়েছি। আর হাটহাজারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করব।

তবে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আহাম্মদ উল্লাহ রাব্বি জয়নিউজকে বলেন, তাদের অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। নিজেদের অপরাধ ঢাকতেই এরূপ মিথ্যাচার করছে তারা।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রণব মিত্র চৌধুরী জয়নিউজকে জানান, আমরা একটা প্রতিবাদলিপি পেয়েছি। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখব।

জয়নিউজ/নবাব/এসআই
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...