মামলায় ফাঁসাতে খুন…

0

শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে মামলায় ফাঁসাতে গিয়ে ধারালো দা দিয়ে মো. আরিফ নামে এক গরুর ফার্মের কর্মচারীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে কোরবান আলী প্রকাশ বেলাল হোসেন (২৮)।

বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর রাতে হাটহাজারী পৌরসদরের সবজি বাজার থেকে মডেল থানা পুলিশ বেলালকে আটক করে। আটকের পর বেলাল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরিফকে হত্যার দায় স্বীকার করে পুলিশের কাছে।

আটক বেলাল ফটিকছড়ির মানিকপুর মাইজপাড়া খন্দকারপাড়া বদিউল মেম্বার বাড়ির বদিউল আলমের ছেলে।

বেলাল বর্তমানে হাটহাজারীর চৌধুরীর হাট রেল স্টেশনের পশ্চিমে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাহাড়তলী জামশেদের বাড়ির ভাড়া বাসায় বসবাস করত বলে জানা গেছে।

থানা পুলিশ সূত্র জানায়, শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকাল তিনটার দিকে হাটহাজারীর ধলই ইউনিয়নের সফিনগর গ্রামের আবদুর রহমান টেন্ডল বাড়ির উত্তর পার্শ্বে তৈল্যবিল নামক ধানি জমি থেকে পুলিশ ১৮বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা যুবকের লাশ উদ্ধার করেছিল। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা (নম্বর-৩১) করে।

ওই মামলার সূত্র ধরে বুধবার ভোরে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল হাটহাজারী পৌরসদরের সবজি বাজার থেকে বেলালকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক বেলাল অজ্ঞাতনামা ওই যুবকের নাম মো. আরিফ (১৮) বলে জানায়। এছাড়া বেলাল আরও জানায়, তার দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী রোকসানা বেগম সঙ্গে পারিবারিক কলহ লেগে ছিল। বছরখানেক আগে তার স্ত্রী বাপের বাড়িতে চলে গেছে।
এই কারণে বেলাল তার স্ত্রী, শ্বশুর-শ্বাশুড়ি, শ্যালকসহ শ্বশুড় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মামলায় ফাঁসানোর জন্য আরিফকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে বলে জানায় হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মো. আবেদ আলী। তবে আরিফের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় এখনও পাওয়া না গেলেও সে উপজেলার চৌধুরীর হাট রেল স্টেশনের পশ্চিমে চসিক এর ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুব চৌধুরী বাড়ির জনৈক জানে আলমের গরুর ফার্মের কর্মচারী বলে থানা সূত্রে নিশ্চিত করে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ পরিদর্শক (ইন্টেলিজেন্স) রাজিব শর্মা জয়নিউজকে জানান, শ্বশুরের পরিবারকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে গত বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় ঘাতক বেলাল তার শ্বশুর বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ানোর নাম করে গরুর ফার্মের কর্মচারী আরিফকে নিয়ে এবং একটি ধারালো দা কোমড়ে গুজে সিএনজিযোগে ওই এলাকায় নিয়ে যায়। এরপর বেলাল কর্মচারী আরিফকে জানায় যে, এখন শ্বশুর বাড়িতে যাওয়া যাবে না, লোকজন আছে। এখানে (জনৈক নাজিম উদ্দিনের ধানক্ষেতে) একটু বসতে বলে। তার কথা মত আরিফ তার পায়ে থাকা স্যান্ডেল খুলে স্যান্ডেলের উপর ধানক্ষেতের আইলে বসে পড়ে।

তিনি আরও জানান, এলাকায় মানুষের আনাগোনা কমে গেলে রাত অনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে বেলার তার কোমড়ে গুজানো থাকা দা বের করে গলায় দুটি কোপ দিলে আরিফ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।

পরবর্তীতে বেলাল ওই রাতে ঘটনাস্থল থেকে সুকৌশলে চলে আসে এবং চিরকুটের ফটোকপি করে বিভিন্ন জায়গায় বিলি করে।

এদিকে বুধবার দুপুরে বেলালকে থানা পুলিশ আদালতে পাঠিয়ে দেন। পরে আদালতের কাছে তার রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত, শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে হাটহাজারীর ধলই ইউনিয়নের সফিনগর গ্রামের আবদুর রহমান টেন্ডল বাড়ির উত্তর পার্শ্বে তৈল্যবিল নামক ধানি জমি থেকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে আরিফ নামে ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। ওই দিন বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে লাশটির সুরেতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি চমেক হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়।

জয়নিউজ/তালেব/বিআর
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...