ভাসমান হকার থেকে টাকা নেয় স্পেক্ট্রা, জানে না সিডিএ!

0

নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে নবনির্মিত ওয়াকওয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে। এ কাজের জন্য তারা দৈনিক হারে টাকা নিচ্ছে ভাসমান হকার থেকে। এজন্য একজন সাপ্লাইয়ারও নিয়োগ দিয়েছে তারা। অথচ এ ব্যাপারে কিছুই জানে না পতেঙ্গা সৈকতে সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

জানা যায়, পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত উপকূলীয় বাঁধ কাম আউটার রিং রোড নির্মাণ নামে প্রকল্পের আওতায় ১৭ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করছে সিডিএ। পতেঙ্গা সৈকতের সাড়ে ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নানা সৌন্দর্যবর্ধক প্রকল্পও বাস্তবায়ন করছে সংস্থাটি। এতে পতেঙ্গা সৈকতে বেড়ে গেছে দর্শনার্থীদের সংখ্যা। এ ওয়াকওয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে। সিডিএর সঙ্গে চুক্তি ছিল তারা নিজস্ব অর্থায়নে এ কাজটি করবে।

তবে নিজেদের টাকা বাঁচানোর জন্য প্রতিষ্ঠানটি নিয়েছে ভিন্ন একটি পথ। সিডিএকে না জানিয়ে তারা স্ব-প্রণোদিত হয়ে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে এ দায়িত্ব দিয়েছে। আর কার্যাদেশ লিপিতে উল্লেখ করেছে, সৈকতে ভাসমান হকারদের থেকে ২০-৩০ টাকা করে উত্তোলন করতে। কারণ যে প্রতিষ্ঠানকে তারা এ দায়িত্ব দিয়েছে তাদের কোনপ্রকার টাকা দেবে না স্পেক্ট্রা। কার্যাদেশে সে কথাটিও স্পষ্ট আছে। অর্থাৎ সৈকতে ভাসমান হকার থাকার কথা না থাকলেও চাঁদা নিয়ে সেটিকে বৈধতা দিচ্ছে স্পেক্ট্রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভাসমান হকারদের থেকে টাকা নেওয়ার কারণে তাদের কাছ থেকে কেনা জিনিসের দাম বেশি। ১০ টাকার একটি চিপস তারা বিক্রি করছে ২০ টাকা। আর ১৫ টাকার কোমল পানীয় বিক্রি করছে ২৫-৩০ টাকায়। এতে চরম বিরক্ত সৈকতে আসা দর্শনার্থীরা।

সৈকতে ঘুরতে আসা এক দম্পতি জয়নিউজকে বলেন, এখানে সবকিছুর দাম বাড়তি। যে চিপস বাইরে ১০ টাকা সেইটা হকারদের কাছ থেকে নিলে ২০ টাকা। কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা বলে, এখানে জিনিস বিক্রির জন্য তাদের দৈনিক চাঁদা দিতে হয়। তাই পোষানোর জন্য দাম বেশি রাখা হয়।

এদিকে স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড থেকে এ কাজের দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স রুবেল নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. রুবেল ও তার প্রতিষ্ঠানের ৪ জন কর্মী প্রতিদিন সৈকতে ভাসমান হকারদের থেকে টাকা তোলেন। স্পেক্ট্রা থেকে তিনি অনুমতি নিয়ে টাকা তুলছেন বলে জানান জয়নিউজকে।

রুবেল আরো বলেন, স্পেক্ট্রা থেকে বলে দিয়েছে ভাসমান হকারদের থেকে টাকা তুলতে। তাই আমরা টাকা তুলি। ওই টাকা আমরা ভাগ করে নিই। এভাবে কোনদিন ৭০০, আবার কোনদিন ১৫০০ টাকাও ওঠে। তবে যেদিন বৃষ্টি হয় সেদিন হকার না থাকায় তেমন টাকা পাওয়া যায় না।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. রবিউল হক জয়নিউজকে বলেন, সিডিএ আমাদেরকে পরিচ্ছন্নতার কাজটি দিয়েছে। সৈকত পরিষ্কারের জন্য আমাদের কিছু লোকও ছিল। কিন্তু অর্থ সংকটের কারণে আমরা তাদের বেতন দিতে পারিনি। তাই অন্য প্রতিষ্ঠানকে এ কাজের দায়িত্ব দিয়েছি।

হকারদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু আমরা তাদের কোনো টাকা দিতে পারব না তাই হকারদের থেকে ২০-৩০ টাকা করে নেওয়ার জন্য বলেছি। তবে সিডিএ আমাদের এ ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা দেয়নি।

সিডিএকে না জানিয়ে এভাবে টাকা নেওয়া যায় কিনা- এ প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সিডিএতো আমাদের কোনো টাকা দিচ্ছে না। তাই খরচ পোষানোর জন্য আমরা টাকা নিচ্ছি।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ জয়নিউজকে বলেন, স্পেক্ট্রাকে সৈকত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে হকারদের থেকে টাকা তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এরকম যদি হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জয়নিউজ/এসআই

সরাসরি আপনার ডিভাইসে নিউজ আপডেট পান, এখনই সাবস্ক্রাইব করুন।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...