ক্যাসিনো কাণ্ড: আইনের দুর্বলতা ও প্রত্যাশা

0

যে ক্যাসিনো বা জুয়া খেলা নিয়ে এত হইচই সেই বিষয়ে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনটি বহু পুরোনো এবং শাস্তি যৎসামান্য। আইনটি আবার ক্যাসিনোখ্যাত শহর ঢাকা সহ মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রযোজ্য নয়!

The Public Gambling Act,1867 এর ধারা-১ এ বলা হয়েছে ‘ This Act may be called the public gambling act,1867 and shall extend to the whole of Bangladesh except a Metropolitan area. অর্থাৎ প্রকাশ্যে জুয়া খেলা আইনটি মেট্রোপলিটন এলাকা ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য হবে। এই আইনটি বৃটিশ আমলের এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ এর ডিক্লেয়ারেশনের মাধ্যমে আইনটিকে বলবৎ করা হয়েছে।

আইনটির ধারা-৩ এ জুয়াখেলা অপরাধের শাস্তি সর্বোচ্চ ২০০ টাকা অর্থদণ্ড অথবা ৩ মাস জেল বা উভয় দণ্ড উল্লেখ আছে। অথচ যে ক্যাসিনো( জুয়ার আধুনিক ভার্সন ক্যাসিনো) খেলার মাধ্যমে যারা শতকোটি টাকার মালিক তাদের জন্য এই শাস্তি মামুলি ব্যাপার। আর ক্যাসিনো খেলার নিরাপদ জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে রাজধানী ঢাকা শহরের বিখ্যাত ক্লাবগুলোকে। সেই মেট্রোপলিটন শহর ঢাকাতে প্রচলিত আইনটি বলবৎ নয়। সেখানে পুলিশ প্রকাশ্যে জুয়া বিরোধী অভিযান চালায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স এর ৯২ ধারা অনুযায়ী আর চট্টগ্রাম শহরে অভিযান পরিচালনা করা হয় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন অর্ডিন্যান্স ৯৪ ধারা অনুযায়ী। সেখানেও শাস্তি যৎসামান্য ১০০/- টাকা জরিমানা মাত্র।

অর্থাৎ মেট্রোপলিটন এলাকাতে প্রচলিত আইনের সাথে মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স সাংঘর্ষিক। এবং পুলিশ অর্ডিন্যান্স নীরব থাকলে ঢাকাসহ মেট্রোপলিটন এলাকাতে ক্যাসিনো বৈধ!

বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৮(২) এ বলা আছে- গণিকাবৃত্তি ও জুয়া নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন হল সংবিধান এবং সংবিধানের Safe Guard হল বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট। আপাতত নতুন আইন না হওয়া পর্যন্ত সংবিধানের আলোকে জুয়া/ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালত এই বিষয়ে শক্তিশালী একটি গাইডলাইন দিতে পারেন। না হয় আইনের দুর্বলতা ও ফাঁকফোকরে ক্যাসিনো সম্রাটরা পার পেয়ে যাবে।

লেখক: আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...