পূজা উদযাপন পরিষদের ১১ দাবি

0

দুর্গাপূজায় আজানের সময় ও রাত ১২টার পরে মহানগরীর সব পূজামণ্ডপে মাইক ও ঢোলের বাদ্য বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগরের নেতারা। এছাড়াও দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে সরকারের কাছে ১১টি দাবি জানিয়েছেন তারা।

বুধবার (২ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার।

তিনি বলেন, প্রতি বছরের মত এবারো চট্টগ্রাম মহানগরীর জেএম সেন হল প্রাঙ্গণসহ ১৬টি থানায় মোট ২৭০টি মণ্ডপে ছয়দিনব্যাপী দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে।

তিনি আরও বলেন, সকল ধর্মের সহাবস্থানের জন্য প্রত্যেকটি মণ্ডপে আমরা নামাজের সময় ও রাত ১২টার পরে মাইক ও কোনোপ্রকার বাদ্যযন্ত্র না বাজানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চন্দন তালুকদার আরও বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারে সেজন্য পূজা উদযাপন পরিষদ সরকারের কাছে ১১টি দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হল-

১. ৭২ এর সংবিধানের আলোকে সব সম্প্রদায়ের সমঅধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

২. হিন্দু সম্প্রদায়ের মঠ-মন্দির, ঘরবাড়ি, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ, হত্যা, লুটপাট, হামলা ভাঙচুরসহ সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীদের মানবতাবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

৩. দুর্গোৎসবকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয়মর্যাদা এবং দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৪ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে হবে।

৪. প্রায় তিন কোটি সনাতনী সমাজের অন্যতম দুঃখ সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টিকারী বাতিলকৃত শত্রু (অর্পিত) সম্পত্তি আইন কার্যকর করে অবিলম্বে সম্পত্তি প্রকৃত ভূমি মালিকদের ফেরত দিতে হবে।

৫. সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড, পুলিশ প্রশাসন ও সচিবালয়সহ সকল সরকারি-আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদেরকে আনুপাতিকহারে নিয়োগ দিতে হবে।

৬. সরকারি সংষ্কৃত কলেজ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে।

৭. বাংলাদেশ হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টকে ফাউন্ডেশনে উন্নীত করে সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের অবসান করতে হবে।

৮. চট্টগ্রামের তীর্থভূমি সীতাকুণ্ডকে জাতীয় তীর্থস্থান ও ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে জাতীয় মন্দির হিসেবে রাষ্ট্রীয় ঘোষণা করতে হবে।

৯. সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে রাজনীতি ও নির্বাচনে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে।

১০. সীতাকুণ্ডে চন্দ্রনাথ ধামের উন্নয়ন ও কক্সবাজার আদিনাথ মন্দিরকে সাগরের ভাঙন থেকে রক্ষা করে এবং দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ আইন দ্রুত প্রণয়ন করতে হবে ও

১১. শারদীয় দুর্গোৎসব চলাকালীন সরকারি/বেসরকারি সব স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দাশ অসিত, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি রাখাল দাশগুপ্ত, সংগঠনের সাবেক সভাপতি সাধণ ধর, বিমল কান্তি দে ও অরবিন্দ পাল অরুণ প্রমুখ।

জয়নিউজ/রুবেল/বিআর
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...