সত্যপ্রিয় মহাথেরো’র মরদেহে বিপ্লব বড়ুয়ার শ্রদ্ধা

0

একুশে পদকপ্রাপ্ত বৌদ্ধধর্মীয় গুরু, রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের অধ্যক্ষ পন্ডিত ভদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথেরো’র মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

শুক্রবার (৪ অক্টোবর) সকালে নগরের নন্দনকানন বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে এ শ্রদ্ধা জানান ব্যারিস্টার বিপ্লব।

এসময় তিনি বলেন, পৃথিবীতে যারা জ্ঞানী-গুণী ও মহৎ তারা সবসময় নন্দিত ও পূজিত হয়। তেমনি ভদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথেরো দীর্ঘ কর্মজীবন ও পরিক্রমায় সৌরভে গৌরবে সমুজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

শুক্রবার মধ্যরাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি বাংলাদেশী বৌদ্ধদের দ্বিতীয় সর্ব্বোচ্চ ধর্মীয়গুরু, বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার উপসংঘরাজ, রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের পূজনীয় অধ্যক্ষ, বাংলাদেশ সরকার কতৃর্ক একুশে পদকপ্রাপ্ত।

প্রসঙ্গত, সত্যপ্রিয় মহাথের (জন্মঃ ১০ জুন, ১৯৩০ – মৃত্যুঃ ৪ আক্টোবর ২০১৯) হলেন একজন বাংলাদেশী বৌদ্ধ পণ্ডিত ও সমাজসেবক। তাঁর প্রকৃত নাম বিধু ভূষণ বড়ুয়া। সমাজসেবায় অবদানের জন্য তিনি ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত একুশে পদক লাভ করেন। তিনি ১৯৩০ সালের ১০ জুন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান বাংলাদেশ) কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার পশ্চিম মেরংলোয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হরকুমার বড়ুয়া এবং মাতার নাম প্রেমময়ী বড়ুয়া। তিনি তার বাবা-মায়ের তিন সন্তানের মধ্যে কনিষ্ঠতম। তার পিতৃদত্ত নাম বিধু ভূষণ বড়ুয়া। ১৯৫০ সালে তিনি প্রবজ্যা ধর্ম দীক্ষিত হয়ে সত্যপ্রিয় নাম ধারণ করেন। পরের বছর তিনি ভিক্ষু ধর্মে দীক্ষিত হন। ১৯৫৪ সালে উচ্চ শিক্ষার জন্য মায়ানমার পাড়ি জমান। সেখানে তিনি দশ বছর লেখাপড়া, গ্রন্থ রচনা ও সাধনা করেন।

মিয়ানমার থেকে ১৯৬৪ সালে দেশে ফিরে এসে তিনি রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারে পাঠদানে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি এই বিহারের অধক্ষ্য পদে আসীন রয়েছেন। এছাড়া ২০০৬ সালে বাংলাদেশী বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘের সর্বোচ্চ ধর্মীয় সংগঠন বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার সভাপতির পদ লাভ করেন।

প্রকাশনা: সত্যপ্রিয় বৌদ্ধ ধর্ম বিষয়ক অনেক গবেষণাধর্মী গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি একমাত্র ব্যক্তি যিনি ত্রিপিটকের অভিধর্ম পিটকের অন্তর্গত ‘চুল্লবর্গ’ গ্রন্থ পালি থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন। গ্রন্থটি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

সম্মাননা: সমাজসেবায় একুশে পদক, ২০১৫ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বৌদ্ধ ছাত্র সংসদ কর্তৃক শান্তি পুরস্কার, ২০১০। সমাজসেবায় অবদানের জন্য মায়ানমার থেকে ‘অগ্রমহাসদ্ধর্মজ্যোতিকাধজ’, ২০০৩।

জয়নিউজ/পার্থ/পিডি

 

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...