টাকা ফেরত দিয়ে আলোচনায় তৈয়ব

0

সরকারি প্রকল্পে বারবার ব্যয় বাড়নোর কথা আমরা অনেক শুনেছি। আবার ঠিকাদার কাজ কম করে টাকা ভাগিয়ে নেওয়ার কথাও বিভিন্ন সময় প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু বরাদ্দকৃত টাকার মধ্যে মানসম্মত কাজ করে আবার মোটা অংকের টাকা সরকারকে ফেরত দেওয়ার নজির হয়তো খুঁজেই পাওয়া যাবে না।

তবে চট্টগ্রামে সেই নজির স্থাপন করেছেন সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতা। তার নাম মোহাম্মদ আবু তৈয়ব। তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

জানা যায়, নগরের বায়েজিদ সেনানিবাসের পাশে ‘বায়েজিদ সবুজ উদ্যান’ নামে একটি পার্ক করেছে গণপূর্ত বিভাগ। প্রকল্পের বরাদ্দ ছিলো ১২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ২০১৭ সালের এপ্রিলে কাজটি পান উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব। মানসস্মতভাবে ৮ কোটি ২৩ লাখ টাকায় কাজ শেষ করে বাকি টাকা গণপূর্ত বিভাগকে বুঝিয়ে দিয়েছেন তৈয়ব।

আরও পড়ুন: ‘কিছু উদ্যোগ নিব, মেয়র আমাকে সহযোগিতা করবে’

কাজ শেষে ৮ অক্টোবর পার্কটির উদ্বোধন করেন সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘সব ঠিকাদাররা খারাপ না। ভালো ঠিকাদারও রয়েছে গণপূর্তে। তার প্রমাণ হচ্ছে আবু তৈয়ব। বায়েজিদ উদ্যান নির্মাণ শেষে ৪ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে সে।’

এরপর থেকে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হতে থাকে। ছাত্রলীগের চলমান কর্মকাণ্ডের মধ্যে আবু তৈয়বের এ কাজ প্রশংসার দাবিদার বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আরিফ উদ্দিন নামে এক যুবক তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘শুধু ছাত্রলীগার হলে হবে না, নীতি নৈতিকতা সম্পন্ন হতে হবে। চারিদিকে খায় খায় অবস্থার মধ্যে আপনি (আবু তৈয়ব) বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। আমার দেখা সেরা ছাত্র নেতাদের মধ্যে অন্যতম একজন।’

সাইফুল আলম নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘ছাত্ররাজনীতি মানে ভোগ নয়, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করা। বর্তমান সময়ের ছাত্রলীগ নেতাদের কুকর্মের কারণে যখন আমরা বিব্রত তখন একজন আবু তৈয়বকে নিয়ে আমরা গর্বিত।’

উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইউনুস গণি জয়নিউজকে বলেন, ‘আবু তৈয়বের এ ধরণের কাজ প্রশংসার দাবিদার এবং একটি দৃষ্টান্তও বটে। নতুন যারা ছাত্রলীগ করবে বা ব্যবসা-বাণিজ্য করবে তাদের কাছে এটি অনুপ্রেরণা। তাকে অনুসরণ করা উচিত।

আরও পড়ুন: ‘বাদল ভাই পদত্যাগের দরকার নেই, কালুরঘাট সেতু হবে’

তিনি আরো বলেন, মূলত দুঃসময়ে যারা রাজনীতি করে তাদের মধ্যে দলের প্রতি বিশেষ আনুগত্য ও ভালোবাসা থাকে। ফলে দলের দুর্নাম হয় এমন কোনো কাজ তারা করে না। ছাত্রলীগের প্রত্যেকটি ইউনিটের সদস্যদেরকে তাকে (তৈয়ব) অনুসরণ করার আহ্বান জানান উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক এ সভাপতি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবু তৈয়ব জয়নিউজকে বলেন,‘আমি মানসস্মতভাবে কাজ করে পার্কটি তৈরি করেছি। আমার যত টাকা খরচ হয়েছে বা যত লাভ করা উচিত তা করে বাকি টাকা ফেরত দিয়েছি। কেন আমি রাষ্ট্রের টাকা অপচয় করব? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেই সোনার বাংলা গড়ে তুলতে চান সেখানে আমাদেরকেও অংশীদার হতে হবে। এজন্য যার যার অবস্থান থেকে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, নগরের বায়েজিদের সেনানিবাস এলাকায় ‘বায়েজিদ সবুজ উদ্যান’ নির্মাণ করেছে গণপূর্ত বিভাগ। দুই একরের বিশাল এ উদ্যানে ৪১ প্রজাতির বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। রয়েছে বসার বেঞ্চ ও ৪ হাজার ফুটের ওয়াকওয়ে, শিশুদের রকমারি খেলনা, আলোক সজ্জিত পানির ফোয়ারা।

পুরো উদ্যানে ২টি ফটক রয়েছে। বসার বেঞ্চ আছে একক ৩৯টি, দ্বৈত ৭টি। ৬০ ফুট ব্যাসের জলাধারের দুই পাশে উন্মুক্ত গ্যালারি রাখা হয়েছে। জলাধারে পানি রাখা হবে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ফুট। ১ হাজার ২০০ ফুট সীমানাপ্রাচীর রয়েছে। পার্কে আসা লোকজনের জন্য নারী-পুরুষের আলাদা টয়লেট রয়েছে।

দিনের ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি ক্যামেরায় মনিটরিং হবে উদ্যানটি। বাগানে সবুজ ঘাসে ও গাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি ছিটানোর জন্য রয়েছে ৬০টি স্প্রিঙ্কলার। পুরো উদ্যানে ১০৮টি কম্পাউন্ড লাইট, ১৬টি গার্ডেন লাইট ও ৫৫টি ফাউন্টেন লাইট রয়েছে। বলা যায় সব মিলিয়ে এক নৈসর্গিক আয়োজন।

জয়নিউজ/পিডি
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...