সীতাকুণ্ডে ৭ বছর পর আ’লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন

তিন গ্রুপে বিভক্ত

0

সীতাকুণ্ডে সাত বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। ১৬ নভেম্বর সীতাকুণ্ড সদরে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে জানিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লা আল বাকের ভূঁইয়া।

এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উপজেলার ৯০টি ওয়ার্ড ও ১৩ নভেম্বরের মধ্যে ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার কাউন্সিল শেষ করার জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১২ অক্টোবর)রাতে স্থানীয় পাবলিক লাইব্রেরি হল রুমে উপজেলা আওয়ামী লীগের মূলতবি বর্ধিত সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ ইছহাকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়ার পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন দিদারুল আলম এমপি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম আল মামুনসহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটির নেতারা।

উল্লেখ্য, সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হয়েছিল ২০১২ সালের ২২ অক্টোবর। তিন বছরের মেয়াদের কমিটি মেয়াদ সাত বছর পার হলেও দলীয় গ্রুপিংসহ নানা সমস্যায় যথাসময়ে হয়নি সম্মেলনও।

এবারের উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন, বর্তমান দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাবেক জাতীয় পার্টির নেতা মো. ইছহাক।

তিনি স্থানীয় সাংসদ দিদারুল আলমের সমর্থিত বলে সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। এছাড়া সংগঠনের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল্লা আল বাকের ভূঁইয়া এবং সাবেক এমপি ও বাণিজ্যমন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মরহুম এবিএম আবুল কাসেম মাস্টারের জৈষ্টপুত্র উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আল মামুন প্রতিদ্বন্ধিতা করবেন বলে জানিয়েছেন।

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীর মধ্যে আছেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য আমম দিলসাদ, সৈয়দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম নিজামী, বাঁশবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলী জাহাঙ্গীর ও বারৈয়ারঢালা ইউপি চেয়ারম্যান রেহান উদ্দিন।

এদিকে সম্মেলনকে ঘিরে সীতাকুণ্ডের প্রতিটি ওয়ার্ডে সৃষ্টি হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ। ইতোমধ্যে নেতাকর্মীরা দাবি তুলছেন যারা জামায়াত-বিএনপি থেকে দলে ভিড়ে পদ-পদবি নেওয়ার চেষ্টা করছে তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করতে হবে। যে সকল নেতা জামায়াত-বিএনপি ও নাশকতাকারীদের দলে ভিড়াতে চাই তাদেরকেও ছাড় দেওয়া হবে না হুঁশিয়ারী দেন তৃণমূলের নেতারা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ২২ অক্টোবর ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন তৎকালীন এমপি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম আবুল কাসেম ও সাধারণ সম্পাদক তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল্লা আল বাকের ভূঁইয়া।

২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাননি এবিএম আবুল কাসেম। তখন মনোনয়ন দেওয়া হয় সাবেক সিটি মেয়র মঞ্জুরুল আলমের ভাতিজা দিদারুল আলমকে।

পরবর্তীতে দীর্ঘদিন অসুস্থতার পর ওই বছরের ২৪ নভেম্বর মারা যান তিনি। ওই সময় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে লিখিত দায়িত্ব দিয়ে যান সহসভাপতি সৈয়দ গোলম মোস্তফাকে। কিন্তু দলীয় সাংসদ দিদারুল আলম ও দলের সাধারণ সম্পাদক বাকের ভূঁইয়া তাকে মেনে না নিয়ে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করেন অপর সহসভাপতি মোহাম্মদকে।

বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগ তিন ভাগে বিভক্ত বলে জানা গেছে। সাংসদ দিদারুল আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আল মামুন ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লা আল বাকের ভূঁইয়ার মধ্যে। দলীয় নেতাকর্মীরাও আলাদা গ্রপিং এ বিভক্ত।

সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ ইছহাক (এমপি সমর্থিত) বলেন, ব্যক্তি স্বার্থের জন্য অনেক নেতা গ্রুপিং করছে। সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলে তারা আর সেই সুযোগ পাবে না। জেলা কমিটির ঘোষণা অনুসারে উপজেলা কমিটির সম্মেলন যথাসময়ে হবে বলে এমপি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরও বলেন, দলকে সুসংগঠত করতে চাঁদাবাজ, দখলবাজ, টেন্ডারবাজ, ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসীদের দলে কোনো ঠাঁই হবে না বলে এমপি নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লা আল বাকের ভূঁইয়া বলেন, কোনো ব্যক্তির ইচ্ছায় দল চলতে পারে না। অনেকে নিজের দল ভারি করার জন্য তৃণমূল নেতাকর্মীদের নানাভাবে নির্যাতন করে জামায়াত বিএনপির লোকদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এটি সংগঠনের জন্য আত্মঘাতি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জয়নিউজ/সেকান্দর/বিআর
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...