সাতকানিয়ায় শান্তিপূর্ণ ভোট, উপস্থিতি কম

0

সাতকানিয়ার ১২৫টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হলেও ভোটারের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৭০১টি বুথে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোটগ্রহণ চলে। পুরো উপজেলায় সবগুলো ভোটকেন্দ্রে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েনি। প্রত্যেক কেন্দ্রে মহিলা ভোটারের সংখ্যা ছিল মাত্র এক শতাংশ।

সরেজমিনে ১৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৯টা থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। কেন্দ্রে দেখা মেলেনি মহিলা ভোটারদের। পুরো সাতকানিয়ার সবকটি কেন্দ্রতে ভোটগ্রহণ হয়েছে মাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মত।

আবার কোনো কোনো কেন্দ্রে স্বতষ্ফুর্তভাবে ভোট দিতে এসেও ভোটারদের চাপের মুখে পড়তে হয়েছে ইভিএম বিড়ম্বনায়।

সকাল সাড়ে দশটার দিকে মধ্য রূপকানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কয়েকজন মহিলা ভোটারদের দেখা মেলে। ভোটার কমরু আক্তার বলেন, ইভিএম সম্পর্কে আমাদের আগে জানানো হয়নি। এখানে (ভোটকেন্দ্রে) এসে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সময় অন্যকেউ দেখে ফেলছে। এজেন্টরা যেভাবে বলছেন সেভাবে ভোট দিলাম। উনাদের উচিত ইভিএম নিয়ে আমাদের ভালভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া। অথবা ইভিএমের প্রদর্শনী দেখানো উচিত।

প্রিজাইডিং অফিসার মো. হেলাল উদ্দিন জয়নিউজকে বলেন, পুরুষরা স্বতস্ফূর্তভাবে আসছে এবং নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। কয়েকজনে ইভিএম নিয়ে একটু সংশয়ে ছিলেন পরে আমরা বুঝিয়ে দিই। তারপর থেকে স্বাভাবিক হয়।

 

বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটে দক্ষিণ কেওচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো ভোটার দেখা যায়নি। পোলিং এজেন্ট এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা বেকার সময় কাটাতে দেখা যায়।

প্রিজাইডিং অফিসার সরীত কুমার রুদ্র বলেন, আমার কেন্দ্রে ৩৯৮৬ জন ভোটার থাকলেও তিন ঘণ্টায় ভোটগ্রহণ হয়েছে ১০ শতাংশ।

দুপুর একটার দিকে পূর্ব বাজালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০ শতাংশের মত ভোট পড়ে। পরবর্তীতে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল গাফফার চৌধুরী ছদাহার কয়েকটি ভোট কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠে কিন্তু ছদাহার ওইসব ভোটকেন্দ্রে গেলে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়। ওইসব এজেন্টরা স্বেচ্ছায় চলে গেছে বলে স্বীকার করে।

ছদাহা ৩নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার হামিদা বেগম বলেন, সকাল থেকে কোনো মহিলা ভোটকেন্দ্রে আসেনি। তাদের মাঝে একটু ভয় থাকার কারণে তারা ভোটকেন্দ্রে আসতে চাচ্ছে না। কি কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে আমাদের ভোটকেন্দ্রে ঝামেলা হয়, তখন জামাত শিবিরের ছেলেরা আমাদের ওপর হামলা করলে কয়েকজন মহিলাসহ আহত হয়। যার ফলে কেউ আসতে চাচ্ছে না।

পূর্ব ছদাহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটার আব্দুল করিম বলেন, ভোট দিতে এসেও পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিতে পারিনি। ইভিএম হওয়াতে আমার আঙ্গুল স্ক্যান করার পরে আরেকজনে ভোটটি দিয়ে দেয়, পরে প্রিজাইডিং অফিসারকে জানানোর পরে তিনি বাইরের ছেলেদের বের করে দেন। কিন্তু বড় আফসোস হলো আমি আমার ভোটটি দিতে পারিনি।

প্রিজাইডিং অফিসার সজল কান্তি দাশ বলেন, যতটুকু শুনেছি গত সংসদ নির্বাচনে ছদাহার এই কেন্দ্রে একটু সমস্যা হওয়াতে এবারের নির্বাচনে একটু কম।

বিকেল ৩টার দিকে বিএনপি প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায় এবং সাংবাদিকদের জানিয়ে দেন, উনি নির্বাচন বয়কট করেছেন।

নির্বাচনের শেষ মুহুর্তে বিকেল চারটার দিকে পশ্চিম আমিলাইশ সরাকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে প্রায় তিন হাজারের ভোটারের মধ্যে মাত্র ৬১৭ জন ভোট প্রদান করেছেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম, তানভীর ফরহাদ শামীম ও জিল্লুর রহমানের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, গতরাত থেকে আমরা মাঠে আছি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কোথাও কোনো রকমের সমস্যা হয়নি। বিচ্ছিন্ন কয়েকটি অভিযোগ পেলেও ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি সেগুলো মিথ্যা। পরে প্রিজাইডিং অফিসারদের কড়া নির্দেশনা দিয়ে দিই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবারক হোসেন জয়নিউজকে বলেন, প্রত্যেক কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ছিলেন। টহলরত মোবাইল টিম এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকাতে কোনো ধরণের সমস্যা হয়নি। পুরো নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ছিল।

উল্লেখ্য, সাতকানিয়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে তিনজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছয়জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। পুরো উপজেলায় দুই লাখ ৮৩ হাজার ৩৮০ জন ভোটার রয়েছেন। যারমধ্যে পুরুষ এক লাখ ৫০ হাজার ২৮৬ জন ও মহিলা ভোটার এক লাখ ৩৩ হাজার ৯৪ জন।

জয়নিউজ/মাহফুজ/বিআর
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...