গাড়িবিলাসের সংবাদ ভিত্তিহীন, বললেন চবি উপাচার্য

0

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরিণ আখতার বলেছেন, তিনটি গাড়ি ৩ কোটি টাকা দিয়ে কেনা হয়েছে মর্মে যে সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে সেটা সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) দেশের একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে একথা বলেন তিনি। এদিন বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সিনেট কক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, আমি গাড়িবিলাসী নই এবং কখনোই গাড়িবিলাসী ছিলামও না। আমার যদি কোনো বিলাসিতা থেকেও থাকে তা হচ্ছে বই বিলাসিতা। প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় বই কেনাই আমার বিলাসিতা।

এসময় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে এম নুর আহমদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রেজাউল করিম।

বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ অক্টোবর একটি জাতীয় প্রত্রিকায় ‘ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের গাড়িবিলাস’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ অসত্য, বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে চবি উপাচার্যের জন্য একটি জিপ গাড়ি ক্রয়ের জন্য ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করেন। পরবর্তীতে একই অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বাংলাদেশের অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের জন্য ইউজিসি ৯২ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করে। তাই উক্ত মঞ্জুরীকৃত অর্থের মাধ্যমে চবি ফাইন্যান্স কমিটি অনুমোদনক্রমে চবি উপ-উপাচার্য এর জন্য ৯২ লাখ ৬৮ হাজার টাকায় একটি জিপ গাড়ি ক্রয় করা হয়।

এখানে উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় গাড়ি ক্রয় কমিটির যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল সংস্থার নিয়ন্ত্রণাধীন প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড হতে গাড়িটি ক্র‍য় করা হয়। উক্ত গাড়ির মূল্য বাবদ ৯০ লাখ ৬৮ হাজার টাকা চেকের মাধ্যমে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে পরিশোধ করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, সংবাদের একাংশ বলা হয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য ৩টি গাড়ি ব্যবহার করছেন। এ বক্তব্যটি অসত্য ও বিভ্রান্তিকর। প্রকৃত সত্য হচ্ছে উপ-উপাচার্য শুধুমাত্র একটি গাড়ি ব্যবহার করে থাকেন। তাছাড়া অফিসিয়াল কাজে রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য যখন ঢাকায় থাকেন তখন সেখানে আরেকটি গাড়ি ব্যবহৃত হয়। যে গাড়ি ক্রয় করা হয়েছে সেটি এখনো ব্যবহার শুরু হয়নি।

বক্তব্যে আরো বলা হয়, প্রকাশিত সংবাদে বিভিন্ন হলের দুরাবস্থা নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা বর্তমান উপাচার্য (দায়িত্বপ্রাপ্ত) সরেজমিনে নিজে পরিদর্শন করেছেন এবং ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে নিজে তাদের অভাব-অভিযোগ শুনেছেন। ভবিষ্যতে এসব দ্রুত সমাধানের ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রেজাউল করিম বলেন, আমাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য নিয়োগ পাওয়ার পরপরেই কোনো হলে প্রভোস্ট পরিবর্তন না করে প্রত্যেক হলের উন্নয়নের জন্য দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছেন এবং প্রতিটি হলেই তিনি নিজে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের অবস্থা দেখে এসেছেন। এর আগে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো উপাচার্যই এ ধরণের পদক্ষেপ নেননি।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জয়নিউজ/নবাব/এসআই
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...