মুঠোফোনের চার্জার বিস্ফোরণে আগুন, পরিবারের সবার করুণ মৃত্যু!

0

মুঠোফোন বা মোবাইল ফোন বর্তমান যুগে নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুঠোফোন মানুষের জীবনযাত্রাকে করে তুলেছে গতিশীল। কিন্তু অসাবধানতার কারণে সে মুঠোফোনই আবার হতে পারে মৃত্যুর কারণ। তেমনই একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে।

নগরীতে এক সপ্তাহ আগে চার্জ দিতে গিয়ে মোবাইল চার্জার বিষ্ফোরণে লাগা আগুনে দগ্ধ হয়ে বৃস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) স্বামী-স্ত্রী ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। মুঠোফোন চার্জ দেয়ার সময় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এ আগুনের সূত্রপাত হয়। ওই সময় মারা যায় তাদের ছেলে। পরিবারের বাকি তিনজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পরিবারটির আর কেউ বেঁচে থাকল না।

গত ১৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরীর ডবলুমুরিং থানার মোল্লাপাড়ায় নিরিবিলি আবাসিক এলাকার আলী ভূঁইয়া বাড়ি নামে একটি দোতলা ভবনের নিচ তলায় মাছ ব্যবসায়ী আমির হোসেনের বাসায় এ ঘটনা ঘটেছিল।

দগ্ধ হয়ে মৃত্যুর শিকার চারজন হলেন- আমির হোসেন (৩২), তার স্ত্রী খালেদা আক্তার (২৫) ও আনিকা (৮) এবং আশরাফুল (৫)। এদের মধ্যে আশরাফুল ঘটনার দিনই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

মৃত আমির হোসেনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার জালশুকা গ্রামে। গত ১৫ অক্টোবর আমির ভাড়া বাসাটিতে পরিবার নিয়ে উঠেছিলেন।

ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহির হোসেন জানান, আশরাফুলের মৃত্যুর পর দগ্ধ তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুরে আমির ও সন্ধ্যায় আনিকা মারা যায়। বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে মারা যান আমিরের স্ত্রী খালেদা।

তিনি বলেন, ‘গত ১৮ অক্টোবর রাতে খালেদা মোবাইলের চার্জার লাগানোর সময় শর্টসার্কিট হয়ে চার্জারটি বিষ্ফোরিত হলে তার চুলে আগুন লাগে।এ সময় ছেলে আশরাফুল মাকে বাঁচাতে গেলে সেও দগ্ধ হয়। একইভাবে আমির ও তার মেয়েও বাঁচাতে গিয়ে অগ্নি দগ্ধ হয়। পরে প্রতিবেশীরা তাদের হাসপাতালে নিয়ে যান।’

তিনজনের মরদেহ স্বজনেরা গ্রামের বাড়িতে দাফনের জন্য নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

মুঠোফোন চার্জ দেওয়ার সঠিক ব্যবহার যদি আমরা জেনে রাখি। তাহলে হয়তো আর কোনোদিন এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটবে না কারো জীবনে। আসুন জেনে নিই মুঠোফোনে চার্জ দেওয়ার কিছু পূর্ব সর্তকর্তা=

প্রতিটি ব্যাটারির একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে। স্মার্টফোনের ব্যাটারির ক্ষেত্রেও তা-ই। স্মার্টফোন ব্যবহারের ধরনের ওপর এর ব্যাটারির আয়ু নির্ভর করে। এ ক্ষেত্রে মুঠোফোনে চার্জ দেওয়ার পদ্ধতি ও চার্জারের ধরন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেমন সারা রাত মুঠোফোন চার্জ দিয়ে রাখলে দীর্ঘ মেয়াদে ব্যাটারির আয়ু কমে। অন্যদিকে সস্তা চার্জার ব্যবহারে স্মার্টফোন ও ব্যাটারির বিপদ ডেকে আনতে পারে। অনেক সময় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। স্মার্টফোনে চার্জ দেওয়ার কয়েকটি পরামর্শ জেনে নিন:

সব সময় নিজস্ব চার্জার:  স্মার্টফোনে চার্জ দেওয়ার সময় নিজস্ব চার্জার বিশেষ করে ফোনের সঙ্গে থাকা আসল চার্জারটি ব্যবহার করুন। স্মার্টফোনে মাইক্রো ইউএসবি পোর্টে অনেক চার্জার সমর্থন করতে পারে। তবে আসল চার্জার ব্যবহার না করলে ধীরে ধীরে ব্যাটারির চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতা কমতে থাকে।

সস্তা চার্জারকে না বলুন: অপরিচিত নির্মাতার তৈরি চার্জার ব্যবহারে সতর্ক থাকুন। কারণ এ ধরনের চার্জারে কোনো নিরাপত্তাপদ্ধতি ব্যবহার করা হয় না। এতে ফোনে অতিরিক্ত চার্জ বা ফোন গরম হয়ে যেতে পারে। অ্যাডাপ্টারে সমস্যা দেখা দিলে ফোন ও ব্যাটারি দুটোই নষ্ট হতে পারে।

চার্জের সময় সুরক্ষা কেস খুলে রাখুন: অনেকেই ফোনের বাড়তি সুরক্ষার জন্য কেসিং ব্যবহার করেন। কিন্তু চার্জ দেওয়ার সময় কেসিং খুলে রাখা ভালো। সাধারণত ফোন চার্জ দিলে ব্যাটারি কিছুটা গরম হয়। কিন্তু ফোনের কেসিং থাকলে তাপ আটকে ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়।

দ্রুতগতিতে চার্জ সুবিধাজনক নয়: সব সময় দ্রুতগতিতে চার্জ হয় এমন চার্জার সুবিধাজনক নয়। ব্যাটারি ভালো রাখতে দ্রুতগতির চার্জার ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। দ্রুতগতির চার্জার ফোনের ব্যাটারিতে উচ্চ ভোল্টেজ পাঠায়, যা দ্রুত তাপমাত্রা বাড়ায়। স্বাভাবিক চার্জিং পদ্ধতিতে চার্জ দিতে পারেন।

সারা রাত চার্জ নয়: সারা রাত ফোন চার্জে রাখা ঠিক নয়। অতিরিক্ত চার্জ ব্যাটারির ক্ষতি করে।

থার্ড পার্টি ব্যাটারি অ্যাপস: অনেকে মুঠোফোনের ব্যাটারি দীর্ঘক্ষণ চালানোর জন্য থার্ড পার্টির অ্যাপস ব্যবহার করেন। ব্যাটারি দীর্ঘদিন টেকাতে এসব অ্যাপ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। অনেক অ্যাপ্লিকেশন ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু থাকে বলে ব্যাটারির ওপর প্রভাব ফেলে।

ফোন ৮০ শতাংশ চার্জ দিয়ে রাখুন: যখনই চার্জ দেবেন, তখন কমপক্ষে ব্যাটারির চার্জ ৮০ শতাংশ পূর্ণ করবেন। সব সময় শতভাগ চার্জ পূর্ণ করতে হবে এমন কোনো কথা নেই।

সব চার্জ শেষ করে ফেলবেন না: স্মার্টফোনে ২০ শতাংশের ওপরে চার্জ থাকা অবস্থায় আবার চার্জে দেবেন না। বারবার ও অপ্রয়োজনীয় রিচার্জে ব্যাটারির আয়ু কমে যায়। ব্যাটারির চার্জ একেবারে শূন্য করে ফেলবেন না। এতেও ব্যাটারির আয়ু কমতে থাকে।

শট-সার্কিট ঠেকাতে পাওয়ার ব্যাংক: ভোল্টেজ ওঠা-নামা, শট-সার্কিট, অতিরিক্ত চার্জ ঠেকাতে সক্ষম এমন পাওয়ার ব্যাংক কাজে লাগাতে পারেন। পাওয়ার ব্যাংকের সঙ্গে লাগানো অবস্থায় স্মার্টফোন ব্যবহার করবেন না। এতে স্মার্টফোন বেশি গরম হয় এবং ব্যাটারির ক্ষতি হয়।

জয়নিউজ/আরডি/পিডি

সরাসরি আপনার ডিভাইসে নিউজ আপডেট পান, এখনই সাবস্ক্রাইব করুন।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...