রাবার বাগানে অপহরণ আতঙ্কে শ্রমিকরা

0

রামুর রাবার বাগানের শ্রমিকরা অপহরণ আতঙ্কে বাগানে যাচ্ছে না। এতে রাবার কষ আহরণ কমে গেছে, ব্যাহত হচ্ছে রাবার উৎপাদন।

মাদকসেবী, ডাকাত ও অপহরণকারীরা গোপনস্থান হিসেবে ব্যবহার করছে রামুর রাবার বাগানকে। প্রায় সময় ঘটছে অপহরণের ঘটনা।

অপরাধীচক্রের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে দুই শতাধিক শ্রমিক ও বাগানের পার্শ্ববর্তী কাউয়ারখোপ এবং জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ।

অপহরণ ঠেকাতে সম্প্রতি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় রাবার বাগান ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এ অপহরণকারী চক্রই আশপাশের লোকালয়ে ডাকাতি, চুরিসহ নানা অপকর্মে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অপহরণ ঘটনার পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা ও রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল খায়ের পুলিশ ফোর্স নিয়ে বাগান এলাকায় অভিযান চালান। এসময় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিও ছোঁড়া হয়।

অপহরণের ঘটনায় আর্থিক শঙ্কায় আছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের অধীন ‘রামু রাবার বাগান’। অপহরণ ঘটনায় দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রামু থানায় জিডি করেছেন, রাবার বাগান ব্যবস্থাপক নন্দী গোপাল রায়।

রাবার বাগানের শ্রমিক (টেপার) দিদারুল আলম, ছৈয়দ হোছন ও ওয়াচার মো. রাসেল অপহৃত হয়। কৌশলে অপহরণকারি চক্রের কবল থেকে মুক্ত হয়ে ফিরে আসে। অপহৃত রাবার বাগান ওয়াচার মো. রাসেল জানান, তাকে অপহরণ করে পরিবার থেকে তিন লাখ টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা। কৌশলে অপহরণকারী চক্রের কবল থেকে পালিয়ে এসে অপহরণের ঘটনা রাবার বাগান কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন তিনি।

অপহরণকারীদের হামলায় সোহেল নামে এক শ্রমিক আহত হয়েছেন জানিয়ে মো. রাসেল বলেন, মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীরা দেশের বৃহৎ রামু রাবার বাগানকে অপহরণকারীদের আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে।

অপহরণ আতঙ্কের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে রামু রাবার বাগান ব্যবস্থাপক নন্দী গোপাল রায় জয়নিউজকে বলেন, রাবার কষ সংগ্রহের ভরা মৌসুমে শ্রমিকদের অপহরণ করা হচ্ছে। ১৪ অক্টোবর রাত ২টার দিকে রামু রাবার বাগানের জামতলী এলাকার বাসিন্দা রাবার বাগানের ওয়াচার মো. রাসেলকে দুষ্কৃতিকারীরা গভীর অরণ্যে অপহরণ করে নিয়ে মারধর করে এবং তিন লাখটা মুক্তিপণ দাবি করে। পরদিন ১৫ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে মো. রাসেল দুষ্কৃতিকারীর কবল থেকে কৌশলে পালিয়ে আসে। মঙ্গলবার মধ্য রাতে আবারও দুষ্কৃতিকারীরা রাসেলের বাড়িতে হামলা করে। এ সময় স্থানীয় জনতা প্রতিহত করায় দুষ্কৃতিকারীরা পালিয়ে যায়।

গোপাল রায় আরও বলেন, পালিয়ে যাওয়ার সময় দুষ্কৃতিকারীরা বাগানের টেপিং কাজে নিয়োজিত স্থানীয় কয়েকজন টেপারকে লাঠি, দা, লোহার রড দিয়ে বেদম মারধর এবং বিভিন্ন হুমকি প্রদর্শন করে। বর্তমানে টেপিং কাজে নিয়োজিত টেপারসহ রাবার বাগান শ্রমিক, কর্মচারীরা চরম আতঙ্কে রয়েছে। টেপাররা ভয়ে টেপিং কাজে যাচ্ছে না। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের ‘রামু রাবার বাগান’ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জয়নিউজকে বলেন, রাবার বাগানের পাহাড়ে দুষ্কৃতিকারিরা নিরীহ, হতদরিদ্র লোকজনকে তুলে নিয়ে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের মতো ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড চালায়। এসব অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশ সজাগ রয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযান চালানো হয়েছে। ভবিষ্যতে দুষ্কৃতিকারিদের নির্মূলে আরো বড়ধরনের অভিযান চালানো হবে।

জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স জয়নিউজকে বলেন, রামুর রাবার বাগানের অপহরণকারী চক্রের উৎপাত বেড়েছে। প্রায় প্রতিদিনই অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড সংগঠিত হচ্ছে এবাগানে। অপহরণকারী চক্রের কারণেই আতঙ্কে টেপাররা (শ্রমিক) যথাসময়ে বাগানে রাবার কষ সংগ্রহে যেতে পারছে না। এতে রাবার কষ সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে সরকার যেমন রাজস্ব হারাবে, তেমনি কষ সংগ্রহে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানও আর্থিক লোকসানের মুখে পড়বে।

তিনি আরো জানান, রাবার বাগানে অপহরণসহ সকল অপরাধ দমনে পুলিশ প্রশাসন ও বাগানের আনসার সদস্যরা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
রামুর রাবার বাগানের কষ সংগ্রহে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বদরুদ্দোজা রাবার প্লান্টার্স এন্ড লেবার সাপ্লাইয়ার্সের পরিচালক শহিদুল ইসলাম জয়নিউজকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাগানে অপহরণকারীদের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকরা যথাসময়ে রাবারের কষ সংগ্রহ করতে পারছে না। এমনকি প্রায় সময় আনসার সদস্যদের পাহারায় শ্রমিকরা কষ সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে বাগানে রাবার উৎপাদনে ধস নামবে।

জয়নিউজ/খালেদ/বিআর
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...