টেলিগ্রাম ব্যবহার করে চবির ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি!

0

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত জোবায়ের আহমেদ সিয়াম নামে এক পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রাম ও ১৬ হাজার টাকা মূল্যের ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে জালিয়াতিকালে এক মেয়ে পরীক্ষার্থী তাকে ধরিয়ে দেয়।

আটক সিয়ামের বাড়ি পাবনা জেলার আমিরপুর থানায়। পাবনা সরকারি বুলবুল কলেজ থেকে সে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছে। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছে সিয়াম।

মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে এ ইউনিটের দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবনের ৫৩২নং কক্ষ থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এছাড়া এ জালিয়াতির সঙ্গে আরও দুইজন জড়িত বলে জানা গেছে। তারা হলো- সিয়ামের খালাতো ভাই ফুয়াজ খান ফিয়াম ও ফিয়ামের বন্ধু মেহেরান। ফিয়াম ঢাকার মোহাম্মদপুর রেসিডেন্সিয়াল স্কুল ও কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার্থী। আর মেহেরান পড়েছে নটরডেম কলেজে।

এর আগেও ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে সিয়াম। পুরো প্রক্রিয়াটি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও সিয়ামের মুঠোফোন পরীক্ষা করে বের করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি।

যেভাবে হয়েছিল জালিয়াতি
চট্টগ্রামে চাকরিরত তার বড় ভাইকে নিয়ে ক্যাম্পাসে পরীক্ষা দিতে আসে সিয়াম। সে পরীক্ষার হলে প্রবেশের আগে নিজের মুঠোফোন ভাইয়ের কাছে দিয়ে ভাইয়ের দামি স্মার্টফোনটি নিয়ে হলে যায়। এরপর মোবাইলের সঙ্গে ক্যাসিও কোম্পানির এফএক্স-৮২ এমএস মডেলের ক্যালকুলেটরের অনলাইন সংযোগ ঘটায়। মোবাইলে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে টেলিগ্রামের মাধ্যমে ঢাকায় অবস্থানরত ফুয়াজ খান ফিয়াম ও মেহেরানের কাছে পাঠিয়ে দেয় সে। তারা সেখান থেকে সিয়ামের কাছে উত্তর পাঠালে সেটি ক্যালকুলেটরে পেয়ে যায় সিয়াম। কিন্তু পরে ক্যালকুলেটরের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় আবার মোবাইলে টেলিগ্রামের মাধ্যমে এই জালিয়াতি চালিয়ে যায় সে।

তার টেলিগ্রামে বিকেল ৩টা ৩১মিনিট থেকে ৪টা ১মিনিট পর্যন্ত ৮ বার ফিয়ামের সঙ্গে কথোপকথনের তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় এফএক্স-১০০ মডেলের নিচে সব ধরনের ক্যালকুলেটর ব্যবহারে অনুমোদন রয়েছে। এই মডেলের ক্যালকুলেটরে জালিয়াতি সম্ভব নয় বলে সকলের ধারণা। কিন্তু এফএক্স-৮২ মডেলের ক্যালকুলেটরে কিভাবে জালিয়াতি করা সম্ভব জানতে চাইলে সিয়াম জানায়, এটি চায়না থেকে আমদানিকৃত ক্যালকুলেটর। দেশে পাওয়া যায় না। এর মূল্য ১৬ হাজার টাকা।

যেভাবে ধরা পড়ে সিয়াম
পরীক্ষা চলাকালে নির্ভয়ে জালিয়াতি করে যাচ্ছিল সিয়াম। হাঁটুর ভাঁজে মোবাইল রেখে একের পর এক উত্তর দিয়ে যাচ্ছিল সে। এ জালিয়াতিতে বাধ সাজে তার পেছনের সিটে থাকা এক মেয়ে পরীক্ষার্থী। সিয়ামকে ওই মেয়ে জালিয়াতি করতে দেখে ফেলেছে বলেও জানায়।

কিছুক্ষণ পরেই ওই মেয়ে হল পরিদর্শকদের জানিয়ে দেন সিয়াম জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। পরে পরিদর্শকরা সত্যতা পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডিকে ব্যাপারটি অবহিত করেন।

শাবিপ্রবির ‘বি১’ ইউনিটেও জালিয়াতি
আটক জোবায়ের আহমেদ সিয়ামের খালাতো ভাই ফুয়াজ খান ফিয়াম গত ২৬ অক্টোবর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি১’ ইউনিটের (বিজ্ঞান অনুষদ) ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষার ফলাফল এখনও প্রকাশ হয়নি। ওই পরীক্ষায় একই প্রযুক্তির মাধ্যমে জালিয়াতি করে এই চক্র। এক ঘণ্টার পরীক্ষায় ফিয়ামকে ৪০টি প্রশ্নের উত্তর দেয় সিয়াম।

চবি প্রক্টর যা বললেন…
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রণব মিত্র চৌধুরী বলেন, এ ধরণের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নিয়ম নেই। আমরা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি, আইন অনুযায়ী তারা ব্যবস্থা নিবে। পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে ক্যালকুলেটর ও মোবাইল ব্যবহারে আরও বেশি সতর্ক থাকব।

জয়নিউজ/নবাব/এসআই
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...