মেয়েকে পরীক্ষা দিতে নিয়ে এসে লাশ হয়ে ফিরলেন বাবা!

0

‘আর যেন কোনো শিক্ষার্থীর বাবা মারা না যায়। কেন পরীক্ষা দিতে আসলাম! এ ভার্সিটি ভাল না। এখানে পড়ায় না, এ ভার্সিটি মানুষ মারে!’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) মেয়েকে পরীক্ষা দিতে নিয়ে এসে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে নিহত হওয়া সিএনজিচালক মৃণাল দাশের লাশের পাশে এভাবেই বিলাপ করছিলেন তার মেয়ের বান্ধবী। অল্প দূরে নিস্তব্ধ হয়ে রয়েছেন মেয়ে তিন্নি দাশ।

বুধবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে গেলে এ দৃশ্য দেখা যায়। বিলাপরতা ঐশী দাশ ও তিন্নি দাশ দুইজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের সি’ ইউনিটে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন। তিন্নি নগরীর বাংলাদেশ মহিলা সমিতি (বাওয়া) স্কুল ও কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন।

এদিন দুপুর একটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শেষে ফেরার পথে স্টেশনে অবস্থানরত শাটল ট্রেনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান মৃণাল দাশ (৫২)। মেয়ে তিন্নি দাশ এবং প্রতিবেশী ও মেয়ের বান্ধবী ঐশী দাশকে পরীক্ষায় অংশ নিতে নিয়ে এসেছিলেন তিনি।

নিহত মৃণালের বাড়ি সাতকানিয়ার আমিলাইশ গ্রামে। তিনি থাকতেন নগরের এনায়েতবাজারের গোয়ালপাড়া রেলওয়ে কলোনীতে। নগরীতে সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।

চবি মেডিকেলে গেলে ঐশী দাশ জয়নিউজকে জানায়, ‘পরীক্ষা শেষে আঙ্কেল আমাদের বললেন তোমরা পরীক্ষা দিয়ে এলে, ক্লান্ত হয়ে গেছ। একটু নাশতা কর। নাশতা শেষে ফেরার পথে বললেন যে ট্রেনে না গিয়ে বাসে যাই। কিন্তু আমি বললাম বাসে দেরি হবে আঙ্কেল, ট্রেনে যাই। এরপরই এরকম হয়ে গেল।’

তিনি বলেন, আমি এর আগেও কয়েক জায়গায় পরীক্ষা দিয়েছি৷ কিন্তু তিন্নি এটাই প্রথম পরীক্ষা দিল। এখানে এসেই বাবাকে হারাল।

জানা যায়, স্ট্রোক করার পর নিহত মৃণালকে চবি মেডিকেলে নিয়ে যায় স্টেশনের কালাম স্টোরের আবুল কালাম, হাটহাজারী কলেজের শিক্ষার্থী শেখ নুরুন্নবী মেহেদী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আমানুল্লাহ।

তারা জানায়, দুপুর একটার দিকে দেড়টার ট্রেনে তিন্নি ও ঐশীকে সিটে বসিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন মৃণাল। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ পড়ে যান তিনি। এটি দেখতে পেয়ে আমানুল্লাহ দৌড়ে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রণব মিত্রকে অসুস্থতার কথা জানায়। সঙ্গে সঙ্গে এম্বুলেন্সের জন্য মেডিকেলে খবর পাঠায়। কিন্তু দেরি হবে ভেবে আবার অন্য এক পরীক্ষার্থীর প্রাইভেট কারে মৃণাল দাশকে চবি মেডিকেলে নেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে চবি চিকিৎসা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত প্রধান কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বলেন, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃণাল দাশের মৃত্যু ঘটেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রণব মিত্র চৌধুরী বলেন, উপাচার্য ম্যাম দেখে গিয়েছেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন। প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করে অভিভাবকের কাছে লাশ তুলে দিবে। আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে নিহতের পরিবারের প্রতি।

জয়নিউজ/নবাব/বিআর
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...