অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো কোচিং বাণিজ্যের রহস্য

0

নগরে কোনোভাবেই লাগাম টানা যাচ্ছে না কোচিং বাণিজ্যের। ঘর থেকে পা ফেললেই চোখে পড়বে বিভিন্ন স্যারের বাহারি পোস্টার। কেউ প্রাইভেটে পড়ান গণিত, কেউ পদার্থবিজ্ঞান, আবার কেউ রসায়ন কিংবা জীববিজ্ঞান। সরকারের নানা পদক্ষেপেও বন্ধ হচ্ছে না কোচিং বাণিজ্য।

নগরের সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজের অসংখ্য শিক্ষক যুক্ত আছেন প্রাইভেট ব্যাচ বা কোচিং সেন্টারে। জামালখান, দেওয়ানহাট, আগ্রাবাদ, হালিশহর, চকবাজারসহ বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকায় রয়েছে শিক্ষকদের নামে শতাধিক কোচিং সেন্টারের সাইনবোর্ড। আবার নগরজুড়েও রয়েছে বিভিন্ন স্যারের নামে বাহারি পোস্টার।

সরেজমিন দেখা যায়, নগরে সবচেয়ে বেশি কোচিং সেন্টার রয়েছে চকবাজারে। মূলত স্কুলশিক্ষার্থী, এসএসসি ও এইচএসসি শিক্ষার্থীদের টার্গেট করেই গড়ে উঠেছে এখানকার কোচিং সেন্টার। বিভিন্ন ভবনে রুম ভাড়া নিয়ে চলছে জমজমাট কোচিং বাণিজ্য। সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী দেখা গেছে সরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক পরিচালিত কোচিং সেন্টারগুলোতে।

একেক বিষয়ের জন্য এক্সপার্ট একেকজন শিক্ষক। এসব শিক্ষকের চাহিদা বরাবরই রয়েছে শিক্ষার্থীদের কাছে। শিক্ষার্থীদের এ চাহিদাকে পুঁজি করেই বাহারি পোস্টারে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

যেমন- পদার্থবিজ্ঞান পড়ান সিটি কলেজের মেহেদী স্যার। তিনি পদার্থবিজ্ঞানের পাশাপাশি আইসিটি পড়ান।

আবার গণিতের বিশেষজ্ঞ বাকলিয়া সরকারি কলেজের কামাল স্যার ও হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের রণজিৎ স্যার।

জীববিজ্ঞানে খ্যাতি রয়েছে বাকলিয়া সরকারি কলেজের প্রণব স্যার ও সুচারু স্যারের।

অপরদিকে রসায়নে দক্ষ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের শ্যামা স্যার, চট্টগ্রাম কলেজের কনক স্যার ও সিটি কলেজের নাজিম স্যার।
শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে স্যারদের পোস্টার রয়েছে নগরজুড়ে।

এদিকে কোচিংয়ের পাশাপাশি শিক্ষকদের লেখা বই কিনতেও জোর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আইসিটি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ সিটি সরকারি কলেজের জামাল স্যার। তিনি কোচিংয়ের পাশাপাশি নিজের লেখা বই কিনতে শিক্ষার্থীদের জোর করেন বলে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন।

কলেজের যে শিক্ষক ক্লাস নেন সেই একই শিক্ষকের কাছে কেন কোচিং করতে হবে- প্রশ্ন করা হয় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে। উত্তরে তারা যা বললেন, তা রীতিমতো ভয়ঙ্কর!

বিভিন্ন স্যারের কাছে কোচিং করা ওই শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজের লেকচারে তারা পড়া বুঝতে পারেন না। তাই কলেজের স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়েন।

প্রাইভেটে ওই শিক্ষক কীভাবে বিষয়গুলো বুঝাতে পারেন জিজ্ঞেস করা হলে তারা বলেন, প্রাইভেটে অনেক যত্ন নিয়ে শিক্ষকরা পড়ান। তাই পড়া বুঝতে তাদের সমস্যা হয় না।

এদিকে বেশ কয়েকজন সচেতন অভিভাবক প্রতিবেদককে অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীরা এখন আর শেখার জন্য বা লেখাপড়ার জন্য স্কুল-কলেজে যায় না। যায় হাজিরা দেওয়ার জন্য। পড়ার জন্য, শেখার জন্য বা পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য তাদের ভরসা কোচিং সেন্টার। শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে ঠিকভাবে পাঠদান না করায় শিক্ষার্থীরা বাধ্য হচ্ছে প্রাইভেট পড়তে কিংবা কোচিং সেন্টারে যেতে।

মিনহাজ রহমান নামে নগরের দিদার মার্কেট এলাকার এক স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীর অভিভাবক অভিযোগ করেন, যারা শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়ে তাদের অনেক বেশি নম্বর দেন শিক্ষকরা। আর যারা ওই স্যারদের কাছে পড়ে না তাদের কম নম্বর দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. মাহবুব হাসান জয়নিউজকে বলেন, স্কুল-কলেজে শিক্ষকরা ঠিকমতো পাঠদান করছেন কি-না তা তদারকি করতে হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের। যথাযথ তদারকি না হওয়ায় নগরের অলি-গলিতে গড়ে উঠছে কোচিং সেন্টার।

তিনি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অভিভাবদের উচিত সন্তানদের কোচিং সেন্টারে পড়ানো বাদ দিয়ে বোর্ডের বইয়ের উপর জোর দেওয়া।

নগরের কোচিং সেন্টারের কোনো তালিকা আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি ‘নেই’ বলে উল্লেখ করেন।

জয়নিউজ

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...