সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড়ে চবি কর্তৃপক্ষ

0

অস্পষ্ট ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ও আবেদনের অব্যবস্থাপনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কর্তৃপক্ষ।

চবির ভর্তি পরীক্ষায় একবার আবেদনের যোগ্যতা থাকলে আর কখনই আবেদনের সুযোগ নেই। অথচ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টির স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় অনেকেই আবেদন করেছেন। আর সেটি বাতিল না করে আবেদন গ্রহণ করেছে চবি কর্তৃপক্ষ।

তবে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার পর ওই শিক্ষার্থীরা জানতে পেরেছেন তারা ভর্তি হতে পারবেন না! এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নানা বিড়ম্বনায় পড়েছেন তারা। জয়নিউজে শুক্রবার (১ নভেম্বর) এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতবছরের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি থেকে এ বছরের বিজ্ঞপ্তিতে সামান্য পার্থক্য থাকায় না বুঝেই আবেদন করেছে অনেক শিক্ষার্থী। যদিও সিদ্ধান্তে ছিল বড় ধরনের পরিবর্তন। তবে এটি ‘স্পষ্ট’ ছিল না বলে দাবি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

এ সংক্রান্ত একটি ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে স্বপ্না জাহান নামে চবির এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘সিস্টেমের ত্রুটির কারণে প্রশাসন তাদের আবেদনের সুযোগ দিয়েছে। বুঝলাম, সিস্টেমকে ত্রুটিমুক্ত করার ক্ষমতা তাদের ছিল না সেই সময়ে। তারা কি এতবড় একটা গুরুত্বপূর্ণ খবর সংবাদমাধ্যমকে জানাতে পারেনি? ফেইসবুকে চবির এতগুলো পেইজ। নিউজটা ভাইরাল হওয়া কি ৫ মিনিটের ব্যাপার? আমার ছোট বোনটাকে দেখলে মনে হচ্ছে সে বাঁচবেই না। সরাসরি বলছে, আপু আমি আম্মুকে রান্নাবান্নার কাজে সাহায্য করতে পারব, পড়াশোনা আর করব না। আমার কাছে কোনো উত্তর নাই। কী বলব, এবার অযোগ্য আগে জানলে অন্যগুলোর জন্য প্রস্তুতি নিত। আজকে নোয়াখালীতে পরীক্ষা দিতে দিইনি। কারণ আমি জানতাম সে আমার সাথে চবিতে পড়বে।’

এম সোহেল নামে এক ছাত্র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার নামে একটি গ্রুপে লিখেছেন, ‘সার্কুলারের বিষয়টি অনেকে সহজে বুঝতে পারেনি। কিন্তু গতবারের যোগ্য থাকুক বা না থাকুক এবার আবেদনও করল, পরীক্ষাও দিল, মেরিট লিস্টেও আসল এখন যারা প্রথম মেরিট লিস্টে আছে এবং মাস্ট সাবজেক্ট পাবে তাদের ব্যাপারে করণীয় কি? চবি কর্তৃপক্ষ তো চাইলে তাদের সিস্টেমের মাধ্যমে এটা করে দিতে পারত যে গতবার আবেদনের যোগ্যতা থাকলে এবার আবেদন করতে পারবে না। কিন্তু তারা সেটা না করে বলছে তারা এটা করার পর্যাপ্ত সময় পায়নি। তারা সময় পায়নি এটা তাদের ভুল। তাদের জন্য কেন হাজারো শিক্ষার্থীর এক বছরের কষ্ট বিফলে যাবে?’

একই গ্রুপে মো. জাহিদ হোসাইন নামের এক ছাত্র লিখেছেন, অনেক স্টুডেন্ট আছে শুধু চবিকে টার্গেট করেই ইমপ্রুভ (মানোন্নয়ন) পরীক্ষা দিয়েছে! এডমিশনে অনেকেই মেরিট লিস্টে ভালো অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের ভুলে নাকি তাঁরা ভর্তি হতে পারবে না। আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র হয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি! এবছর সকলকে অবশ্যই ভর্তির সুযোগ দিতে হবে। আগামী বছর থেকে প্রয়োজনে এই নিয়ম কার্যকর হোক।’

তারেক মাহমুদ সুজন নামে একজন লিখেছেন, একটা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কাছে ফরম বিক্রি করল। ভর্তি পরীক্ষা নিলো। তারা পরীক্ষা দিয়ে মেরিট পজিশনেও আসল। দুই দিন পর ভর্তি হয়ে এই সবুজ ক্যাম্পাস নিজের করে নিবে এমন ভাবনা তাদের। কিন্তু এখন দেখছে তারা আসলে ফরম তোলারও যোগ্য ছিল না। তারা যদি নাই যোগ্য হবে তাহলে তাদেকে এত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেরিট পজিশন পর্যন্ত আসতে দেওয়া হলো কেন? এটা কার ব্যর্থতা? একটা বিশ্ববিদ্যালয় এত বড় ভুল কিভাবে করতে পারে?

জোবায়ের নামে এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, আমার নিজের দুইটা ভাই প্রশাসনের এই ভুলের শিকার। প্রশাসন কি এদের ক্যারিয়ারের দায় নিবে? দুই বছর এত কষ্ট করেছে নিজের চোখের সামনেই দেখা। এগুলো কি প্রশাসনের ভুলের কারণে বৃথা যাবে?

উল্লেখ্য, ডিন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চবিতে গত বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনের যোগ্যতা থাকলেই এ বছর আবেদনের সুযোগ ছিল না। কিন্তু এ ধরণের আবেদনকারীদের বাদ দেওয়ার কোনো নির্দেশনা আইসিটি সেলকে দেয়নি ডিন কমিটি। ফলে আবেদনকারীদের বাদ দিতে পারেনি আইসিটি সেল।

জয়নিউজ/নবাব

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...