হলে সন্তানরা, অগ্নিরোদে মায়েরা

0

মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বেলা ১২টা। সূর্য থেকে রোদ নয়, যেন ঝরছে আগুন। অগ্নিরোদ থেকে বাঁচতে জামালখান মোড়ের সব পথচারীদের মধ্যেই দেখা গেল গন্তব্যে পৌঁছার তাড়া।

ঠিক সেই ‍মুহূর্তে ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে দেখা গেল একদল নারীর জটলা। আরেকটু সহজ করে বললে, মায়েদের জটলা। মজার ব্যাপার হলো, এই তপ্ত রোদেও তাদের বাড়ি ফেরার তাড়া নেই!

কয়েকজনকে দেখা গেল ফুটপাতের ডিভাইডারে গাছের ছায়ায় বসে থাকতে। যাদের সেই সুযোগ হয়নি তারা তপ্ত রোদে ঠাঁই দাঁড়িয়ে।

না, কোনো সভা-সমাবেশে যোগ দিতে আসেননি এ মায়েরা। আসেননি কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিতেও।

তবে কেন অগ্নিরোদ মাথায় নিয়ে এই মায়েরা দাঁড়িয়ে?

কারণটা শোনা যাক আগুনঝরা রোদে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা নাসরিন ইয়াসমিনের কণ্ঠে- “আমার মেয়ে কাপাসগোলা সিটি করপোরেশন স্কুলে পড়ে। জেএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ের সেন্টার পড়েছে খাস্তগীর স্কুলে। মেয়ে পরীক্ষা দিতে হলে গেছে। তার জন্যই অপেক্ষায় আছি।”

কাপাসগোলা থেকে খাস্তগীর স্কুলের দূরত্বটা খুব বেশি নয়। তপ্ত রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে না থেকে বাসা থেকেও ঘুরে আসতে পারতেন- জিজ্ঞেস করা হয়েছিল নাসরিনকে।

জবাবে তিনি বললেন, “যতক্ষণ পরীক্ষা শেষ না হবে, ততক্ষণ বাসায় গিয়ে স্থির থাকতে পারব না। তাই বাসায় গিয়ে অস্থির থাকার চেয়ে এই রোদে দাঁড়িয়ে থাকাও অনেক ভালো।”

শুধু খাস্তগীর স্কুল নয় রোদের তীব্রতা উপেক্ষা করে অভিভাবকদের জটলা দেখা গেছে নগরের কলেজিয়েট স্কুল, সরকারি মুসলিম হাই স্কুল, বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, কাজেম আলী উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, হাজী মুহাম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সিটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনেও।

কাজেম আলী স্কুলের পাশে চায়ের দোকানে বসেছিলেন ফাল্গুনী পাল। মেয়ে প্রযুক্তা পালের অপেক্ষায় আছেন তিনি। ফাল্গুনী জয়নিউজকে বলেন, “আমার মেয়ে খাস্তগীর স্কুলে পড়ে। জেএসসি পরীক্ষার সেন্টার পড়েছে কাজেম আলী স্কুলে। আমার মেয়ের পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালো হয়েছে। তারপরও টেনশন হচ্ছে, তাই অপেক্ষা করছি।”

জয়নিউজ

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...