শিক্ষকের পিটুনিতে অজ্ঞান হলো ছাত্রী, প্রাণনাশের হুমকি

0

বান্দরবানের লামায় মাদ্রাসা শিক্ষক ও তার পরিবারের সদস্যের হাতে মাদ্রাসা ছাত্রী মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, ছাত্রীসহ তার মা একদিনের মধ্যে লামা ছেড়ে না গেলে প্রাণনাশের হুমকিও দেন ওই শিক্ষক।

আক্রান্ত ছাত্রী সুমাইয়া জাহান তুষা কক্সবাজারের চকরিয়ার মানিকপুর ইউনিয়নের সুরাজপুর গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের মেয়ে ও লামা ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার ৬ষ্ট শ্রেণির ছাত্রী।

এ ঘটনায় ছাত্রীর মা সুমী আক্তার বাদী হয়ে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির বিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক মো. তমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। শিক্ষকের এমন কর্মকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

অভিযোগে প্রকাশ, বেশ কয়েক বছর আগে সুমী আক্তারের স্বামী নুর মোহাম্মদ মারা যান। দিন মজুরের কাজ করে ছেলে-মেয়েদের ভরণ পোষন ও লেখাপড়ার খরচ চালানো তার পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তিন বছর আগে মেয়ে তুষাকে লামা ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার শিক্ষক তমিজ উদ্দিনের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজে দেন। শর্ত ছিল কাজের বিনিময়ে তুষাকে পড়ালেখা করাবেন, কোনো টাকা-পয়সা দিতে হবেনা।

তিন বছর ধরে শিক্ষকের বাসায় কাজ করার পাশাপাশি পড়ালেখা চালিয়ে আসছিল তুষা। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) সকালে হঠাৎ করে শিক্ষক তমিজ উদ্দিন ছাত্রীর মা সুমী আক্তারকে ফোন করে বলেন, তুষাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তাকে আর রাখবেন না তিনি। কোনো কথা না বলে তুষাকে তমিজ উদ্দিনের বাসা থেকে নিয়ে যান। পরে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. জাফর উল্লাহর বাড়িতে কাজের বিনিময়ে অন্তত বার্ষিক পরীক্ষাটি দেওয়ার ব্যবস্থা করেন মা সুমী আক্তার।

কিন্তু আত্মীয়তার সুযোগে তমিজ উদ্দিন, তার স্ত্রী ও মেয়ে একইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে অধ্যক্ষের বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে তুষাকে দেখামাত্র কোনোধরণের কথা ছাড়াই ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে তমিজ উদ্দিনের স্ত্রী ও মেয়ে মিলে তুষাকে বেদম মারধর শুরু করেন। এরপর শিক্ষক তমিজ উদ্দিনও মারধর করলে তুষা অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে অধ্যক্ষ জাফর উল্লাহর স্ত্রী ও মেয়েরা তুষাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা করায়।

এদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন মাদ্রাসা শিক্ষক হয়ে এভাবে ছাত্রীকে মারধর করা খুবই অমানবিক। ওই শিক্ষকের কাছে কোনো শিক্ষার্থীই নিরাপদ নয়।

তবে শিক্ষক মো. তমিজ উদ্দিন জয়নিউজকে বলেন, এটি আমার ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ মাত্র। শুধুমাত্র আমি তুষাকে তার আচরণগত কারণে দু’একটি চড় তাপ্পড় মেরেছি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. জাফর উল্ল্যাহ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর-এ-জান্নাত রুমি জয়নিউজকে বলেন, শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগ পেয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।

জয়নিউজ/আরমান/বিআর
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...