বিএসটিআই ভবনের নির্মাণকাজেও বাধা জি কে শামীম

0

দুই বছর আগে শুরু হয়েছিল মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) চট্টগ্রাম আঞ্চলিক ভবনের নির্মাণকাজ। চুক্তি অনুযায়ী কাজ হলে এই সময়ে ১০তলা ভবনটি দাঁড়িয়ে যাওয়ার কথা। তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।

ভবন নিয়ে বিএসটিআই নানা অসুবিধায় থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন সংস্থা গণপূর্ত বিভাগ বলছে, দ্রুত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু না করলে চুক্তি বাতিল করে নতুনভাবে কাজ শুরু করা হবে।

যে ভবনের নির্মাণকাজ নিয়ে এত অভিযোগ, সেই কাজের ঠিকাদার দেশের ক্যাসিনোসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা জি কে শামীমের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান জি কে বিল্ডার্স।

অভিযোগ রয়েছে, জি কে শামীম নির্দিষ্ট কমিশন নিয়ে কাজ পাইয়ে দেয় দি বিল্ডার্সকে। যদিও গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে উভয় কোম্পানি যৌথভাবে প্রকল্প নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর করে।

প্রকল্প বাস্তবায়ধীন সংস্থা গণপূর্ত বিভাগের তথ্যমতে, ১ লাখ ৭১ হাজার ৫০০ বর্গফুট জায়গায় বিএসটিআইর ১০তলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালের ২৬ অক্টোবর। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৩ হাজার ৫০৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

গণপূর্ত ও স্থাপত্য অধিদপ্তর যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করেছে। ভবনটি নির্মাণের জন্য গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে চুক্তি করে দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স এবং জি কে বিএল।

বিএসটিআই চট্টগ্রাম অফিসের উপ-পরিচালক মো. নুরুল আমিন জয়নিউজকে বলেন, আমাদের পুরনো ভবনটি যখন ভাঙা হচ্ছিল তখন আশায় বুক বেধেছিলাম। ভেবেছিলাম দুই বছর পর পরিপূর্ণ অফিসঘর পাব, যেখান থেকে চট্টগ্রামবাসীকে আমরা পণ্যের গুণগত মানের সেরা সেবাটি দিতে পারব। এখন সেই আশায় ছেদ পড়েছে। বর্তমানে আমরা অবর্ণনীয় কষ্টে দিনযাপন করছি।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের অনেক দামি ল্যাবের যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিদেশ থেকে প্রায় ৭ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি দেশে এসে পৌঁছালেও রাখার কোনো জায়গা পাচ্ছি না। এতে ল্যাবের যন্ত্রপাতির গুণগত মান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এম আসিফ ইমরোজ জয়নিউজকে বলেন, নানা কারণে প্রকল্পটির কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছিল, যার কারণে বিএসটিআইয়ের পুরনো ভবনটি ভেঙে ঠিকাদারকে জায়গা বুঝিয়ে দিতে অনেক সময় লেগেছিল।

কিছু কাজ এগিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাইলিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে, ফাউন্ডেশনের কাজ চলমান ছিল। আর্থিক সংকটের কারণে গত একমাস কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে ঠিকাদার আমাদেরকে জানিয়েছেন। তবে দ্রুত কাজ শুরু করতে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী একমাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু না করলে বর্তমান ঠিকাদারদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করা হবে।

প্রকল্পের সবশেষ তথ্য জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চট্টগ্রাম প্রতিনিধি শেখ ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তবে প্রকল্প পরিচালক আবু তারেক জয়নিউজকে বলেন, বিএসটিআই চট্টগ্রাম আঞ্চলিক অফিসের নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত বিভাগ। শুনেছি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একডজনের উপর চিঠি দেওয়া হলেও তারা কোনো জবাব দেননি।

তিনি বলেন, জি কে শামীম প্রভাব বিস্তার করে অনেকটা লোয়েস্ট টেন্ডারে প্রকল্পটির কাজ নিয়েছিলেন। তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে তার সমস্ত ব্যাংক হিসাবও বন্ধ। তাই তারা প্রকল্পের কাজ বন্ধ রেখেছেন। গণপূর্ত বিভাগ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। হয়ত রিটেন্ডারের দিকে যাচ্ছে তারা।

ইতোমধ্যে প্রকল্পটিতে সংশোধনী আনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংশোধনী অনুযায়ী ঠিকাদাররা আগামী ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ পাবেন। এরপরও প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই ব্যয়ও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জয়নিউজ/এসআই
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...