স্মরণসভায় দিয়াজের খুনিদের শাস্তি দাবি

0

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সহ-সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তারা এ দাবি জানান।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার মিলনায়তনে চবি ছাত্রলীগের ব্যানারে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। দিয়াজ চবি ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

স্মরণসভায় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক আমির সোহেল বলেন, চবি একসময় জামাত শিবিরের আখড়া ছিল। তাদের সরিয়ে ছাত্রলীগ অবস্থান নিতে সক্ষম হয়। এতে নেতৃত্ব দেন দিয়াজ ইরফান চৌধুরী। মেধাবী এই ছাত্রনেতার এমন ন্যাক্কারজনক মৃত্যুর ধিক্কার জানাচ্ছি আমরা। এর রহস্য উন্মোচন করে দোষীদের শাস্তি দিতে হবে।

তিনি বলেন, ব্যক্তিকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শ হত্যা করা যায় না। দিয়াজ ইরফান চৌধুরীও আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন।

সাবেক পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক আবু বকর তোহা বলেন, এটা একটা পরিকল্পিত হত্যা। যারা এটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে সক্রিয় তারাই আসলে হত্যাকাণ্ডের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। আমরা চাই হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে, আসামীরা চিহ্নিত হবে, তাদের শাস্তি হবে।

শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মাহবুবুর রহমান বিজয়ের সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক আবু সাঈদ মারজান৷

এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো. শামীম, সাবেক উপ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল সুমন, সাবেক উপ ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক অপূর্ব নন্দী টিটু, সাবেক সহ সম্পাদক আবু হেনা মাসুম কামাল, আবির, মাসুদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ২০ নভেম্বর নিজ বাসায় ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। শুরু থেকেই এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করলেও লাশ উদ্ধারের তিনদিন পর ২৩ নভেম্বর চট্টগ্রাম মেডিকেলের চিকিৎসকদের দেওয়া প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে উল্লেখ করা হয়। তবে এ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে ২৪ নভেম্বর দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী বাদী হয়ে আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন  ও ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি আলমগীর টিপুসহ ছাত্রলীগের ১০ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে দিয়াজের দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা। ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই দেওয়া ওই প্রতিবেদনে চিকিৎসকরা দিয়াজের শরীরে হত্যার আলামত পাওয়ার কথা জানান। তবে দীর্ঘ তিনবছর কেটে গেলেও আদালতে তদন্ত  প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি  মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা।

জয়নিউজ/নবাব/পিডি
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...