১৫ বছরেও শেষ হয়নি ১৪ জেলে হত্যার বিচার

0

দীর্ঘ ১৫ বছরেও শেষ হয়নি কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি মাছধরা ইঞ্জিন নৌকার ১৪ জেলে হত্যার বিচার কাজ। জলদস্যুরা অত্যন্ত পৈশাচিক কায়দায় সেদিন নিরীহ ১৪ জন জেলেকে হত্যা করেছিল। এদিকে সাগরে একের পর এক দস্যুতার ঘটনাও ঘটে চলেছে প্রতিনিয়ত।

এরমধ্যে শনিবার ( ২৩ নভেম্বর)পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করছেন শতাধিক জলদস্যু। মহেশখালী দ্বীপের কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জলদস্যুর দল আত্মসমর্পণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. জাবেদ পাটোয়ারি।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের সুন্দরীপাড়ার বাসিন্দা শাহাদত আলীর মালিকানাধীন ‘এফবি কাউছারা’ নামের ইঞ্জিনচালিত মাছধরার নৌকাটিতে ১৫ জন জেলে ছিল। নৌকার জেলেরা গভীর সাগরে মাছ ধরে তীরে ফিরে আসার সময় সোনাদিয়া দ্বীপের কাছে জলদস্যুদের কবলে পড়ে।

আনুমানিক ২০/২২ জনের জলদস্যুর দল নৌকাটিতে উঠে জেলেদের এলোপাথাড়ি মারধর করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে দস্যুরা অস্ত্রের মুখে একের পর এক ১৪ জন জেলেকে জোরপূর্বক নৌকার বরফ রাখার হিমাগারে (কোল্ডস্টোরেজ) ঢুকিয়ে ফেলে। হতভাগা ১৪ জেলে হিমাগারের ভিতর শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যুর শিকার হন। এসময় নৌকাটির একমাত্র জেলে নুরুল হক ইঞ্জিনের পেছনে লুকিয়ে থেকে প্রাণে রক্ষা পান। নিহতরা সবাই কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলারই বাসিন্দা।

পুলিশ মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিল করে ২০০৩ সালের ৩ মার্চ তারিখে। পুলিশের অভিযোগপত্রে আসামির সংখ্যাও ১৪ জন। তাদের মধ্যে জামিনে আছেন ১০ জন এবং পলাতক রয়েছেন আরও চারজন।

পলাতক আসামিদের মধ্যে নাজমুল আলম নামের একজন রোহিঙ্গা জঙ্গি গ্রুপের সামরিক কমান্ডারও রয়েছেন। সাগরে জলদস্যুদের হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ দিয়ে উক্ত রোহিঙ্গা নেতা ওতপ্রোতভাবে একাজে জড়িত বলে পুলিশের দেওয়া অভিযোগনামায় উল্লেখ রয়েছে।

চাঞ্চল্যকর মামলাটি বর্তমানে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন জয়নিউজকে বলেন-গেল বছরের অক্টোবরে মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার ৪৩ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছিলেন। এবারও শ’খানেক দস্যু আত্মসমর্পণ করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন মহেশখালী দ্বীপের বেশ ক’জন অস্ত্র কারিগরও।

তিনি আরও বলেন, দস্যুতার মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হচ্ছে। ২০১০ সালের পরবর্তী সময়েরও ১৩টি জলদস্যুতার মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আত্মসমর্পণ যারা করেন তাদের প্রত্যেককে পুনর্বাসন করা হবে।

জয়নিউজ/শামীম/বিআর
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...